- প্রচ্ছদ রচনা মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- নভেম্বর ১৫, ২০২৩
সুপার সেভেন’ সামি, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মধুর প্রতিশোধ নিয়ে ফাইনালে ভারত
বিশ্বকাপে লিগ পর্বে একমাত্র নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধেই লড়াই করে জিততে হয়েছিল ভারতকে। সেমিফাইনালেও কিন্তু ছবিটা বদলায়নি। ভারতের ৩৯৭ রানের বিশাল রানের সামনে কুঁকড়ে থাকেনি কিউয়িরা। দুর্দান্ত লড়াই করলেন কেন উইলিয়ামসনরা। তবুও শেষরক্ষা হল না। নিউজিল্যান্ডকে ৭০ রানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত। একইসঙ্গে ২০১৯ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে হারের মধুর প্রতিশোধ নিল টিম ইন্ডিয়া। তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জয় থেকে আর মাত্র একধাপ দূরে ভারত। দুরন্ত বোলিং করে ৫৭ রানে ৭ উইকেট তুলে নেন মহম্মদ সামি। একইসঙ্গে পৌঁছে গেলেন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর তালিকার শীর্ষে। ৬ ম্যাচে সামির ঝুলিতে ২৩ উইকেট।
মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে টস বরাবরই ফ্যাক্টর। দিনের বেলায় রান করা খুবই সহজ। বল দারুণভাবে ব্যাটে আসে। টস জিতে এদিন সেই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন রোহিত শর্মা। আগের ম্যাচগুলির মতো এদিনও টপ গিয়ারে শুরু করেছিলেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক। যেভাবে ব্যাট করছিলেন বড় রান নিশ্চিত ছিল। অত্যাধিক আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে টিম সাউদির বলে কেন উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন রোহিত। ২৯ বলে তিনি করেন ৪৭ রান। মারেন ৪টি করে ৪ ও ৬। রোহিত যখন আউট হন, ভারতের রান ৮.২ ওভারে ৭১।
রোহিত ফিরে যাওয়ার পরও রানের গতি কমেনি ভারতের। দলকে দারুণভাবে এগিয়ে নিয়ে যান বিরাট কোহলি ও শুভমান গিল। আগের তিনটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিলেন কোহলি। এদিন সব সুদে–আসলে মিটিয়ে নিলেন। দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে ভেঙে দিলেন শচীন তেন্ডুলকারের ৪৯ সেঞ্চুরির রেকর্ড। এদিন কোহলির সেঞ্চুরি আসে ১০৬ বলে। কোহলির সেঞ্চুরির আগেই অবশ্য হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন শুভমান গিল। ৭৯ রানের মাথায় তিনি অবসৃত হন। ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলে সূর্যকুমার যাদব আউট হওয়ার পর আবার ব্যাট করতে নামেন শুভমান। শেষ পর্যন্ত ৬৬ বলে ৮০ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। চোট না পেলে হয়তো সেঞ্চুরিও পেয়ে যেতেন।
শুভমান চোট পেয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর কোহলির সঙ্গে জুটি বেঁধে ভারতকে বড় রানের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান শ্রেয়স আয়ার। কোহলির থেকেও তিনি বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন। চলতি বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি শ্রেয়সের। তাঁর সেঞ্চুরির আগেই আউট হন কোহলি। ১১৩ বলে তিনি করেন ১১৭ রান। মারেন ৯টি ৪ ও ২টি ৬। কোহলি আউট হওয়ার পর সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শ্রেয়স আয়ার। শেষ পর্যন্ত ৭০ বলে ১০৫ রান করে আউট হন তিনি। মারেন ৪টি ৪ ও ৮টি ৬। শেষদিকে ঝোড়ো ইনিংস খেলে ২০ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন লোকেশ রাহুল। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৯৭ রানের বিশাল স্কোর খাড়া করে ভারত।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে এত বড় রানের চাপ নেওয়া যে কোনও দলের পক্ষেই অসম্ভব। শুরুতে ২ উইকেট হারিয়েও নিউজিল্যান্ড কিন্তু দুর্দান্ত লড়াই করল। ৩৯৮ রান তাড়া করতে গেলে শুরুটা ভাল হওয়া জরুরি। দরকার ছিল বড় পার্টনারশিপের। কিন্তু সেটাই করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেই ডেভন কনওয়েকে (১৩) তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে প্রথম ধাক্কা দেন মহম্মদ সামি। নিউজিল্যান্ডের রান তখন ৩০। এক ওভার পরেই রাচিন রবীন্দ্রকেও (১৩) তুলে নেন।
৩৯ রানে ২ উইকেট হারানোর পর মনে হয়েছিল ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ও ড্যারিল মিচেল। দুর্দান্ত ব্যাটিং করে নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন। একটা সময় মনে হচ্ছিল, এই জুটিই হয়তো নিউজিল্যান্ডকে জয়ের দিকে এগিয়ে দেবে। সেই সময়ই আঘাত হানেন মহম্মদ সামি। তাঁর বিধ্বংসী বোলিংই ভারতকে ম্যাচে ফেরায়। ৩৩ তম ওভারে সামির প্রথম বলে ১ রান নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ড্যারিল মিচেল। পরের বলেই ডিপ স্কোয়ার লেগ বাউন্ডারির ধারে সূর্যকুমার যাদবের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন উইলিয়ামসন। ৭৩ বলে ৬৯ রান করে আউট হন তিনি। এটাই শততম ম্যাচে বিশ্বকাপে ৫০ তম উইকেট সামির। একবল পরেই টম লাথামকে (০) তুলে নেন।
পরপর ২ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় নিউজিল্যান্ড। মিচেলের সঙ্গে জুটি বেঁধে গ্লেন ফিলিপস লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন। ফিলিপসকে (৩৩ বলে ৪১) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন বুমরা। এরপর মিচেলকে ফিরিয়ে নিউজিল্যান্ডের যাবতীয় লড়াই শেষ করে দেন সামি। ১১৯ বলে ১৩৪ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন মিচেল। মারেন ৯টি ৪ ও ৭টি ৬। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৪ ওভারে ৩২৭ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। দুরন্ত বোলিং করে ৫৭ রানে ৭ উইকেট তুলে নেন সামি। ভারতের প্রথম বোলার হিসেবে বিশ্বকাপে একটা ম্যাচে ৭ উইকেট তুলে নিলেন। এর আগে ২৩ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন আশিস নেহরা। বিশ্বকাপে সেটাই এতদিন ছিল ভারতের কোনও বোলারের সেরা বোলিং। ১টি করে উইকেট নেন বুমরা, সিরাজ ও কুলদীপ।
❤ Support Us







