- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৭, ২০২৫
২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কাশি, ঠান্ডার সিরাপ নিষিদ্ধ করল কর্ণাটক সরকার
মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানে কাশির সিরাপ খেয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সতর্ক অন্যান্য রাজ্য। ইতিমধ্যেই শিশুদের কাশির সিরাপ নিষিদ্ধ করেছে ঝাড়খণ্ড সরকার। এবার সেই রাস্তায় হাঁটল কর্ণাটকও। কর্ণাটক স্বাস্থ্য বিভাগ সোমবার রাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কাশি এবং ঠান্ডার সিরাপ না দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। পাশাপাশি যে কাশির সিরাপ খেয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সেই নির্দিষ্ট সিরাপের ক্রয়–বিক্রয়ের বিরুদ্ধে সকল স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, মজুতদার, পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক করেছে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে খাদ্য সুরক্ষা ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, ‘তামিলনাড়ু ভিত্তিক এক ফার্মার নির্মিত কোল্ডরিফ সিরাপ (ব্যাচ নং এসআর–১৩) খাওয়ার পরে মধ্যপ্রদেশে সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনাবলীর রিপ্রেক্ষিতে, তামিলনাড়ু ড্রাগস কন্ট্রোল বিভাগ সেই রাজ্যে উক্ত ব্যাচের সিরাপ ক্রয়, বিক্রয় এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। এছাড়াও, জয়পুরের কেসনস ফার্মা কর্তৃক উৎপাদিত ডেক্সট্রোমেথরফান হাইড্রোব্রোমাইড সিরাপ আইপি সেবনের কারণে রাজস্থানে কয়েকটি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘সকল জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, সরকারি হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট সকল মজুতদার,পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতাদের কর্ণাটক রাজ্যে এই কাশির সিরাপ ক্রয়–বিক্রয়ের ব্যাপারে সতর্ক করা হচ্ছে। পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত সহকারী ওষুধ নিয়ন্ত্রক কার্যালয়কে অবহিত করে এই ওষুধগুলি যদি থাকে তাহলে তা প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’
অন্যান্য রাজ্যে নির্দিষ্ট কিছু কাশির সিরাপ সেবনের ফলে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে থাকায় কর্ণাটক সরকার কঠোর নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া স্বাস্থ্য বিভাগকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনার পর কর্ণাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দীনেশ গুন্ডু রাও বলেছেন যে, রাজ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের কোনও সিরাপ দেওয়ার সময় অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, অন্যান্য রাজ্যে শিশুদের মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত নিম্নমানের কাশির সিরাপ কর্ণাটকে সরবরাহ করা হয়নি। তাই, এখানে এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। দীনেশ বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য কর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি যে কর্ণাটকে এই পণ্যগুলির কোনওটি বিক্রি হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে। এখনও পর্যন্ত বিক্রির কোনও তথ্য হাতে আসেনি।’ তাঁর মতে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে, সমস্ত ব্র্যান্ডের কাশির সিরাপের নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষা করা হচ্ছে। রাজ্যের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ইতিমধ্যেই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সতর্ক রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে যে, ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাশি এবং ঠান্ডা লাগার সিরাপ দেওয়া উচিত নয়। ২ থেকে ৫ বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে যথাযথ ক্লিনিকাল মূল্যায়নের পরে স্পষ্টভাবে নির্দেশিত এবং নির্ধারিত না হলে সাধারণত এই জাতীয় ওষুধ এড়ানো উচিত। রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। পরামর্শ অনুসারে, বড় শিশুদের জন্য প্রয়োজনে কাশির সিরাপগুলি সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় এবং যতটা সম্ভব কম সময়ের জন্য পুঙ্খানুপুঙ্খ ক্লিনিকাল মূল্যায়নের পরেই ব্যবহার করা উচিত।
পরামর্শে আরও বলা হয়েছে যে, সমস্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় কর্তৃক জারি করা স্ট্যান্ডার্ড ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল এবং থেরাপিউটিক নির্দেশিকা, পাশাপাশি শিশুদের কাশি এবং শ্বাসকষ্টের লক্ষণগুলি পরিচালনার জন্য ইন্টিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট অফ নিউওনেটাল অ্যান্ড চাইল্ডহুড ইলনেস নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। জেলা ও তালুক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে তাদের আওতাধীন শিশু বিশেষজ্ঞ, সাধারণ অনুশীলনকারী, ফার্মাসিস্ট, নার্সিং কর্মী এবং স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে এই পরামর্শের ব্যাপক প্রচার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশাবলী লঙ্ঘন করলে কর্ণাটক প্রাইভেট মেডিকেল এস্টাব্লিশমেন্টস আইন, ২০০৭, সেইসঙ্গে ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স আইন, ১৯৪০ এবং ১৯৪৫ এর অধীনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
❤ Support Us







