- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৪, ২০২৬
বছরে তিনটি বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার, দূরপাল্লার বাসে মহিলাদের যাত্রাও ফ্রি : ঘোষণা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয় ‘তলপতি’ সোমবার বিধানসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জনমুখী প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারের জন্য বছরে তিনটি বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার এবং মহিলাদের পাশাপাশি রূপান্তরকামীদের জন্য বিনামূল্যের বাসযাত্রার পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত।
‘অন্নপূরানি সুপার সিক্স’ নামে নতুন গ্যাস প্রকল্পের আওতায় তামিলনাড়ুর অন্তত ১ কোটি ৩০ লক্ষ পরিবার উপকৃত হবে। যে পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকা বা তার কম, সেই পরিবার এই সুবিধা পাবে। প্রকল্পে পরিবারের গৃহকর্ত্রীর নাম উপভোক্তা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে। গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্যের সমপরিমাণ টাকা সরাসরি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা খরচ হবে। ২০২৭ সালের পোঙ্গল উৎসবের দিন থেকে প্রকল্পটি চালু করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়।
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজয়ের দল টিভিকে প্রতিটি পরিবারকে বছরে ছ-টি গ্যাস সিলিন্ডার বিনামূল্যে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই এই প্রকল্প চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজয়। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সঙ্কট আরও তীব্র হয়েছে এবং গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। সে চাপ কিছুটা কমাতেই সরকারের এই উদ্যোগ।
এর পাশাপাশি মহিলাদের বিনামূল্যের বাসযাত্রার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। এত দিন তামিলনাড়ুতে মহিলারা ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুবিধা পেতেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এক্সপ্রেস ও ডিলাক্স শ্রেণির বাসেও এই সুবিধা পাওয়া যাবে। আন্তঃজেলা অর্থাৎ এক জেলা থেকে অন্য জেলায় চলাচলকারী বাস পরিষেবাও এর আওতায় আসবে। ‘ভেট্টিরি পায়ানা থিত্তম’ নামে এই প্রকল্পে এ বার রূপান্তরকামী মানুষদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী ২ অক্টোবর থেকে প্রকল্পটির বর্ধিত পরিষেবা চালু হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিকে চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় বিমানবন্দর নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিজয়। পারান্দুরে দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরির কাজ আপাতত বন্ধ রাখছে তাঁর সরকার। বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন কয়েকটি কৃষক সংগঠন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, প্রকল্পের জন্য কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বহু পরিবারকে উচ্ছেদ হতে পারে।
বিজয় জানিয়েছেন, এমন কোনো জায়গায় দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরি করা উচিত নয়, যেখানে পরিবারকে উচ্ছেদ করতে হবে বা কৃষকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাঁর সরকার বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বিকল্প জায়গা চিহ্নিত করেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ পারান্দুরের পরিবর্তে এমন কোনো স্থান বেছে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যেখানে মানুষের বসতবাড়ি ও কৃষিজমির উপর ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম হবে।
❤ Support Us








