Advertisement
  • টে | ক | স | ই বি। দে । শ
  • আগস্ট ১৯, ২০২৬

বিশ্বের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক বিমানের প্রথম উড়ান, ভবিষ্যতে সস্তা হবে বিমানযাত্রা ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিশ্বের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক বিমানের প্রথম উড়ান, ভবিষ্যতে সস্তা হবে বিমানযাত্রা ?

বিমানের জ্বালানি হিসেবে বিদ্যুতের ব্যবহার যদি ভবিষ্যতে সফল হয়, তাহলে কি একদিন এক কাপ কফির দামের চেয়েও কম খরচে একটি বিমান উড়ানো সম্ভব হবে ? কথাটি এখন অবিশ্বাস্য মনে হলেও, যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি হওয়া একটি পরীক্ষামূলক উড়ান ভবিষ্যতের বিমান পরিবহনের সম্ভাবনার একটি আকর্ষণীয় ছবি তুলে ধরেছে ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিমান নির্মাণ সংস্থা Heart Aerospace তাদের পূর্ণ আকারের বৈদ্যুতিক বিমান X1-এর প্রথম উড়ান সম্পন্ন করেছে । পরীক্ষামূলক এই উড়ানটি ২৭ মিনিট স্থায়ী হয় এবং পুরো সময় বিমানটি শুধুমাত্র ব্যাটারির শক্তিতে উড়েছে । এই উড়ানে প্রায় ৫ ডলার, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫০০ টাকা মূল্যের বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে ।

বিমানটি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে প্রায় ১,১০০ ফুট বা ৩৩৫ মিটার উচ্চতায় ওঠে। পরীক্ষাটি সফলভাবে শেষ হয় একজন পাইলটকে নিয়ে। তবে এই উড়ানে কোনো যাত্রী ছিলেন না।

X1 কোনো ছোট আকারের পরীক্ষামূলক বিমান নয় । এর ডানার বিস্তার ১০৬ ফুট, নাক থেকে লেজ পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ৭৬ ফুট এবং ওজন ২৫,০০০ পাউন্ডেরও বেশি । অর্থাৎ খালি অবস্থায় এর ওজন প্রায় একটি স্কুলবাসের সমান ।
তবে এই ২৭ মিনিটের উড়ানে ৫ ডলার খরচ হয়েছে বলে ভবিষ্যতে মাত্র ৫০০ টাকায় বিমানে চড়া যাবে — এমনটা ভাবা ঠিক হবে না । কারণ এই ৫ ডলারের হিসাব শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক উড়ানে ব্যবহৃত বিদ্যুতের খরচ বোঝায় ।
এর মধ্যে পাইলটের বেতন, বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, বিমানবন্দর ব্যবহার ও অন্যান্য চার্জ, বিমার খরচ, বিমানের অর্থায়ন এবং ব্যাটারি পরিবর্তন বা ব্যাটারির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়।
তবুও এত কম শক্তি-খরচ বৈদ্যুতিক বিমান চলাচলের অন্যতম বড় সম্ভাব্য সুবিধার দিকে ইঙ্গিত করছে ।
Heart Aerospace-এর প্রতিষ্ঠাতা ও CEO Anders Forslund-এর মতে, বৈদ্যুতিক বাণিজ্যিক বিমান ভবিষ্যতে বিমান সংস্থাগুলির অর্থনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত বিমানযাত্রার খরচ কমাতেও সাহায্য করতে পারে ।

X1 মূলত Heart Aerospace-এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রযুক্তি পরীক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে । সংস্থাটি ES-30 নামে একটি ৩০ আসনের হাইব্রিড-ইলেকট্রিক বিমান বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে । কোম্পানির লক্ষ্য, এই বিমানটি ২০৩১ সালের মধ্যে পরিষেবায় আনা ।

Heart Aerospace-এর হিসাব অনুযায়ী, ES-30 প্রচলিত আঞ্চলিক বিমানের তুলনায় বিমানের পরিচালন ব্যয় ৪০ শতাংশেরও বেশি কমাতে পারে ।

এই সাশ্রয়ের পেছনে কয়েকটি কারণ —

  • বিদ্যুতের তুলনামূলক কম শক্তি-খরচ
  • রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কমে যাওয়া
  • বিমানের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি
  • প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো

ইতিমধ্যেই United Airlines, Air Canada এবং JSX-এর মতো বিমান সংস্থাগুলি এই বিমানের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে ।

ভবিষ্যতে বিমানের টিকিটের দাম কমবে ?

বৈদ্যুতিক বিমান চালু হলেই যে বিমানের টিকিটের দাম রাতারাতি অনেক কমে যাবে, তা নয় । কারণ একটি বিমান পরিচালনার মোট খরচ শুধু জ্বালানি বা বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে না । কর, বিমানবন্দর ফি, কর্মীদের বেতন, বিমানের অর্থায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ, বিমা এবং যাত্রীদের চাহিদা — সবকিছুই টিকিটের দামের ওপর প্রভাব ফেলে । তাই X1-এর ২৭ মিনিটের উড়ানে মাত্র ৫০০ টাকার বিদ্যুৎ খরচ হওয়াকে সরাসরি ভবিষ্যতের টিকিটের দাম হিসেবে দেখা যাবে না । তবে প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারলে বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। আর সেই সাশ্রয়ের একটি অংশ ভবিষ্যতে যাত্রীদের কাছেও পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে । বৈদ্যুতিক বিমানের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে স্বল্প দূরত্বের আঞ্চলিক বিমানপথে । ছোট আকারের বিমান কম শক্তি ব্যবহার করে এবং তুলনামূলকভাবে কম রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন হলে এসব রুট পরিচালনা করা বিমান সংস্থাগুলির জন্য সস্তা হতে পারে । ভবিষ্যতে ছোট শহর ও আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলির মধ্যে বিমান পরিষেবা আরও সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য হয়ে উঠতে পারে ।

অর্থাৎ, “৫০০ টাকায় বিমানযাত্রা” এখনই বাস্তবতা নয়, কিন্তু X1-এর প্রথম উড়ান দেখিয়ে দিয়েছে যে বিমান চালানোর শক্তি-খরচ নাটকীয়ভাবে কমানোর সম্ভাবনা আর শুধুই কল্পনা নয়। ব্যাটারি প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক প্রপালশন এবং হাইব্রিড বিমান প্রযুক্তি আরও উন্নত হলে আগামী দশকে স্বল্প দূরত্বের বিমানযাত্রার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!