- দে । শ
- আগস্ট ২৫, ২০২৬
দলবদল নিয়ে ২০ সাংসদকে সুপ্রিম নোটিস
দলবদলকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে করা আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মামলার প্রেক্ষিতে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদকেই নোটিস দিল দেশের শীর্ষ আদালত। প্রত্যেক সাংসদকে নিজেদের বক্তব্য আদালতে জানাতে হবে। মঙ্গলবার মামলাটির শুনানির পর আগামী দুই সপ্তাহের জন্য তা মুলতবি রাখা হয়েছে।
অভিষেকের অভিযোগ, দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় ওই ২০ জন সাংসদের সাংসদপদ খারিজের জন্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে আবেদন জানানো হলেও দীর্ঘ সময় ধরে তার নিষ্পত্তি হয়নি। সেই কারণেই স্পিকার এবং লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করে দ্রুত সিদ্ধান্তের জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানিতে ২০ জন সাংসদকেই নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। তাঁদের বক্তব্য জানার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করবে শীর্ষ আদালত।
এর আগে গত জুলাই মাসে ২০ জন সাংসদের সাংসদপদ খারিজের দাবিতে লোকসভার স্পিকারের কাছে আবেদন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা। অগস্ট মাসে ফের স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে একই দাবি জানানো হয়। সেই সময় অভিষেকের বক্তব্য ছিল, সংশ্লিষ্ট সাংসদেরা প্রকাশ্যে নিজেদের এনসিপিআই-এর সদস্য বলে দাবি করলেও সংসদে তাঁদের নামের পাশে এখনও ‘এআইটিসি’ বা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস লেখা রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘২০ জন মুখে বলছেন তাঁরা এনসিপিআই। অন্য দিকে, সংসদে তাঁরা যখন বক্তৃতা করছেন তখন তাঁদের নামের পাশে লেখা থাকছে এআইটিসি। এটা হতে পারে না।’’
দশম তফসিল বা দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করে ওই ২০ জনের সাংসদপদ খারিজের দাবিতে অগস্টে ফের সরব হন অভিষেক। তাঁর সঙ্গে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সৌগত রায়, কীর্তি আজাদ এবং প্রতিমা মণ্ডলও। তখন অভিষেক জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্পিকারকে সাংসদপদ খারিজের আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করতে হবে। সেই সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত না হলে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।
অন্য দিকে, অভিষেকের এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চাননি বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি দাবি করেছিলেন, লোকসভার কোনও সাংসদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার স্পিকারেরই রয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘‘লোকসভার বিষয়ে স্পিকারই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী। অন্য কেউ তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। যিনি এ সব বলছেন, তাঁর সংসদীয় রাজনীতি সম্পর্কে জ্ঞান সীমিত।’’
তৃণমূলের পাল্টা যুক্তি, ওই ২০ জন সাংসদ তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচনের পর অন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠন বা সেই দলে যোগ দেওয়ার ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনের বিধান কার্যকর হওয়া উচিত।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন দলের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, স্পিকার এখনও ২০ জন সাংসদকে নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, অথচ তাঁদের জন্য সংসদে আসনও নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘স্পিকার এই ২০ জনকে নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন না, অথচ আসন বণ্টন করে দিলেন। আমাদের আগে তাঁদের বসতে দেওয়া হল। এ বার এই ২০ জন জবাব দিক।’’
এখন সুপ্রিম কোর্টের নোটিসের জবাবে ওই ২০ জন সাংসদ কী বক্তব্য পেশ করেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। তাঁদের বক্তব্য পাওয়ার পর আগামী শুনানিতে মামলাটি কোন দিকে এগোয়, তা-ই এখন দেখার।
❤ Support Us






