- দে । শ
- আগস্ট ২৫, ২০২৬
জনগণনায় আর আলাদা করে গোনা হবে না ভিক্ষুকদের, ২০১১-তে সংখ্যায় শীর্ষে ছিল পশ্চিমবঙ্গ
দেশে কতজন ভিক্ষুক রয়েছেন, আগামী জনগণনা থেকে সে সংখ্যা আর আলাদা করে জানা যাবে না। আসন্ন জনগণনার প্রশ্নমালা থেকে ‘নন-ইকোনমিক অ্যাক্টিভিটি’ বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নয়— এমন কাজের তালিকা থেকে ‘ভিক্ষুক এবং ভবঘুরে ইত্যাদি’ বিভাগটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এ বার জনগণনার তথ্য থেকে দেশের মোট ভিক্ষুকের সংখ্যা, তাঁদের বয়স, কোন রাজ্যের বাসিন্দা কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতা— এসব তথ্য আলাদা ভাবে পাওয়া যাবে না। তাঁদের ‘অন্যান্য’ বিভাগের মধ্যে গণনা করা হবে।
সূত্রের খবর, ২০১১ সালের জনগণনায় ‘ভিক্ষুক এবং ভবঘুরে’ বিভাগে খুব কম তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। সে কারণেই এ বার এই বিভাগটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের জনগণনায় দেশে ৪ লক্ষের কিছু বেশি মানুষকে ভিক্ষুক ও ভবঘুরে হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এর আগে ২০১১ সালের পাশাপাশি ১৯৯১ এবং ২০০১ সালের জনগণনাতেও ‘নন-ইকোনমিক অ্যাক্টিভিটি’-র তালিকায় ভিক্ষুক ও ভবঘুরেদের আলাদা করে নথিভুক্ত করা হতো। সে তালিকায় পড়ুয়া, পেনশনভোগী, গৃহস্থালির কাজে যুক্ত ব্যক্তি এবং অন্যের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদেরও রাখা হয়েছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী জনগণনাগুলিতে ভিক্ষুক ও ভবঘুরেদের বিষয়ে পাওয়া তথ্যকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করা হয়নি।
এর অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সামাজিক কলঙ্কের বিষয়টি। অনেকেই সমাজে ‘কলঙ্কিত’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় নিজেদের ভিক্ষুক বা ভবঘুরে হিসেবে নথিভুক্ত করতে চাননি। ফলে সরকারি পরিসংখ্যানে প্রকৃত সংখ্যার প্রতিফলন ঘটেনি। ১৯৯১ সালের জনগণনায় ওই বিভাগে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ মানুষ এবং ২০০১ সালে ৬ লক্ষের কিছু বেশি মানুষকে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে এই তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
২০১১ সালের জনগণনার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ভিক্ষুকের সংখ্যার নিরিখে শীর্ষে ছিল পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যভিত্তিক হিসাবে—
- পশ্চিমবঙ্গ:৮১ হাজার ২৪৪ জন
- উত্তরপ্রদেশ:৬৫ হাজার ৮৩৫ জন
- অন্ধ্রপ্রদেশ:৩০ হাজার ২১৮ জন
- বিহার:২৯ হাজার ৭২৩ জন
- মধ্যপ্রদেশ:২৮ হাজার ৬৯৫ জন
অর্থাৎ, ২০১১ সালের জনগণনার হিসেবে ভিক্ষুকের সংখ্যায় পশ্চিমবঙ্গই দেশের মধ্যে প্রথম ছিল। কিন্তু আসন্ন জনগণনায় ‘ভিক্ষুক এবং ভবঘুরে’ বিভাগটি আর আলাদা না থাকায় এ বার কোন রাজ্যে ভিক্ষুকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি— সে তুলনা সরকারি জনগণনার পরিসংখ্যান থেকে আর করা সম্ভব হবে না।
❤ Support Us







