- প্রচ্ছদ রচনা
- জানুয়ারি ২৯, ২০২৬
বৈশ্বিক চাপের মাঝেও দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা, বাড়বে জিডিপি বৃদ্ধির গতি — লোকসভায় অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ নির্মলা সীতারমণের
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা, শুল্কযুদ্ধ এবং ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন সত্ত্বেও ভারতীয় অর্থনীতির বৃদ্ধির গতি আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। এমনই ইঙ্গিত মিলল কেন্দ্র সরকারের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬-এ। বৃহস্পতিবার লোকসভায় সমীক্ষা পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে, যা চলতি অর্থবর্ষের তুলনায় বেশি। গত বছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের জন্য যেখানে ৬.৩ থেকে ৬.৮ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, এ বার তার থেকে কিছুটা বেশি আশাবাদী কেন্দ্র। সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চিত পরিবেশ সত্ত্বেও ভারতের অভ্যন্তরীণ আর্থিক গতি শক্তিশালী রয়েছে।
সমীক্ষায় বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার কারণে আমেরিকার পক্ষ থেকে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলেও তেমন একটা প্রভাব অর্থনৈতিক বৃদ্ধির উপর পড়েনি। শুল্ক আরোপের পরে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। তবে বাস্তবে সে আশঙ্কা সত্যি হয়নি বলেই দাবি কেন্দ্রের। অর্থনৈতিক সমীক্ষার মতে, কাঠামোগত সংস্কার, লক্ষ্যভিত্তিক নীতিগত পদক্ষেপ এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিলিয়েই ভারত এই পারিপার্শ্বিক ঝুঁকি সামলাতে পেরেছে। সমীক্ষার প্রথম আগাম হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার হতে পারে ৭.৪ শতাংশ। একই সঙ্গে গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭.৩ শতাংশ। এর ফলে টানা চতুর্থ বছরের মতো ভারত বিশ্বের দ্রুততম বৃদ্ধিশালী প্রধান অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. অনন্ত নাগেশ্বরন জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের জন্য সবচেয়ে ভালো পরিণতি হতে পারে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থিতাবস্থা বজায় থাকা। তবে তাঁর সতর্কবার্তা, সে স্থিতাবস্থা ক্রমশ আরও ভঙ্গুর হয়ে উঠছে। ভালো বর্ষার প্রভাবে ২০২৪–২৫ কৃষি বছরে দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ৩৫৭৭.৩ লক্ষ মেট্রিক টন। যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫৪ লক্ষ টন বেশি। চাল, গম, ভুট্টা-সহ একাধিক শস্যে উৎপাদন বৃদ্ধিই এর মূল কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে সমীক্ষায়। পাশাপাশি পরিষেবা ও উৎপাদন ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রবণতার কথা বলা হয়েছে। সরলীকৃত প্রত্যক্ষ কর কাঠামো, এফডিআই নীতি ও দেউলিয়া বিধিমালার সংস্কার অর্থনীতিকে বাড়তি গতি দিয়েছে বলে দাবি। যদিও মোদি সরকারের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ‘সতর্ক আশাবাদী’। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় একাধিক ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী বাণিজ্য সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধিকে দুর্বল করতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি আগামী অর্থবর্ষে ধাপে ধাপে বাড়লেও তা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নির্ধারিত সীমার মধ্যেই থাকবে বলে আশা কেন্দ্রের। ডলারের তুলনায় টাকার মান কিছুটা কমলেও অশোধিত তেল ও খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে বলেই দাবি নির্মলা সীতারমণের।
উল্লেখ্য, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করবেন নির্মলা সীতারমণ। একাধিক রাজ্যে ভোটের আবহে এবারের বাজেটে অবকাঠামো, কর্মসংস্থান, উৎপাদন, কৃষি, স্বাস্থ্য, রিয়েল এস্টেট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রগুলিতে বিশেষ নজর দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে রাজকোষ ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও সরকারের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষার বার্তা একটাই— বিশ্ব অর্থনীতি যতই টালমাটাল হোক, ভারতের অর্থনৈতিক ভিত এখনও যথেষ্ট শক্ত।
❤ Support Us








