- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ২৩, ২০২৫
বিমান বসু : এসআইআর ঘিরে বাংলায় ধর্মীয় বিভাজন হলে, পথে নেমে প্রতিবাদ করবে বামেরা
রাজ্য রাজনীতির আলোচনায় এখন শীর্ষ কেন্দ্রে ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) । শাসকদল এবং রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের এপ্রসঙ্গে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের আবহে, দুই ফুল শিবিরকেই বিঁধলেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু ।
বুধবার ২৪ ঘন্টা সংবাদ চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক মেরুকরণের চেষ্টায়, বিজেপি-তৃণমূল নিজেদের সুবিধা মতো প্রচার করে চলেছে । ভোটার রিভিশন রাজ্যে নতুন নয়, বরাবরই হয়েছে । কিন্তু বিজেপি- তৃণমূল দুই তরফেই বলা হচ্ছে, আমরা একটা নামও কাটতে দেব না । তাহলে কী স্থানান্তরিত মানুষ বা যাঁরা মারা গেছেন তাদের নামও থাকবে তালিকায় ? নির্বাচন কমিশনের কাজে যারা যুক্ত তাঁরা কেন নিশ্চিত করেন না, যে মৃতের সার্টিফিকেট দিতে হবে । এভাবে চললে তো নির্বাচন ঘিরেই প্রশ্ন উঠে যাবে । তারপর কি সংসদীয় নিয়মানুযায়ী রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে । এসব বটতলার পরিবেশ তৈরির জন্য, মানুষের মধ্যে বিভাজন বাড়ানোর জন্য রাজ্যে এসব হচ্ছে । আর কিচ্ছু নয় । ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর পরামর্শ, এসআইআর জনগণনা ভিত্তিক হলে ভালো হয় ।
বিহারে এসআইআর নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের বিরোধীতার বিষয়ে বিমান বসু বলেছেন, সেখানে অনেক জায়গাতেই জীবিত ব্যক্তিকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে । ধর্মের ভিত্তিতেও নাম বাদ গেছে । তার সপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ ছিল । তাই জোটের অংশ হিসেবে তার প্রতিবাদ করেছে বামাফ্রন্ট । “বাংলায় যদি এমন প্রমাণ মেলে, প্রতিবাদ করব । অনুমানের ভিত্তিতে নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে ।”
রাজ্যে এসআইআর হলে ক্ষমতাচ্যুত হবে রাজ্যের শাসক দল, বিজেপির এই দাবি প্রসঙ্গে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বলেছেন, “এসব বলে রাজনীতি হয় না । ধর্ম ধর্মের জায়গায়, রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাকা উচিত ।” শুধুমাত্র বিতর্ক উসকে দেওয়ার জন্য পদ্ম এবং ঘাসফুল দুইশিবিরই নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে । এতে সামাজিক বিভাজন বাড়ছে । এখন সরকারি টাকায় ধর্মস্থান তৈরি হচ্ছে । ”
বিমান বসু বলেছেন , দক্ষিণপন্থার উত্থান শুধুমাত্র ভারতে নয়, গোটা বিশ্বেরই রাজনৈতিক বাস্তবতা । তাঁর বিশ্লেষণ, “উদারীকরণ অর্থনীতি ও দক্ষিণপন্থী ভাবনা এখন সারা বিশ্বের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলছে । ভারতেও তার প্রভাব স্পষ্ট । নাগপুরে জন্ম নেওয়া সংগঠনটি এখন তাদের মতাদর্শ অনুযায়ী রাজনীতির গতিপথ ঠিক করছে ।” তিনি বলেছেন, এই মতাদর্শ থেকেই কংগ্রেস ভাঙিয়ে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের ছক কষা হয়েছিল । তাঁর কথায়, “তৃণমূল কোনও স্বতন্ত্র দল নয় । একটা ফুলের সঙ্গে আরেকটা ফুল যোগ করে তৈরি করা হয়েছিল । এটা দক্ষিণপন্থী রাজনীতিরই পরিকল্পিত পদক্ষেপ ।” এর পাশাপাশি বামেদের পতন সম্পর্কে তিনি বলেছেন, “৩৪ বছরের শাসনের পর ১৫ বছরে শূন্যতে এসে ঠেকেছি । এটা সত্যি ।” তবে তাঁর মতে, শূন্যতা স্থায়ী নয় — “ শূন্য মহাশূন্য থাকবে না ।” তিনি বলেন, বামেদের শক্তি খর্ব করতে প্রকৃত বাম ভাবধারাকে বিকৃত করা হয়েছিল, “মানুষের বিভ্রান্তি কাটতে সময় লেগেছে । মানুষের উপলব্ধি কখনও অল্প সময়ে হয়, কখনও সময় নেয় । কিন্তু উপলব্ধি আসবেই ।” তিনি আশাবাদী, “ভবিষ্যতে এই অবস্থা থাকবে না । মানুষ বুঝবে ভারতের ভবিষ্যৎ ভয়ঙ্কর পথে যাচ্ছে ।”
❤ Support Us







