Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা বি। দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ২, ২০২৫

সুদানে ভয়ঙ্কর ভূমিধসে গোটা গ্রাম নিশ্চিহ্ন, নিহত হাজারেরও বেশি, একজন মাত্র জীবিত

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সুদানে ভয়ঙ্কর ভূমিধসে গোটা গ্রাম নিশ্চিহ্ন, নিহত হাজারেরও বেশি, একজন মাত্র জীবিত

২ বছর ধরে গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সুদান। দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ খাদ্য সংকটে ভুগছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। উত্তর দারফুর রাজ্যের রাজধানী আল–ফাশির আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এর মাঝেই আবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কেঁপে উঠল সুদান। ভূমিধসে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত একটা গ্রাম সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস। ১০০০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। একজন মাত্র জীবিত।
ঘটনাটি ঘটেছে সুদানের পশ্চিমাঞ্চলের মারারা পর্বতমালা এলাকায়। ৩১ আগস্ট পশ্চিমাঞ্চলের একটা গ্রামে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। সুদান লিবারেশন মুভমেন্ট আর্মি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের পর রবিবার এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসে। ভয়াবহ ভূমিধস মারা পাহাড়ের তারাসিন গ্রামকে পরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। এই গ্রুপের পক্ষ থেকে বলে হয়েছে, ‘‌প্রাথমিক তথ্য অনুসারে গ্রামের সব বাসিন্দার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এক হাজারেরও বেশি মানুষ বসবাস করত। সেনাবিহিনী জানিয়েছে, গ্রামের একটা ছোট ছেলে বেঁচে রয়েছে। লেবু উৎপাদনের জন্য পরিচিত এলাকাটি।
দারফুর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণকারী সুদান লিবারেশন মুভমেন্ট আর্মি জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলির কাছে মৃতদেহ উদ্ধারে সাহায্য করার জন্য আবেদন করেছে। উত্তর দারফুর রাজ্যে সুদানী সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের মধ্যে চলমান যুদ্ধ থেকে পালিয়ে সুদানী বাসিন্দারা মারা পর্বতমালা এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন, যেখানে খাদ্য ও ওষুধের অভাব রয়েছে।
দারফুরের সেনাবাহিনী সমর্থিত গভর্নর মিন্নি মিন্নাউই ভূমিধসকে মানবিক ট্র্যাজেডি বলে অভিহিত করেছেন, যা এই অঞ্চলের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘‌আমরা আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলির কাছে এই সংকটময় মুহূর্তে জরুরিভাবে হস্তক্ষেপ ও সহায়তা প্রদানের জন্য আবেদন করছি।’‌ চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে দারফুরের ভূমিধসে বিধ্বস্ত এলাকাসহ বেশিরভাগ অংশে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলির এখনও পৌঁছতে পারেনি। যার ফলে এই এলাকায় জরুরি মানবিক সহায়তা সরবরাহ মারাত্মকভাবে সীমিত।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদান সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল–বুরহান এবং তাঁর প্রাক্তন ডেপুটি আরএসএফ কমান্ডার মোহাম্মদ হামদান দাগলোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ধারাবাহিক আক্রমণের মাধ্যমে, বুরহানের বাহিনী এই বছর মধ্য সুদান পুনরুদ্ধার করে, আরএসএফ দারফুরের বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়, যেখানে তারা একটা রাজ্যের রাজধানী আল–ফাশির ছাড়া বাকি সবগুলি এবং দক্ষিণ কর্দোফানের কিছু অংশ জয় করেছে। এই লড়াইয়ে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে কেবল রাজধানী থেকে প্রায় চার মিলিয়ন মানুষও রয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!