Advertisement
  • দে । শ
  • এপ্রিল ২১, ২০২৫

খন্ডহর দশা ২৫০ বছরের পুরনো মন্দিরের । সংস্কারের আর্জি দাঁইহাটের বাসিন্দাদের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
খন্ডহর দশা ২৫০ বছরের পুরনো মন্দিরের । সংস্কারের আর্জি দাঁইহাটের বাসিন্দাদের

রামনবমীর দিন রামের ছবি, মূর্তি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। দাঁইহাট শহরের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা চাইছেন, সংস্কারের অভাবে জীর্ণ হয়ে পড়া রাম মন্দিরের হাল ফেরানোর ব্যবস্থা করুক বিজেপি। এই ওয়ার্ডের বেড়া এলাকায় মোহান্ত পরিবারের প্রায় ২৫০ বছরের পুরনো রাম মন্দিরটির খণ্ডহর দশা। পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন, শুধু রামনবমীতে মিছিল, অস্ত্র প্রদর্শন করলে হবে ? দাঁইহাটের মত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু রামমন্দির ভগ্নপ্রায়। সেগুলির হাল ফেরাতে বিজেপির নেতারা কী করছেন ? দাঁইহাট শহর তৃণমূল সভাপতি রাধানাথ ভট্টাচার্যর কথায়, ‘সংকীর্ণ আর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির তাস খেলে বিজেপি ক্ষমতায় থাকতে চাইছে। এটা মানুষের কাছে জলের মত স্পষ্ট।’ দাঁইহাটের মহান্ত পরিবারের এই রাম মন্দির সম্পর্কে যা জানা গেল, আজ থেকে প্রায় ২৭০ বছর আগে পশ্চিম ভারত থেকে রামানন্দ তেওয়ারি নামে এক ধর্মপ্রাণ, শিক্ষাব্রতী মানুষ ভাগীরথী লাগোয়া দাঁইহাটে আসেন। তিনি বেড়া এলাকায় একটি টোল খুলেছিলেন। মূলত সংস্কৃত আর পার্সি ভাষা শিক্ষা দিতেন। টোলের পাশেই একটি রামলালার মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দিরের গর্ভগৃহে ঠাঁই হয় রাম, লক্ষ্মণ, সীতা ও হনুমানের দারুমূর্তির। রয়েছে জগন্নাথেরও মূর্তি আর ১০৮টি নারায়ণ শিলা। এখনও নিত্যপূজা হয়। তবে আগের মত রামনবমীতে মহা ধূমধাম হয় না। গোটা এলাকার মানুষজনকে যেটুকু সামর্থ্য প্রসাদ বিলি করা হয়। এলাকায় তখন ঘরে ঘরে তুলসিদাসের ‘রামচরিত মানস’ পড়ারও চল ছিল। রামানন্দ ছিলেন নিঃসন্তান। মৃত্যুর আগে বেড়া গ্রামেরই বাসিন্দা গোকুলচন্দ্র ব্যানার্জি নামে এক ব্যক্তিকে মন্দির ও পুজোর দায়িত্ব দেন রামানন্দ। সেইসঙ্গে ‘মহান্ত’ উপাধি দেন।

মহান্ত পরিবারের বর্তমান প্রজন্মের সদস্যরা বলছিলেন, ‘মূল মন্দিরটা বহুকাল আগে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর এই ছোট রাম মন্দিরটা গড়া হয়। সেটারও বেহাল দশা। এলাকায়তো রামভক্তির বন্যা বইছে। সেটা ভেবে এই মন্দিরটা কেউ যদি সংস্কার করে দেন, তাহলে খুব ভাল হয়।’ তবে একেবারেই যে চেষ্টা করা হয়নি, তা নয়। পরিবারের সদস্যদের অবস্থা ভাল নয়। কেউ ইটভাটায় কাজ করেন। কারও জীবিকা ফল বিক্রি। তবুও সংসার খরচ থেকে কিছু কিছু করে বাঁচিয়ে লাখ দশেক টাকা জমিয়ে সেই টাকায় কিছুটা সংস্কার করেছেন। তবে কাজ এখনও অনেকখানি বাকি। সেই কাজ শেষ করার আর্জি জানাচ্ছেন মন্দিরের সেবাইতরা।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!