Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • অক্টোবর ১৫, ২০২৫

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জে কূটনৈতিক সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, অটল অঙ্গীকারের বার্তা দিল্লির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জে কূটনৈতিক সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, অটল অঙ্গীকারের বার্তা দিল্লির

রাষ্ট্রপুঞ্জের আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবারও ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য সপ্তমবার নির্বাচিত হয়েছে ভারত। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ভারতের প্রার্থীতা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গৃহীত হয়। বুধবার, জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনী হরিশ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বলেছেন, ‘ভারত আজ জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ২০২৬-২৮ মেয়াদের জন্য সপ্তমবার নির্বাচিত হয়েছে। সকল প্রতিনিধিদলকে তাদের অশেষ সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। এ নির্বাচন মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি ভারতের অটল প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আমরা সমস্ত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব।’

জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্বাচিত হয় ৪৭ সদস্যের মানবাধিকার পরিষদ। আফ্রিকান দেশগুলির জন্য ১৩টি, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য ১৩টি, পূর্ব ইউরোপের ৬টি, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্য ৮টি এবং পশ্চিম ইউরোপীয় ও অন্যান্য দেশের জন্য ৭টি আসন বরাদ্দ থাকে। ভারত ২০০৬ সালে পরিষদ গঠনের পর থেকেই একাধিকবার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ২০২২-২০২৪ মেয়াদে টানা দ্বিতীয়বার সদস্য থাকার পর, নিয়ম অনুযায়ী এক বছরের বিরতি নিয়ে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য ফের প্রার্থী হয় দিল্লি। এবারো ভারতের প্রতি সে আস্থা বজায় রেখেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মানবাধিকার পরিষদ বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষার প্রধান আন্তর্জাতিক সংস্থা। যুদ্ধ, সংঘর্ষ, নির্যাতন বা নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলিতে তদন্ত, সুপারিশ ও নীতি প্রণয়ন— সবই এই পরিষদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এর পাশাপাশি সদস্য দেশগুলির মানবাধিকার পরিস্থিতির ‘ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউ’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পরিষদে ভারসাম্যপূর্ণ ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে আসছে। শান্তিরক্ষা অভিযান, নারী ও শিশুর অধিকার, শিক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার, প্রযুক্তিতে সমতা— এমন নানা ক্ষেত্রে ভারত ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগী থেকেছে। বিশেষ করে, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে মানবাধিকারের প্রশ্নে ভারত প্রায়শই মধ্যস্থতার ভূমিকায় থেকেছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জে দেশের কূটনৈতিক সাফল্যকে উদযাপিত করে দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘জাতিসংঘে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা বহুপাক্ষিকতার প্রতি আমাদের গভীর বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। সংলাপ ও সহযোগিতাই আজকের বিশ্বের যৌথ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একমাত্র পথ।’ দিল্লির মতে, জাতিসংঘে ভারতের নির্বাচনে একথাই প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিকমহল ভারতের মানবিক মূল্যবোধ, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতির উপর আস্থা রাখে। জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী সদস্য আরো জানিয়েছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা, টেকসই উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন, সন্ত্রাসবাদ দমন, মানবাধিকার, স্বাস্থ্য, অভিবাসন, সাইবার নিরাপত্তা ও মহাকাশ প্রযুক্তি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারত বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও সংলাপের মাধ্যমে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে আগ্রহী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মানবাধিকার পরিষদে ভারতের এই পুনর্নির্বাচন কেবল কূটনৈতিক সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মানচিত্রে ভারতের প্রভাব আররো সুদৃঢ়, প্রগাঢ় করবে। দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বকে অনেক দেশই স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, মানবাধিকার পরিষদে ভারতের উপস্থিতি মানে, মানবাধিকারের প্রশ্নে এক বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। ভারত শুধু নীতির কথা বলে না, বাস্তব পদক্ষেপেও তার প্রমাণ রাখে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!