- প্রচ্ছদ রচনা
- মে ৩০, ২০২২
‘আমার দলের হলে টেনে ৪টে থাপ্পড় মারতাম’, জেলাশাসককে ভর্ৎসনা মুখ্যমন্ত্রীর
পুরুলিয়ায় প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরুতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন । এরপরই প্রশাসনিক কাজ কেন ফেলে রাখা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক কাজে দ্রুততা আনতে হবে, ফেলে রাখলে চলবে না। ‘ এই সভায় একাধিক অভিযোগ আসে তাঁর সামনে। ইটভাটা থেকে পাওয়া রাজস্বের হিসেবে একাধিক গড়মিলের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ, সেই সব টাকা সরকারি কর্মচারীদের ‘পকেটে’ চলে যাচ্ছে একাংশ। আর প্রশাসনিক সভার মধ্যে এই ধরনের অভিযোগ উঠতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মমতা। তাঁর পুরো রাগ গিয়ে পড়ে জেলাশাসক রাহুল মজুমদারের উপর। সরাসরি পুরুলিয়ার জেলাশাসকের উদ্দেশে মমতা বলেন, জেলাশাসকের প্রতি তাঁর ধারণাই বদলে গেল । তার সঙ্গে সঙ্গে আরও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডিএম শুনতে পাচ্ছো? এগুলো কিন্তু টিএমসি করেনি। করছে প্রশাসনের নীচু তলার কর্মীরা। নিজেরা টাকাটা নেয়, নিজেরাই খেয়ে নেয়! কী জেলা চালাচ্ছ তুমি (জেলাশাসক)? এত দিন জেলায় আছ। আমার ধারণাটাই বদলে গেল।’ তবে এখানেই থেমে যাননি তিনি। তার সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “এত কিছু দিচ্ছি মানুষকে, তবু কয়েকজন এত লোভী কেন হয়ে গিয়েছে। আর কত চাই? আমার দলের লোক হলে আমি টেনে চারটে থাপ্পড় মারতাম। তাদের আমি সবসময় শাসন করি । আমি কথা বলছি (প্রশাসনিক বৈঠকে), তোমার পুলিশ চলে যাবে, তদন্ত করবে । একে বলে প্রশাসন, একে বলে কাজ । গরিব মানুষ যখন একটা কমপ্লেন করে, আমি নিতে পারি না। সে যেই হোক।’এরপর মমতা আরও বলেন, ‘পলিটিকাল লোকেদের বিরুদ্ধে বদনামটা বেশি রটে। কিন্তু যাঁরা সরকারের কাজটা করে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন তাঁদের তো ভালো ফেস নিয়ে কাজটা করতে হবে। তবেই তো সুনাম থাকবে। দুর্নামের সঙ্গে কাজ করাটা আমাদের কারওই প্রত্যাশিত নয়। কেউ ভুলভ্রান্তি করে থাকলে বলরামপুরের যাঁরা আছেন তাঁরা শুধরে নেবেন। আর বদনাম করার জন্য কেউ কিছু করে থাকলে আপনারা তার বিরুদ্ধে এফআইআর করুন। দুয়ারে সরকারে যাঁরা যাচ্ছেন, কাজ করে দেবেন। এবার আর অনুরোধ নয়, সোজাসুজি নির্দেশ দিচ্ছি।’ সরাসরি নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
❤ Support Us







