- দে । শ
- আগস্ট ৬, ২০২৬
১৫ হাজারের বেশি ফোনে সক্রিয় কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম, হরমুজ সংকটে ৩,৯৭২ ভারতীয় নাবিকের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন
পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চলা আমেরিকা-ইরান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতার মধ্যেও ভারতীয় নাবিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নেয় কেন্দ্রীয় সরকার । ভারতমুখী ৬০টি পণ্যবাহী জাহাজকে নিরাপদে হরমুজ় প্রণালী পার করানো এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ৩,৯৭২ জন ভারতীয় নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনার পুরো প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্র ।
ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাহাজ মন্ত্রকের উদ্যোগে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছিল । এই কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টাই সক্রিয় ছিল । চালু হওয়ার পর থেকে নাবিক, তাঁদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক যোগাযোগ আসে । সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কন্ট্রোল রুমে মোট ১৫,৭৭১টি ফোন কল এবং ৩৬,৪৯৯টি ইমেল গ্রহণ করা হয় ।
নাবিকদের পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ নেওয়া, তাঁদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া এবং মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য কেন্দ্র একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল । ওয়েলফেয়ার কাউন্সেলর ও মনোবিদদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল । যেসব ক্ষেত্রে নাবিক বা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মানসিক সহায়তার প্রয়োজন হয়েছে, সেখানে অভিজ্ঞ মনোবিদরা তাঁদের পরামর্শ দিয়েছেন । পাশাপাশি, ডিজি কমিউনিকেশন সেন্টার (এমএমডিএসি) সর্বক্ষণ প্রস্তুত ছিল জরুরি পরিস্থিতিতে নাবিকদের সহায়তা করার জন্য ।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীতে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকেই উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে । আমেরিকার হামলার জবাবে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি করে। এর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে ।
পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরের মধ্যে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহণ করা হয় । ফলে হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করে । ভারতও এর প্রভাব থেকে বাদ যায়নি, কারণ দেশের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করতে হয় এবং তার একটি বড় অংশ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ।
এই সংকটের সময় ভারত কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় । আমেরিকা ও ইরান—দুই দেশের সঙ্গেই ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে । সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভারতমুখী পণ্যবাহী জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করে নয়াদিল্লি ।
এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলির জন্য নিয়মিত সতর্কবার্তা ও পরামর্শ জারি করা হয় । জাহাজ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল ।
১৪ জানুয়ারি জারি করা একটি সার্কুলারে ইরানি বন্দরে যাওয়া বা হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলিকে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছিল তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ।
এর পরে সংঘাত শুরুর দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে আরও ছয় দফা সতর্কতামূলক সার্কুলার জারি করা হয় । হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলিতে ভারতীয় নাবিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল জাহাজ মালিকদের । কারণ ওই সময় ভারতীয় নাবিক থাকা একাধিক জাহাজে হামলার অভিযোগ সামনে এসেছিল ।
সামগ্রিকভাবে, কন্ট্রোল রুমের কার্যকর পরিচালনা, নিয়মিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে হরমুজ সংকটের মধ্যেও ভারতীয় নাবিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ সম্পন্ন করে কেন্দ্র ।
❤ Support Us






