- দে । শ
- মে ১৩, ২০২৬
দলীয় কার্যলয়ে বস্তাবন্দি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আবেদন । তদন্তের নির্দেশ কাটোয়ার মহকুমাশাসকের
তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হল রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের তাড়া তাড়া বস্তাবন্দি আবেদনপত্র। আবেদনপত্রগুলির সঙ্গে গাঁথা রয়েছে আয়ের শংসাপত্র, ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডের জেরক্স, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য-সহ দরকারি নথি। কিছু আবেদনপত্র আবার পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। অভিযোগ, ৫ বছর ধরে আবেদনগুলি বস্তাবন্দি করে রাখা হয়েছে। মঙ্গলকোটের মাজিগ্রামের ঘটনা। খবর পেয়েই বিডিওকে তদন্তের নির্দেশ দিলেন কাটোয়ার মহকুমাশাসক অনির্বাণ বোস। বিষয়টি নিয়ে ‘মানুষের সঙ্গে প্রতারণা’র অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিজেপি। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি এলাকার তৃণমূল নেতারা লোকদেখানো আবেদনপত্র জমা নিতেন? মুখ খুলছেন না এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব।
মাজিগ্রাম বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া মল্লিক পুকুরের পাড়ে ৫৪ ফুট লম্বা ১৮ ফুট চওড়া ওই জায়গাটি কিনে দোকানঘর তৈরি করেন অনুপ চৌধুরি নামে এক ব্যক্তি। জুতো, পোশাক বিক্রি করতেন অনুপ। তাঁর অভিযোগ, ‘২০১৩ সালে তৃণমূল দোকানঘরটি দখল করে পার্টি অফিস তৈরি করে। আমি হাতে-পায়ে ধরেও ঘরটি ফেরত পাইনি।’ এবারের ভোটের ফল বেরনোর পর ওই ঘরে তালা পড়ে। সোমবার এলাকার বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যস্থতায় অনুপকে ঘরটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘরটি সাফসুতরো করতে গিয়ে দেখা যায় ৫টি বস্তা ভর্তি প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা, বাংলা আবাস যোজনার মত বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আবেদনপত্র। সমস্ত আবেদনপত্রগুলি ২০২০-২১ সাল থেকে নেওয়া হয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী খোলার জন্য আবেদন করেছিলেন কোঁয়ারপুরের উত্তম রায়-সহ ৮ বেকার। বাড়ির জন্য আবেদন করেন কাঁকোড়ার বাসিন্দা মানোরা বিবি। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধে পেতে আবেদন জমা করা বিপত্তারণ পাল, মহাদেব ঘোষদের অভিযোগ, ‘যা বুঝছি তৃণমূল নেতারা সরকারের কাছে আবেদনগুলি জমাই দেননি।’ এলাকার বিজেপি নেতা সৌমেন মুখার্জির অভিযোগ, ‘টাকার বিনিময়ে আবেদনগুলো নিয়ে সরকারি অফিসে জমা না করে সাধারণ মানুষকে ভাঁওতা দিয়েছে তৃণমূল। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
❤ Support Us





