- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- এপ্রিল ৩০, ২০২৬
‘আমরা ২২৬ ক্রস করব, ২৩০-ও পেয়ে যেতে পারি’, বুথ ফেরত সমীক্ষা উড়িয়ে ভিডিও বার্তায় দাবি তৃণমূল নেত্রীর
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি অভিযোগ করেছেন, বিজেপি টাকা দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে প্রভাবিত করে ওই সমীক্ষার ফলাফল দেখাতে বাধ্য করেছে । তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস এ রাজ্যে ২২৬টিরও বেশি আসনে জয়ী হবে, এমনকি ২৩০-ও পেতে পারে ।
বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ পেতে শুরু করে । অধিকাংশ সমীক্ষাতেই ইঙ্গিত মেলে যে বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে পারে । ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৪৮টি আসন, এবং বেশিরভাগ সমীক্ষায় বিজেপিকে ১৫০-এর বেশি আসন পেতে দেখা যায় ।
এই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় মমতা রাজ্যের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রচণ্ড গরম ও নানা বাধা সত্ত্বেও মানুষ যেভাবে ভোট দিয়েছেন, তা প্রশংসনীয় । তিনি দলীয় কর্মীদেরও কৃতজ্ঞতা জানান, তাঁদের সংগ্রাম ও ত্যাগের কথা উল্লেখ করেন । তাঁর বক্তব্য, যারা বাংলাকে দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল, তারা ভোটবাক্সে পরাজিত হয়েছে ।
বুথফেরত সমীক্ষা সম্পর্কে তিনি দাবি করেন, আগের দিন দুপুর ১টা ৮ মিনিটে বিজেপির দফতর থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল এবং সংবাদমাধ্যমকে টাকা দিয়ে নির্দিষ্ট ফল দেখাতে বলা হয়েছে । তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সমীক্ষা বাস্তবতার প্রতিফলন নয় এবং তৃণমূল বিপুল ব্যবধানে জিতবে ।
ভোট চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগও তোলেন তিনি । তাঁর দাবি, বিশেষ করে নতুন নিযুক্ত কিছু পুলিশ সদস্য সাধারণ মানুষ, এমনকি মহিলা ও শিশুদের উপরও হামলা চালিয়েছে । উদয়নরায়ণপুরে ভোট দিতে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনাতেও তিনি শোকপ্রকাশ করেন এবং তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন ।
মমতার অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীদের একতরফাভাবে মারধর করা হয়েছে এবং অনেককে ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে । তিনি ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া, জগদ্দল এবং ভবানীপুরের মতো কয়েকটি কেন্দ্রের উদাহরণ দেন । তাঁর কথায়, দলীয় কর্মীদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে বাধা দিতেই এই হামলা করা হয়েছে ।
তিনি বুথফেরত সমীক্ষাকে ‘বিজেপির চক্রান্ত’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, প্রকৃত ফলাফল সামনে এলে শেয়ার বাজারে ধস নামতে পারে, তাই তা আটকাতেই এই ধরনের সমীক্ষা প্রচার করা হয়েছে । অতীতের ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনেও এমন বিভ্রান্তিকর সমীক্ষার কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন ।
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি কড়া নির্দেশ দেন যে গণনাকেন্দ্র কড়া পাহারায় রাখতে হবে । প্রয়োজনে তিনি নিজেও সেখানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানান । তাঁর আশঙ্কা, গণনার সময় ইভিএম বদলের চেষ্টা হতে পারে । তাই তিনি নির্দেশ দেন, গণনার টেবিল কোনওভাবেই ফাঁকা রাখা যাবে না এবং বিশ্বস্ত কর্মীদের দায়িত্বে থাকতে হবে ।
তিনি বলেন, কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে, তবে কোনওভাবেই উত্তেজিত হয়ে আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না । আক্রমণের মুখেও শান্ত ও সংযত থাকার পরামর্শ দেন এবং প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান, গণনার দিন যেন কোনও রাজনৈতিক কর্মীর উপর অত্যাচার না করা হয় ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির হয়ে কাজ করেছে এবং এর পেছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি ভূমিকা রয়েছে । প্রধানমন্ত্রীকেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, তিনি বাংলাকে চেনেন না বা বোঝেন না ।
শেষে তিনি জানান, গণনার দিন সব প্রার্থীদের সক্রিয় থাকতে হবে এবং তিনি নিজে জয় সম্পর্কে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী ।
❤ Support Us





