- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- মার্চ ৬, ২০২৬
কাঠমাণ্ডুর মসনদে নতুন শক্তি! ভোট ফলাফলে এগিয়ে বলেন্দ্র শাহ-র রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি, পিছিয়ে ওলি ও প্রচণ্ডদের দল
হিমালয় ঘেরা নেপালের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন সূর্যোদয়! শুক্রবার দেশের ১৬৫টি প্রত্যক্ষ আসনের মধ্যে প্রাথমিক গণনায় বড়ো ব্যবধান নিয়ে এগিয়ে রয়েছে জেন-জি সমর্থিত নবগঠিত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বা আরএসপি। দলের নেতা, প্রাক্তন কাঠমান্ডু মেয়র এবং প্রাক্তন র্যাপার বলেন্দ্র শাহ ঝাপা-৫ আসনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি-এর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে এগিয়ে রয়েছেন। এই মুহূর্তে ওই কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ওলি। ফলে এই নির্বাচন যে নেপালের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে তা বলাই বাহুল্য।
বলেন্দ্র শাহ-র নেতৃত্বাধীন আরএসপি ইতিমধ্যেই ৩টি আসনে জয়ী হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, তারা প্রায় ৬০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে দলটি। রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টির উত্থানকে বিশেষ করে বলা হচ্ছে শহুরে এবং যুবসমাজের মধ্যে ব্যাপক সমর্থনের ফল। কাঠমান্ডু-১ আসনে বিজয়ী হয়েছেন যুবনেত্রী রঞ্জু দর্শনা, যিনি প্রায় দ্বিগুণ ভোটে নেপালি কংগ্রেস প্রার্থী প্রাবল থাপা ছেত্রীকে হারিয়েছেন। কাঠমান্ডু-৭ এবং কাঠমান্ডু-৮ আসনে বিজয়ী হয়েছেন যথাক্রমে গনেশ পরাজুলি ও বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ।
নেপালের নির্বাচনী কমিশন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেনি। তবে মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, আরএসপি কাঠমান্ডু উপত্যকার সব ক-টি আসনে প্রাথমিকভাবে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওলি-র সিপিএন (ইউএমএল) ৫ টি আসনে এগিয়ে আছেন। নেপালি কংগ্রেস, যার প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী গগন থাপা, প্রাথমিক গণনায় ৯টি আসনে এগিয়ে, তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পুশ্পকমল ধল ‘প্রচণ্ড’ নেতৃত্বাধীন নেপালি কমিউনিস্ট পার্টি দুটি আসনে এগিয়ে, এবং প্রো-মোনার্কি রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি একটি আসনে। প্রচণ্ড নিজে রুকুম পূর্ব-১ কেন্দ্র থেকে এগিয়ে রয়েছে। ঝাপা-৫ আসনে বলেন্দ্র শাহ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ওলির চেয়ে ১,৭৪৮ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
দীর্ঘ অস্থিরতার পর, নেপালের জাতীয় নির্বাচনের ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। নির্বাচনের জন্য ১৮.৯ মিলিয়ন ভোটার নিবন্ধিত ছিলেন। নির্বাচিত হবেন ২৭৫ সদস্য হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর। এর মধ্যে ১৬৫ আসন সরাসরি ভোটে এবং ১১০ আসন সমানুপাতিক ভোটে নির্বাচিত হবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্বাচনের ফলাফল শুধু নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যা নয়, বরং নেপালের রাজনৈতিক মনোভাবেরও প্রতিফলন। শহুরে যুবসমাজ ও তরুণ ভোটারদের সমর্থনকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক শক্তি আরএসপি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা ও অপেক্ষার মুহূর্ত চলছে। ভোট গণনা বৃহস্পতিবার রাতে শুরু হয়ে শুক্রবার রাতের মধ্যেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, নেপালে গত সেপ্টেম্বর মাসে তরুণ জেন জি বিক্ষোভের প্রভাবে প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি সরকারের পতন ঘটে। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন। একাধিক আলোচনার পর, ৫ মার্চের জন্য সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে নেপালের নির্বাচন কমিশন। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মোট ৬৫টি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। প্রথম থেকেই, নেপালের জেন জি-দের একটি বড়ো অংশের পছন্দ ছিল প্রাক্তন গায়ক ও কাঠমান্ডু শহরের প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ। তিনি সেপ্টেম্বর আন্দোলনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষকও ছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট নেতা ওলির বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর দল, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি, ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করেছিল। অন্যদিকে, নেপালি কংগ্রেসের মধ্যে অভ্যুত্থানের পর প্রবীণ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাকে সভাপতিপদ থেকে সরিয়ে দেন ৪৯ বছরের গগন থাপা, যিনি এবার প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ের অন্যতম প্রার্থী। এছাড়াও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রাক্তন মাওবাদী গেরিলা নেতা ‘প্রচণ্ড’-ও।
❤ Support Us





