- দে । শ
- জুলাই ১৫, ২০২৬
নতুন মাইলফলক! রাষ্ট্রপতির ‘এডিসি’ পদে মহিলা সেনা অফিসার মেজর নব্যা শেখাওয়াত
ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। কঠোর পরিশ্রম, দক্ষতা আর নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ‘এইড-ডি-ক্যাম্প’ (এডিসি) হিসেবে দায়িত্ব পেলেন মেজর নব্যা শেখাওয়াত। এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে তিনিই হয়ে উঠলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রথম মহিলা অফিসার, যিনি রাষ্ট্রপতির ‘এডিসি’ বা সামরিক সহকারী অফিসার পদে নিযুক্ত হলেন। সেনাবাহিনীতে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এ ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক বলেই মনে করছে প্রতিরক্ষা মহল।
রাষ্ট্রপতির ‘এডিসি’ পদ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব। রাষ্ট্রপতির সরকারি অনুষ্ঠান, সামরিক কুচকাওয়াজ, রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা, বিদেশি প্রতিনিধিদলের সফর কিংবা বিভিন্ন সাংবিধানিক কর্মসূচিতে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ‘এডিসি’ অফিসাররা। ফলে এ পদে নিয়োগকে শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বরং সশস্ত্র বাহিনীর তরফে বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবেও দেখা হয়। বর্তমানে ‘আর্মি সার্ভিস কর্পস’-এর (এএসসি) অফিসার মেজর নব্যা শেখাওয়াত। রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁর এ নিয়োগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে যায় সামাজিক মাধ্যমে। অনেকের মতে, এটি শুধু এক জন অফিসারের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং ভারতীয় সেনাবাহিনীতে মহিলাদের দীর্ঘ পথচলার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, নব্যার সেনাজীবনের শুরু ‘কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিসেস’ (সিডিএস) পরীক্ষার মাধ্যমে। ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি) আয়োজিত ওই কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ‘অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমি’ (ওটিএ), চেন্নাইয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ পান। কঠোর শারীরিক অনুশীলন, নেতৃত্বের পরীক্ষা এবং সামরিক শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন তিনি। পরবর্তী সময়ে তাঁকে ‘আর্মি সার্ভিস কর্পস’-এ নিয়োগ করা হয়। সেনাবাহিনীর এই শাখা মূলত রসদ, পরিবহণ, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের দায়িত্ব সামলায়। যুদ্ধক্ষেত্রে সামনের সারির বাহিনী যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তাদের পিছনে নিরবচ্ছিন্ন রসদ জোগানের দায়িত্বও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। সে দায়িত্ব সামলানো ‘এএসসি’-র এক তরুণ অফিসার থেকে রাষ্ট্রপতির ‘এডিসি’— নব্যার উত্থান দেশের লাখো লাখো কিশোরী, তরুণীদের কাছে অনুপ্রেরণার।
বিশেষ তাৎপর্যের বিষয়, ২০২৫ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার যশস্বী সোলাঙ্কি প্রথম মহিলা অফিসার হিসেবে রাষ্ট্রপতির ‘এডিসি’ পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তার এক বছরের মধ্যেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে সে ইতিহাসে নাম লেখালেন মেজর নব্যা শেখাওয়াত। ফলে রাষ্ট্রপতি ভবনের মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্বে মহিলাদের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হলো। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এ নিয়োগকে বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেও দেখার প্রয়োজন রয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ায় ‘শর্ট সার্ভিস কমিশন’-এর মাধ্যমে মহিলাদের সেনাবাহিনীতে প্রবেশের পথ খুলেছিল। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে তাঁদের দায়িত্ব ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পর পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। স্থায়ী কমিশন, কমান্ড দায়িত্ব এবং উচ্চপদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়। মেজর শেখাওয়াতের নিয়োগ সে পরিবর্তনেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন অনেকে।
রাষ্ট্রপতি ভবনের বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে ইতিমধ্যেই মেজর শেখাওয়াতকে রাষ্ট্রপতির পাশে দেখা গিয়েছে। তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষেরও। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখা বহু তরুণীর কাছে তিনি হয়ে উঠেছেন প্রেরণার নাম। সেনা সূত্রের বক্তব্য, রাষ্ট্রপতির ‘এডিসি’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজন অসাধারণ পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং প্রোটোকল সম্পর্কে গভীর জ্ঞান। মেজর শেখাওয়াতের নির্বাচন প্রমাণ করে, এ সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
❤ Support Us





