Advertisement
  • ক | বি | তা
  • জানুয়ারি ২৩, ২০২২

গুচ্ছ কবিতা -২

শান্তনু গঙ্গারিডি
গুচ্ছ কবিতা -২

চিত্র: তনুপ নাথ

জানলাটা খুলে দাও

হৃদয় অলিন্দে আধো আধো প্রভাতি বুলেটিন…
বাঁধন শিথিল করে তোমাকে ছুঁয়ে দেখতে চাই ।
তুমিই আমার দেবতুল্য মৃগশিরা নক্ষত্র ।
চাঁদ ডুবে গেছে ।
পাপহরণ সেন্টারের জানালাটা খুলে দাও ।
পশ্চিমি ঝঞ্ঝার সংমিশ্রণে
দীর্ঘমেয়াদি ভেরিয়েন্ট ।
প্রেমরস জারিত অসাড় অ্যান্টিজেন ।
যৌবনা হারানো লকডাউনের
মোহময়ী কোমর্বিডিটি ।
প্রিয়মুখ মানুষগুলোর বিয়োগান্তক সাগর স্নান ।
নিষ্পাপ ভ্যাকসিনেশনে নিউ-নর্মাল মানবাধিকার ।
ভেষজ ছায়াসঙ্গীর কামিনী কাঞ্চন নৈশভোজ ।
অধরা ধমনীতে পৌঁছে দেখি চির সবুজ মানপত্র বাতিল হয়ে গেছে ।

 

 

মরসুমি গল্পটাই না হয় বলব তোমাকে

মরসুমি গল্পটাই না হয় বলব তোমাকে ।
নশ্বর ভালোবাসা দিয়ে শুরু হবে আমাদের
রাত্রি কালীন গল্পগুচ্ছ ।
চিরহরিৎ বৃক্ষের মতো আছড়ে পড়া
অবনত শরীরি ঢেউ ।
মসৃণ নাভিমূলে মেদহীন কিওস্ক সাজিয়ে
মৃদুস্বরে কিছু বলবে তুমি ।
ভাবাবেগের প্ররোচনায় অজান্তে ধরা দেব ।
হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়াটাই বিচ্ছিন্নবাসের যথালাভ ।
অকারণ সন্মোহনে কেঁপে কেঁপে বিপত্তারণ জ্বর আসবে ।
ইচ্ছামৃত্যুর শরীরি উত্তাপে জেগে উঠবে প্রিয় বাহন ।
ঈশ্বরের কথাগুলো খোদাই হবে লতাগুল্ম বিছানায় ।
শিফন শাড়িতে লুকিয়ে রাখা কার্তুজের
ভাগ্যোদয় হলে বাজিমাত হবে ।
নির্বিকার ভাঙচুর অবরোধে খুঁজে পাই
সুখপাঠ্য মাধুর্যের প্রশ্রয় ।
সুচারু পিয়ানোর হরফবিন্যাসে সাজিয়ে রাখা
গল্পগুলো বার বার ভালো বাসব ।
নিরুদ্দিষ্ট ধর্মপুত্র সেজে আজীবন তোমার
শুশ্রূষা নেব ।

 

 

আমিও পরহিতৈষী ধীবর হব

বিস্ফোরক জোয়ারে আচমকা ভেসে গেল
যাবতীয় ওভারলোডিং ।
মুহ্যমান ঝরনার জলে পা ডুবিয়ে রেখেছিলাম ।
তুমি আসবে ভেবে বুস্টার ইশারা সম্বল
করে বসেছিলাম ।
চলাফেরায় নজরদারির ভান নেই…
ভেঙে ভেঙে সিগন্যাল আসছিল ।
জখম পরিকাঠামো নিয়ে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন ।
দস্যুমোহন সুলভ ধকল নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে
সেই অশ্বত্থ গাছ ।
মুখোমুখি হয়েও ফুটপাথের মুন্সিয়ানায়
কেন যে থমকে গেলাম ।
এত শিরঃপীড়া নিয়ে পাশাপাশি হেঁটে
যাওয়া মুশকিল ।
ঝিরঝির বৃষ্টি শেষে পাখিদের কণ্ঠনালী
অন্য মাত্রায় জানান দিচ্ছিল ।
এই বিষয় নিয়ে আর কিছু বলব না ।
সুকুমার বৃত্তির টানাপোড়েন সামলে নিয়ে
আমিও পরহিতৈষী ধীবর হব ।

 

 

এই সেই প্রাচীন থিনএরারুট

এত বেশি মুগ্ধ হলে দুঃখরা একজোট হয়ে দলভারী করে ।
ভুলে যেতে বলেছিলে তবু দৈবাৎ দেখা হয়ে গেল ।
অহমিকা সরিয়ে রেখে কাছাকাছি গেলাম ।
বুকচিতিয়ে বলতে পারলে ভারমুক্ত হওয়া যেতো ।
আরণ্যক উদ্দীপনায় শেষ কথাটি বলতে গিয়ে বলা হল না ।
এই সেই প্রাচীন থিনএরারুট যার পটভূমিতে ডুব দিয়েছিলে ।
সুদামার বুকে নাভিমূলে মেধাসত্ত্ব দেয়াল-লিখন লিখেছিলে ।
এত বেশি মুগ্ধ হলে সামুদ্রিক মৃত্যুহার দুঃখ নিয়ে আসে ।
সমস্ত পরিক্রমা শেষে হলেও কবিতার পঙক্তি আসে না ।

 

♦–♦♦–♦♦–♦


❤ Support Us
error: Content is protected !!