- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৪, ২০২৬
ভোররাতে যশোর রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই ২২টি গাড়ি! ফের প্রশ্নের মুখে কলকাতার অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা
সোমবার ভোররাতে ফের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল কলকাতায়। কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে যশোর রোড সংলগ্ন বাঁকড়া এলাকায় একটি গাড়ির শোরুম ও সার্ভিস সেন্টারে আগুন লেগে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেল অন্তত ২২টি গাড়ি। আগুনে আরও ৮টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ভোর ৪টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ওই কারখানায় আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন গোটা কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। একের পর এক গাড়িতে আগুন ধরে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। খবর পেয়ে প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরে আরও তিনটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। মোট আটটি দমকলের ইঞ্জিন দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালানোর পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
দমকল আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সার্ভিস সেন্টারে গাড়ি মেরামতির জন্য দেওয়া একটি বাণিজ্যিক গাড়ির মালিক। তিনি জানান, ফোনে আগুন লাগার খবর পেয়েই সেখানে পৌঁছন। কিন্তু গিয়ে দেখেন, তাঁর গাড়িটিও দাউদাউ করে জ্বলছে। তাঁর অভিযোগ, দমকলকর্মীরা তখন কারখানার অন্যদিকে আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এর মধ্যেই তাঁর গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। গাড়ির মালিকের কথায়, ‘সার্ভিস সেন্টারে গাড়ি দিয়ে এমন ক্ষতি হবে, ভাবিনি। নতুন গাড়িটা পুরো শেষ হয়ে গিয়েছে। কীভাবে ক্ষতিপূরণ পাব, জানি না।’
দমকল আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রায় ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর আসে। মধ্যমগ্রাম-বিরাটি জোন থেকে খবর পেয়ে দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। ততক্ষণে গোটা কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে কারখানায় মাত্র একটি এন্ট্রি পয়েন্ট থাকায় দমকলকর্মীদের ভিতরে ঢুকে আগুন মোকাবিলা করতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। অগ্নিকাণ্ডের পর যশোর রোডের ওই সার্ভিস সেন্টারে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ঘটনাস্থলে সার্ভিস সেন্টারের কোনও কর্মী বা কর্তৃপক্ষের দেখা মেলেনি বলে জানিয়েছেন দমকল আধিকারিকরা।
সার্ভিস সেন্টারে পর্যাপ্ত ফায়ার সেফটি সিস্টেম ছিল কি না, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ম মেনে রাখা হয়েছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগুনের প্রকৃত কারণ এবং অগ্নিনিরাপত্তার ঘাটতি ছিল কি না, তদন্তের পরই তা স্পষ্ট হবে। ভোরের আলো ফোটার আগেই ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল ২২টি গাড়ি। ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নতুন করে সামনে এল শহর ও শহরতলির গাড়ির সার্ভিস সেন্টারগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন।
❤ Support Us








