- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ৬, ২০২৫
কফ সিরাপ কাণ্ড, ১৬ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার চিকিৎসক
মধ্যপ্রদেশের চিন্দওয়ারা ও বেতুল জেলায় ১৬ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা দেশজুড়ে। অভিযোগ উঠেছে, এই শিশুরা কোল্ডরিফ Coldrif নামক একটি কফ সিরাপ খাওয়ার পর প্রাণ হারিয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে প্রবীণ শিশু চিকিৎসক ডঃ প্রবীণ সোনিকে। তিনি চিন্দওয়ারা জেলার পারাসিয়া শহরের এক সরকারি হাসপাতালে নিযুক্ত ছিলেন এবং একটি বেসরকারি চেম্বারও চালাতেন।
গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টা আগেই একটি জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডঃ সোনি বলেন, “এই সিরাপ একদিনের চিকিৎসা নয়। আমি এই কোম্পানির ওষুধ গত ১০ বছর ধরে প্রেসক্রাইব করছি। চিকিৎসক ওষুধের ফর্মুলেশন ঠিক করেন না। আমরা সিল করা, প্রস্তুত ওষুধ পাই।”
তিনি আরও জানান, বর্ষাকালে ভাইরাল জ্বর ও সর্দি-কাশি-জ্বরের লক্ষণ নিয়ে শতাধিক শিশু তাঁর কাছে চিকিৎসার জন্য এসেছিল এবং তিনি তাঁর অভ্যাসমাফিক ওষুধ দিয়েছিলেন।
তবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় কাফসিরাপে ৪৮.৬% ডায়েথিলিন গ্লাইকোল (Diethylene Glycol – DEG) পাওয়া গেছে, যা এক বিষাক্ত রাসায়নিক। এই রাসায়িক শরীরে প্রবেশ করলে তা কিডনি অকেজো করে দিতে পারে এবং মৃত্যু ঘটাতে পারে।
পুলিশ ডঃ সোনি এবং ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার বিরুদ্ধে Drugs and Cosmetics Act ও ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে। শিশুদের মৃত্যুর পরই রাজ্য সরকার তৎপর হয়।
মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব ডঃ সোনির বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন এবং রাজ্যজুড়ে ওই কাফসিরাপের বিক্রি ও বিতরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। চিন্দওয়ারা জেলার ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডাঃ কল্যাণা শुक্লা জানিয়েছেন, “ডঃ সোনিকে মুক্তি না দিলে সমস্ত চিকিৎসক অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে যাবেন।”
সরকারি হিসেব অনুযায়ী, মৃত ১৬ জন শিশুর মধ্যে ১১ জন পারাসিয়া সাবডিভিশনের, ২ জন চিন্দওয়ারা শহরের, ১ জন চৌরাই তহশিলের,
এবং ২ জন বেতুল জেলার বাসিন্দা।
ঘটনার পর, স্বাস্থ্য বিভাগ ডঃ সোনিকে নির্দেশ দেয় যেন তিনি আপাতত শিশুদের দেখা বন্ধ করেন। তিনি নিজেই জানান, এই মুহূর্তে তিনি নবজাতক ও শিশুদের দেখা বন্ধ রেখেছেন প্রশাসনের পরামর্শে।
তিনি বলেন, “কোনও ওষুধের দোকান বা ফার্মেসি থেকে ওষুধ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা বা সতর্কতা জারি করা হয়নি। আমি শুধুমাত্র রোগীর জন্য প্রেসক্রিপশন লিখি।”
ডায়েথিলিন গ্লাইকোলের বিষক্রিয়ায় ১৬টি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু শুধু প্রশাসনিক গাফিলতির নয়, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। এখন দেখার বিষয়, তদন্তে কী উঠে আসে এবং এই ঘটনায় দায়ী প্রকৃত অপরাধীদের কীভাবে শাস্তির আওতায় আনা হয়।
❤ Support Us








