Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা বি। দে । শ
  • অক্টোবর ১০, ২০২৫

তালিবান মন্ত্রীর সাথে বৈঠক, কাবুলে ফের পূর্ণ দূতাবাস শুরুর ঘোষণা দিল্লির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তালিবান মন্ত্রীর সাথে বৈঠক, কাবুলে ফের পূর্ণ দূতাবাস শুরুর ঘোষণা দিল্লির

৪ বছর পরে আফগানিস্তানে পূর্ণ কূটনৈতিক উপস্থিতি ফেরাল ভারত। শুক্রবার সকালে কাবুলে ভারতের ‘টেকনিক্যাল মিশন’-কে দূতাবাসের মর্যাদা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। আর এই ঘোষণা এল তালিবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে যুগান্তকারী বৈঠকের পরেই। দিল্লিতে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতার প্রতি ভারত অটলভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের টেকনিক্যাল মিশনকে দূতাবাসের মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে।’ সঙ্গে যোগ করলেন, আফগান মাটিতে ভারতের যে উন্নয়নমূলক কাজগুলি রয়েছে, সেগুলি আরো জোরদার করা হবে। তারই অংশ হিসেবে ৬ টি নতুন প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

আফগানিস্তানে তালিবান শাসন শুরু হবার পর এই প্রথম এরকম উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক স্তরে মুখোমুখি আলোচনা হলো। গত ৪ বছরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল, এবার একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল দুই দেশই। মুত্তাকি বলেছেন, ‘ভারত-আফগানিস্তান সম্পর্ক যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। ভারত আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা নিশ্চিত করতে চাই, আফগান মাটি অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে ব্যবহার হবে না।’ এ মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এক দিকে যেমন ভারত-পাক সম্পর্ক উত্তপ্ত, অন্য দিকে আফগানিস্তানের সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের জেরে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগান সীমান্ত থেকে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে জঙ্গিরা। এর প্রেক্ষিতেই কাবুলকে কড়া বার্তা দিয়েছেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। এ আবহেই আফগান মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, ভারত-বিরোধী কোনো কার্যকলাপকে বরদাস্ত করবে না কাবুল।

তালিবান সরকারের প্রতি ভারতের আস্থা কতটা, তা স্পষ্ট বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মুখেও। করোনার সময় ভারত যে ভাবে আফগানিস্তানে ওষুধ, ভ্যাকসিন, চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠিয়েছে, সে কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আফগানদের উদ্দেশে উপহার হিসেবে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স, ক্যানসারের ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়। ৩১ অগস্ট আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত হয়েছিলেন প্রায় ২,০০০ মানুষ, ধ্বংস হয়েছিল কয়েক হাজার ঘরবাড়ি। সে সময় ভারত ছিল প্রথম ‘প্রতিক্রিয়াদাতা’। সে প্রসঙ্গ টেনে মুত্তাকি বলেন, ‘ভারত আমাদের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে থেকেছে। আমাদের দরকার বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়ার সম্পর্ক। দু’দেশের মধ্যে একটি পরামর্শমূলক বোঝাপড়ার কাঠামো গড়ে তোলা হোক, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে তালিবান ফের ক্ষমতা দখলের পর কাবুল থেকে নিজেদের কর্মীদের সরিয়ে এনেছিল ভারত। ২টি সি-১৭ বিমান পাঠিয়ে কূটনীতিকদের ফিরিয়ে আনা হয়। ছোটো শহরগুলির কনস্যুলেটগুলি তখনই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক বছর বাদে সীমিত আকারে ফের কাবুলে কার্যক্রম শুরু করে দিল্লি—তবে কেবল একটি ‘টেকনিক্যাল টিম’ পাঠিয়েই। তখন তালিবান আশ্বস্ত করেছিল, ভারতীয় কর্মীদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এ বার সেই সীমিত উপস্থিতিকে পূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যে ভারত এবং তালিবান, দুই পক্ষের পারস্পরিক আস্থারই ফল, তা মেনে নিচ্ছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!