- দে । শ
- জানুয়ারি ১৩, ২০২৫
কোশিগ্রামে অরন্ধন দিবস পালন কেন ?
কোভিডের থেকেও ব্যাপক আকার নিয়েছিল মহামারী কলেরা। আজ থেকে প্রায় ১৭০ বছর আগে। গোটা গ্রাম উজাড় হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় মানচিত্র থেকে মুছে যেতে বসেছিল কাটোয়ার কোশিগ্রাম। প্রাণভয়ে গ্রামের বাসিন্দারা পাট গুটিয়ে যে অন্যত্র চলে যাবেন, তার উপায়ও ছিল না। কারণ আশপাশের সব গ্রামেরই একই হাল। সেইসময় নদীয়ার বল্লভপাড়া থেকে একেবারে পয়গম্বরের মত উদয় হন সুজন শা ফকির। তাঁর ওষুধ একেবারে ম্যাজিকের মত কাজ করে। সুস্থ হতে থাকেন একের পর এক আক্রান্ত। ফকির নিষেধ মেনে টানা ৭ দিন গ্রামের কোনও পুকুরের জল স্পর্শ করেননি বাসিন্দারা। গ্রামের সমস্ত বাসিন্দা মাঠে গিয়ে রান্না করেন। মাঠের পুকুরের জল ব্যবহার করেন। সেই থেকে প্রতীক হিসেবে পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন গোটা গ্রামে পালিত হয় অরন্ধন।
গ্রামের বাইরে কাটোয়া-সিউড়ি বাসরাস্তার ধারে কোশিগ্রাম ইউনিয়ন স্কুলের উল্টোদিকের মাঠে গ্রামের বাসিন্দারা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে মাতেন গণ-চড়ুইভাতিতে। মেন্যু নিরামিষ। কোথাও খিচুড়ি, আলুর দম, চাটনি। কোথাও ভাত, ডাল, বাঁধাকপি, মুলো-বেগুনের টক। সুজন ফকিরের ইন্তেকাল হয়েছে। তবে তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন ফি-বছর পৌষ সংক্রান্তির আগের দিন গ্রামে আসতেন। মাঠে বসে সকলের সঙ্গে গ্রামের ভালোমন্দ নিয়ে আলোচনা করতেন। চড়ুইভাতিতে যোগ দেওয়া গ্রামের বাসিন্দা বীরেন ঘোষ, রণজিৎ মণ্ডলরা বলছিলেন, ‘এই চড়ুইভাতির একটা অভিনব বৈশিষ্ট্য হল, রান্নার কোনও কাজে মহিলারা হাত লাগান না। স্বামী-শ্বশুর-দেওর-ছেলেদের হাতের রান্না খান পাত পেড়ে। আর বিচার করেন, নুন-ঝাল-মিষ্টি ঠিকঠাক হল কিনা!’
❤ Support Us





