- দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির অস্থায়ী দায়িত্বে সৌমেন সেন
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের অবসরের পর দায়িত্ব সামলাবেন বিচারপতি সৌমেন সেন। সোমবার কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের তরফে এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সংবিধানের ২২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচারপতি শিবজ্ঞানমের অবসরের দিন থেকেই হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি পদে নিয়োগ করা হয়েছে বিচারপতি সেনকে।
সোমবার ছিল বিচারপতি শিবজ্ঞানমের শেষ কর্মদিবস। মাদ্রাজ হাইকোর্ট থেকে বদলি হয়ে তিনি ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালের ১১ মে তাঁকে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে উন্নীত করা হয়। তাঁর অবসরের পর, প্রবীণতম বিচারপতি হিসাবে বিচারপতি সৌমেন সেনের নাম ছিল প্রায় নিশ্চিতই। সে পথেই হাঁটল আইন মন্ত্রক। তবে এক অন্য সম্ভাবনাও উঁকি দিচ্ছে, কারণ, এই মুহূর্তে তাঁকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম সম্প্রতি বিচারপতি সেনকে মেঘালয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করেছে।
২০১১ সালের ১৩ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন সৌমেন সেন। ১৯৯০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক হন তিনি। ওই বছরেই সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে আইনের জগতে নজর কাড়েন। পরের বছর রাজ্য বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেন। প্রায় দু-দশকের প্র্যাকটিসের পর বিচারপতি পদে উন্নীত হন। তার বিচারিক মেয়াদ রয়েছে ২০২৭ সালের ২৬ জুলাই পর্যন্ত। দীর্ঘ কর্মজীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি ও রায় দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং যুক্তির স্বচ্ছতা বিচারমহলে প্রশংসিত। তবে বিতর্ক থেকেও একেবারে মুক্ত ছিলেন না বিচারপতি সেন। শিরোনামে উঠে আসেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে। মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি সংক্রান্ত মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। সে নির্দেশ খারিজ করে দেন বিচারপতি সেনের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। পরে ‘ত্রুটি’ দেখিয়ে সে খারিজের আদেশ বাতিল করে আবার তদন্ত চালানোর নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এই টানাপোড়েন ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিচারিক বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয় সুপ্রিম কোর্টকে। মামলাটি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সরিয়ে নেয় শীর্ষ আদালত।
এক্ষেত্রে প্রশ্ন একটাই, বিচারপতি সৌমেন সেন কি তাঁর বাকি কর্মজীবন কলকাতাতেই থাকবেন, নাকি পাড়ি দেবেন মেঘালয়ে? মেঘালয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর নাম সুপ্রিম সুপারিশে কার্যকর হলে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির আসনে পরিবর্তন অনিবার্য। সে ক্ষেত্রে, প্রবীণতার ভিত্তিতে পরবর্তী সম্ভাব্য মুখ বিচারপতি সুজয় পাল, যিনি সম্প্রতি তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট থেকে বদলি হয়ে এসেছেন কলকাতায়। বিচারপতি সেনের পরে হাইকোর্টের সবচেয়ে সিনিয়র বিচারপতি তিনিই। ফলে পরবর্তী প্রধান বিচারপতির পদে তাঁর নামও উঠে আসছে সম্ভাব্য তালিকায়। আইন মন্ত্রকের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘ভারতীয় সংবিধানের ২২৩ ধারা অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতির পদ ফাঁকা থাকলে, সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের প্রবীণতম বিচারপতিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব দেওয়া যায়। সে নিয়ম মেনেই বিচারপতি সৌমেন সেনকে এই পদে নিযুক্ত করা হয়েছে।’ তবে স্থায়ী প্রধান বিচারপতি কে হবেন, তা নির্ভর করবে কলেজিয়ামের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের উপর। এর আগে পাটনা হাইকোর্টের বিচারপতি পবনকুমার বাজন্থরী এবং চেন্নাই হাইকোর্টের বিচারপতি এম. সুন্দরকে যথাক্রমে পাটনা ও মণিপুর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে সুপারিশ করেছে কলেজিয়াম। সে তালিকায় ছিল বিচারপতি সৌমেন সেনের নামও।
❤ Support Us






