- দে । শ
- আগস্ট ২৪, ২০২৬
২৮ বছর পর ওয়ানধামা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ফের তৎপর এসআইএ
১৯৯৮ সালের ভয়াবহ ওয়ানধামা হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২৮ বছর পর ফের তদন্তে নেমেছে জম্মু ও কাশ্মীরের স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এসআইএ)। ভারতীয় সেনার পোশাক পরে জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৩ জন কাশ্মীরি পণ্ডিতকে হত্যা করেছিল। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৯ জন মহিলা এবং ৪টি শিশু। সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা ছিল, কীভাবে হামলার ছক তৈরি হয়েছিল এবং ঘটনায় জড়িত জঙ্গিদের ভূমিকা কী ছিল— নতুন করে তারই খোঁজ শুরু করেছে তদন্তকারী সংস্থা।
১৯৯৮ সালের সাধারণতন্ত্র দিবসের ঠিক আগের রাতে গান্দেরবাল জেলার ওয়ানধামা গ্রামে ঘটে যায় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ, ভারতীয় সেনার পোশাক পরে বাড়ির দরজায় হাজির হয়েছিল লস্কর-ই-তইবা এবং হিজবুল মুজাহিদিনের জঙ্গিরা। এরপর বেছে বেছে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। প্রাণ হারান ২৩ জন। ওই হত্যালীলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উপত্যকাজুড়ে। ঘটনার পর তদন্ত শুরু হলেও এত বছর পর ফের বিষয়টি সামনে এসেছে। এসআইএ সূত্রে খবর, গত কয়েকদিনে ওয়ানধামা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে ১৯৯৮ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিহত বিজেপি নেতা টিকা লাল টাপলুর হত্যার যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন মূলত সেই সময়ের সক্রিয় জঙ্গিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। হিংসার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কার কী ভূমিকা ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকজুড়ে কাশ্মীর উপত্যকায় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপর একের পর এক হামলা, খুন এবং ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময়ের একাধিক অমীমাংসিত হত্যাকাণ্ড ও হিংসার ঘটনাকে ফের তদন্তের আওতায় আনছে জম্মু ও কাশ্মীরের গোয়েন্দা সংস্থা। ওয়ানধামা হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি অতীতের আরও কয়েকটি বহুল আলোচিত মামলাতেও নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এর আগে সরলা ভাট নামে এক কাশ্মীরি নার্সকে হত্যা ও ধর্ষণের মামলাতেও উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল এসআইএ। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেকেএলএফের প্রাক্তন নেতাদের একাধিক ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হয়। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হুরিয়ত কনফারেন্সের নেতা ইয়াসিন মালিকের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল।
এছাড়াও লেখক সর্বানন্দ কউল ‘প্রেমী’ এবং তাঁর পুত্রের হত্যাকাণ্ডের তদন্তও ফের সক্রিয় হয়েছে। একইভাবে বিচারপতি নীলকান্ত গাঞ্জুর হত্যার ঘটনাতেও নতুন করে তদন্ত শুরু করছে এসআইএ। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগের মধ্যেই অতীতের হিংসার ঘটনাগুলির তদন্তে এই নতুন তৎপরতা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা হত্যাকাণ্ডগুলির নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যেই এবার একাধিক পুরনো মামলার তদন্ত নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন।
❤ Support Us






