Advertisement
  • বি। দে । শ
  • জুলাই ১৮, ২০২৬

‌চিনে ভয়াবহ ভূমিধসে নিহত ৮, নিখোঁজ ৩৪

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‌চিনে ভয়াবহ ভূমিধসে নিহত ৮, নিখোঁজ ৩৪

শুক্রবার দক্ষিণ–পশ্চিম চিনের শহর চংকিং-এ ভূমিধসে ৮ নিহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। ১১০০ জনেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে যে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা বেজে ৮ মিনিটের দিকে চংকিংয়ের পেংশুই কাউন্টির একটা পাহাড় থেকে পাথর ও কাদা ধসে পড়ে ১০টিরও বেশি আবাসিক ভবন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে ভূমিধসস্থলের এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে জল, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে ৮০০ জনেরও বেশি উদ্ধারকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সম্প্রচারকারী সংস্থার মতে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পাহাড়ের একটা অংশ আবাসিক এলাকার ওপর ধসে পড়ছে। ভূমিধসস্থলের কাছে বেশ কয়েকটা ভবন ছিল। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের সন্ধান চালাচ্ছে।
ভূমিধসের ঘটনা দ্রুত ঘটে এবং এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, অনেকেই পালাতে না পেরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। ঢাল বেয়ে বিপুল পরিমাণ পাথর ও কাদা গড়িয়ে পড়ে ১০টিরও বেশি আবাসিক ভবন চাপা দিয়েছে। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সিনহুয়া সংবাদ সংস্থার মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া ১৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট এই ভূমিধসটি উজিয়াং নদীর একটা অংশের কাছে ঘটেছে, যা ছোট ছোট শহর ও ধাপযুক্ত কৃষি পর্বতমালার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। পেংশুই কাউন্টি চংকিং–এর দক্ষিণ–পূর্ব অংশে হুবেই এবং গুইঝৌ প্রদেশের সীমান্তে অবস্থিত। উত্তর•পশ্চিমের গানসু প্রদেশে আরেকটি ভূমিধসে ৩৩ জন চাপা পড়ার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে চংকিং–এর এই ভূমিধসটি ঘটল, যেখানে ২১ জন নিহত হয়েছিলেন।
স্থানীয় কর্মকর্তা জানান, যে এলাকায় ভূমিধসটি ঘটেছে সেটি তার অপ্রত্যাশিত খাড়া ভূখণ্ডের জন্য পরিচিত। তিনি আরও বলেন যে, খাড়া পাহাড়ের পাশ বরাবর এখনও বিপজ্জনক পাথর রয়ে গেছে। ভবনগুলোর পাশ থেকে পাথরের বড় বড় খণ্ড ধসে নিচের জলাশয়ে পড়ে গিয়েছিল। ভূমিধসের স্থান থেকে এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বিদ্যুৎ, জল ও গ্যাস সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিদ্যুতের খুঁটিগুলো চাপা পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এলাকাটির কাছে বেশ কয়েকটি ভবন ছিল। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৮০০ জনেরও বেশি উদ্ধারকর্মী এই কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। প্রায় ৫ ও ১৫ তলা উঁচু দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকাটিতে ৮০০০-এরও বেশি ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবার, তাঁবু, বিছানা, ঔষুধ এবং জরুরি কিট রয়েছে।

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!