Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • আগস্ট ২৪, ২০২৬

জেপিএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ, সিবিআই তদন্তের আর্জিতে সুপ্রিম কোর্টের নোটিস, সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জেপিএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ, সিবিআই তদন্তের আর্জিতে সুপ্রিম কোর্টের নোটিস, সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা ‘জেপিএসসি’-র সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দরজায় পৌঁছেছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বাধীন ও সময়বদ্ধ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। সে আবেদনের ভিত্তিতে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার, ঝাড়খণ্ড সরকার,জেপিএসসি-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিস জারি করেছে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা। আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী মানন কুমার মিশ্র সওয়াল করেন। তিনি জানান, মামলায় মূলত সিবিআই তদন্ত, অথবা সুপ্রিম কোর্টের কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। তবে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে এ ধরনের তদন্তে যুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানান ।

এই মামলা করেছেন সমাজকর্মী হরিশরণ দেবগন। আইনজীবী সত্যম সিং রাজপুতের মাধ্যমে দায়ের করা মামলাটি হল Harisharan Devgan v. Union of India & Ors., W.P. (C) No. 1047/2026। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২-এর অধীনে জনস্বার্থে এই আবেদন করা হয়েছে। আবেদনের কেন্দ্রে রয়েছে ১৯ এপ্রিল ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত Jharkhand Combined Civil Services Preliminary Competitive Examination 2025। পরীক্ষাটি জেপিএসসি-র ০১/২০২৬-এর বিজ্ঞাপন অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছিল। মামলাকারীর বক্তব্য, পরীক্ষার সামগ্রিক পরিচালনা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে ঘিরে এমন কিছু অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে পরীক্ষার বৈধতা,পরিচ্ছন্নতা, স্বচ্ছতা এবং পরীক্ষা পরিচালনার সামর্থ নিয়ে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

যদিও এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে পরিষ্কার করা জরুরি যে সুপ্রিম কোর্ট এখনও কোনও অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেয়নি। আদালত আপাতত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য জানতে নোটিস জারি করেছে। ফলে অভিযোগ এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত—দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। জেপিএসসি-র এই পরীক্ষাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। মামলাকারীর পক্ষ থেকে পরীক্ষার ওএমআর, মূল্যায়ন এবং ফলপ্রকাশ-সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রকাশ্য নথি ও সংবাদ প্রতিবেদনে একটি ভাইরাল ওএমআর কার্বন কপি নিয়ে প্রশ্নের কথা উঠে এসেছে। মামলাকারীর নিজস্ব বক্তব্য অনুযায়ী, একটি ওএমআর কপিতে ১০০টি প্রশ্নের মধ্যে মাত্র ৪৮টি উত্তর করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে, অথচ ওই প্রার্থীর পরবর্তী যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু পরীক্ষার্থী অত্যন্ত বেশি নম্বর পেয়েও প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হতে পারেননি—এমন দাবিও আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।

তবে এই দাবিগুলি বর্তমানে অভিযোগ বা দাবি হিসেবেই বিবেচ্য। এগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্যই মূলত স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে।

মামলাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, শুধু তদন্তের দাবি নয়, সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণেরও আবেদন করা হয়েছে।

প্রকাশিত মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আবেদনকারী চেয়েছেন—

* পরীক্ষার্থীদের কাছে থাকা এবং মূল ওএমআর শিট সংরক্ষণ করা হোক;
* পরীক্ষাকেন্দ্রগুলির সিসিটিভি ফুটেজ নিরাপদে রাখা হোক;
* পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত সার্ভার অডিট লগ ও ডিজিটাল রেকর্ডস সংরক্ষণ করা হোক;
* পরীক্ষার পরিচালনা ও মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত নথিপত্র সুরক্ষিত রাখা হোক;
* প্রয়োজনে রাজ্য পর্যায়ের তদন্তের পরিবর্তে বিষয়টি সিবিআই-এর কাছে তদন্ত হস্তান্তর করা হোক।

এই প্রমাণগুলি গুরুত্বপূর্ণ কারণ পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগ সত্যি কি না, তা নির্ধারণ করতে শুধু পরীক্ষার্থীদের বক্তব্য যথেষ্ট নয়। ওএমআর, সিসিটিভি, সার্ভার লগ, পরীক্ষাকেন্দ্রের নথি এবং মূল্যায়নের ইলেক্ট্রনিক ট্রেইল পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন হতে পারে।  মামলাটি এমন একটি সময়ে সুপ্রিম কোর্টে এসেছে, যখন ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক চলছে। প্রতিবাদী পরীক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর ঝাড়খণ্ড সরকার ১৮ আগস্ট ২০২৬-এ একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল এবং কয়েকটি পরীক্ষার বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ২২টি পরীক্ষা বাতিল এবং আরও কয়েকটি পরীক্ষার বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তে যাঁরা ইতিমধ্যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। তাঁদের বক্তব্য ছিল—যদি কোনও নির্দিষ্ট অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত; নির্দোষ সফল প্রার্থীদের চাকরি একসঙ্গে বাতিল করা ন্যায়সঙ্গত কি না, সেটিও প্রশ্ন। এ পর্যায়ে আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি ঘটনা ঘটেছে। ২০ আগস্ট ২০২৬-এ ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট ১১তম থেকে ১৩তম জেপিএসসি  পরীক্ষার মাধ্যমে করা নিয়োগ বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেয়। ফুড সেফটি অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়। আদালত প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে যে, নিয়মিত নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের চাকরি বাতিল করার আগে ন্যাচারাল জাস্টিস-এর নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে তদন্তের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য জানিয়ে জবাব দিতে বলেছে এবং মামলাটি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ফের শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেছে। অন্তর্বর্তী আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট অনেক প্রার্থী আপাতত চাকরিতে বহাল থাকতে পারছেন। এখানে অবশ্য মনে রাখতে হবে, এই হাইকোর্টের মামলা এবং বর্তমান সুপ্রিম কোর্টের সিবিআই তদন্ত সংক্রান্ত মামলা একেবারে একই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। তবে দুটির কেন্দ্রেই রয়েছে ঝাড়খণ্ডের সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং তদন্তের প্রয়োজনীয়তা। ‘জেপিএসসি’ বিতর্ককে শুধুমাত্র একটি পরীক্ষার ফল নিয়ে অসন্তোষ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি-র বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন চলেছে। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দীর্ঘস্থায়ী ছাত্র আন্দোলন ও প্রতিবাদের কথা উঠে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের পরীক্ষাগুলি বাতিল ও তদন্তের সিদ্ধান্ত যেমন এক পক্ষের কাছে স্বস্তির কারণ হয়েছিল, তেমনই ইতিমধ্যে নির্বাচিত ও নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল। ফলে বর্তমানে ঝাড়খণ্ডে প্রশ্নটি শুধু “পরীক্ষায় অনিয়ম হয়েছিল কি না”-তাতেই সীমাবদ্ধ নেই। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে—অনিয়ম হলে তার পরিধি কতটা, কারা দায়ী, নির্দোষ প্রার্থীদের কী হবে এবং ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য করা যাবে।

আবেদনকারীর যুক্তির মূল জায়গা এখানেই। যদি অভিযোগের আওতায় সরকারি কর্মকর্তা, পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা এবং পরীক্ষার বিভিন্ন স্তরে যুক্ত ব্যক্তিরা থাকেন, তাহলে একই প্রশাসনিক ব্যবস্থার অধীনে তদন্ত হলে তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে—এমন আশঙ্কা আবেদনকারীর।সে কারণেই রাজ্য পর্যায়ের তদন্তের পরিবর্তে সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তদন্ত তুলে দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু কোনও একটি প্রশ্নপত্র, ওএমআর বা পরীক্ষার্থীর অভিযোগ যাচাই করা নয়; বরং প্রয়োজনে পুরো পরীক্ষাপ্রক্রিয়ার মধ্যে কোনও সিস্টেমেটিক ম্যালপ্রাক্টিস বা অর্গানাইজড ইরেগুলারিটি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা।

তবে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের নোটিস জারি হওয়া মানেই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমনটা নয়।
এটি মূলত একটি প্রাথমিক বিচারিক পদক্ষেপ। আদালত এখন কেন্দ্র, ঝাড়খণ্ড সরকার, জেপিএসসি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য জানতে চাইছে। এরপর আদালত সিদ্ধান্ত নিতে পারে—

* রাজ্যের বর্তমান তদন্ত যথেষ্ট কি না;
* তদন্ত সিবিআই-এর হাতে দেওয়া প্রয়োজন কি না;
* পরীক্ষার নথি ও ইলেক্ট্রনিক এভিডেন্স কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে;
* পরীক্ষার ফল বা পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ প্রয়োজন কি না;
অভিযোগের পরিধি কতটা;
এবং প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার মতো কোনও নির্দেশ দেওয়া দরকার কি না।

এই পর্যায়ে তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আদালতের সামনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির জবাব এবং পরবর্তী শুনানি।

আগামী দিনে এই মামলার  কয়েকটি সম্ভাব্য দিক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে

১. সিবিআই তদন্তের নির্দেশ
যদি আদালত মনে করে যে অভিযোগগুলি এমন প্রকৃতির এবং এমন পর্যায়ের যে স্বাধীন কেন্দ্রীয় তদন্ত প্রয়োজন, তাহলে CBI তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

২. রাজ্য তদন্তেই আস্থা
অন্যদিকে সরকার যদি দেখাতে পারে যে সিআইডি বা অন্য কোনও রাজ্য সংস্থার তদন্ত যথেষ্ট স্বাধীন, কার্যকর এবং প্রমাণভিত্তিক, তাহলে আদালত বর্তমান তদন্তকেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে পারে।

৩. প্রমাণ সংরক্ষণে আদালতের নির্দেশ
ওএমআর, সিসিটিভি, সার্ভার লগ এবং অন্যান্য ডিজিটাল নথি যাতে নষ্ট বা পরিবর্তিত না হয়, সে বিষয়ে আদালত বিশেষ নির্দেশ দিতে পারে। এই বিষয়টি ভবিষ্যতের তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

৪. পরীক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত
যদি গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হয় এবং পুরো পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে, তাহলে পুনরায় পরীক্ষা বা অন্য কোনও প্রতিকার নিয়ে আদালতের সামনে প্রশ্ন আসতে পারে। তবে এখনই বলা যায় না যে ১৯ এপ্রিলের পরীক্ষা বাতিল হবে বা নতুন পরীক্ষা হবেই।

৫. নির্দোষ সফল প্রার্থীদের অধিকার
অন্যদিকে, কোনও অনিয়মের কারণে যদি ইতিমধ্যে নির্বাচিত বা নিয়োগপ্রাপ্তদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, আদালত তাঁদের স্বার্থ এবং প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতিও বিবেচনা করবে। ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী আদেশ এই প্রশ্নটির গুরুত্ব ইতিমধ্যেই সামনে এনেছে।

এ মামলার তাৎপর্য জেপিএসসি-র একটি পরীক্ষার বাইরেও বিস্তৃত হতে পারে। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় কয়েক লক্ষ তরুণ-তরুণী বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেন। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, ওএমআর মূল্যায়ন, ফলপ্রকাশ, কাট-অফ এবং মেধাতালিকার প্রতিটি ধাপ নিয়ে সামান্য সন্দেহ তৈরি হলেও তার প্রভাব শুধু কয়েকজন প্রার্থীর ওপর পড়ে না—পুরো নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি আস্থায় আঘাত লাগে। এ কারণেই জেপিএসসি বিতর্কে বর্তমানে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—স্বচ্ছ তদন্ত, প্রমাণের সুরক্ষা এবং নির্দোষ প্রার্থীদের অধিকার রক্ষা।

২৪ আগস্টের সুপ্রিম কোর্টের নোটিসের পর মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করল। কেন্দ্র, ঝাড়খণ্ড সরকার, জেপিএসসি এবং অন্যান্য প্রতিপক্ষকে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে। অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে নিয়োগ বাতিল সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ হওয়ার কথা। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে দুটি আদালতের পর্যবেক্ষণই ঝাড়খণ্ডের নিয়োগ ব্যবস্থার ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, অভিযোগের সত্যতা এখনও বিচারাধীন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নোটিস প্রমাণ করে যে বিষয়টি এখন আর শুধু ছাত্র আন্দোলন বা প্রশাসনিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারিক নজরেও এসেছে। এখন মূল প্রশ্ন—তদন্ত কে করবে, কতটা স্বাধীনভাবে করবে এবং সেই তদন্তের ফলের ভিত্তিতে পরীক্ষার্থী ও নিয়োগপ্রাপ্তদের ভবিষ্যৎ কীভাবে নির্ধারিত হবে। পরবর্তী শুনানি ও কেন্দ্র, রাজ্য সরকার এবং JPSC-এর জবাবের পর এই মামলার গতিপথ আরও স্পষ্ট হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!