Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা
  • মার্চ ২, ২০২২

পাহাড় থেকে সমতল, সর্বত্র সবুজের উচ্ছ্বাস। তাহেরপুর লালে লাল ।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পাহাড় থেকে সমতল, সর্বত্র সবুজের উচ্ছ্বাস। তাহেরপুর লালে লাল ।

১০৮ পুরসভায় তৃণমূলের জয়জয়কার। বিশাল জয়ের পর দলের কর্মী-সমর্থক ও নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইটারে নেত্রী লিখলেন, ‘আমাদের বিশাল জয়ের জন্য মা-মাটি-মানুষকে ধন্যবাদ। জয়ী প্রার্থীদের অনেক শুভেচ্ছা। জয়ের সঙ্গেই দায়িত্ব বেড়ে যায় । ‘
সবুজ ঝড়ে কুপকাৎ বিরোধীরা । দীর্ঘদিন ধরে জয়নগর-মজিলপুর পুরসভা কংগ্রেসের দখলে ছিল । এবার সেখানে জয় ছিনিয়ে এনেছে তৃণমূল । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা, ‘পাহাড় থেকে জঙ্গল, সুন্দরবন থেকে বর্ধমান, বীরভূম থেকে নবদ্বীপ, শান্তিপুর প্রতিটা জায়গা। ব্যারাকপুর থেকে বাগদা বনগাঁ সব, যে জয়নগরে আমরা জীবনে কোনওদিন জিতিনি পুরভোটে সেখানেও এত বড় জয় মানুষের কাজ করতে আমাদের আরও এগিয়ে দেবে । যত জিতব তত যেন নম্র হই, শান্ত হই। মানুষের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করে মানুষের পাশে থাকতে হবে ।’

পুরভোটে এবার দার্জিলিংয়ে নতুন সমীকরণ । অজয় এডওয়ার্ডের হামরো পার্টি বোর্ড তৈরি করতে চলেছে সেখানে । মাত্র ছয় মাস আগে অজয় এডওয়ার্ডের নেতৃত্বে গঠিত হয় হামরো পার্টি । বিজেপি, তৃণমূল, গোর্খার, জিএনএলএফ মত তাবড়-তাবড় দলগুলিকে পিছনে ফেলে দার্জিলিং পুরসভা দখল করল অজয় ওয়ার্ডের নেতৃত্বাধীন এই দল। যেখানে পাহাড়ে সাংসদ,বিধায়ক দুই বিজেপির সেখানে পুরভোটে বিজেপি-জিএনএলএফ জোট ধরাশায়ী। এই জয় নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমি সবথেকে খুশি দার্জিলিংয়ের ভোটের প্রসেস শুরু হয়েছে । গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ফিরে এসেছে । পাঁচটা রাজনৈতিক দল ভোটে অংশ নিয়েছে । আমাদের কোনও দিন কিছু ছিল না আমাদেরও খাতা খুলেছে । যে পাঁচটা পার্টি অংশ নিয়েছে সকলের সঙ্গে আমাদের ভাল সম্পর্ক আছে । আগামিদিনে জিটিএ ভোটও করিয়ে দেব । পাহাড়ে পঞ্চায়েত ভোটের জন্য বারবার কেন্দ্রকে বলছি আইনটা পাঠাতে । ওখানে দ্বিস্তরীয় পঞ্চায়েত । ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নে ই। পঞ্চায়েতের আইনটা কেন্দ্রীয় আইন । বারবার আইনটা করে দিতে বলেছি। এটা করে দিলে মানুষ পঞ্চায়েতের সুবিধাটা পায় । দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে ।’

উত্তর প্রদেশে রওনা দেওয়ার আগে দমদম বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘বাংলার মানুষ আমাকে আরও বেশি করে আশীর্বাদ দিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ । অনেক কুৎসাই রটেছিল। ১১ হাজার ২৫টা বুথে ভোট হয়েছিল সম্ভবত। তার মধ্যে সাতটা আটটা বুথে আপনারা দেখিয়েছেন গন্ডগোল। এই বুথের মধ্যেও যতদূর আমি জানি ইভিএম নিয়ে সমস্যা হয়েছে। ইভিএম রিপ্লেস হয়েছে। দু’টো বুথে রিপোল হয়েছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, বীরভূম, বর্ধমান, হুগলির আরামবাগের একটা প্রান্ত ছাড়া একটাও অঘটনের খবর পাওয়া যায় নি। উত্তর ২৪ পরগনা এমনকী ব্যারাকপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কোনও সমস্যা শুনেছেন? জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, দার্জিলিং, মালদহ কোথাও কিছু ঘটেনি । মানুষ উৎসবের মেজাজে নিজের ভোট নিজে দিয়েছে । আমি চাই সবসময় মানষ তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুক । ভোট উৎসব। এই উৎসবে যত বেশি মানুষ শামিল হবেন, তত বেশি করে গণতন্ত্র প্রাণবন্ত ও সঞ্জীবিত হবে ।’

আগামী ৮ মার্চের মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সমস্ত পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানালেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের যাদবপুর ও ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তী।

বিধানসভায় বামেদের ঝুলিতে আসেনি কোনও আসন। একসময় রাজ্যের শাসক দলে থাকা বামেদের অস্তিত্বই কার্যত এসে দাঁড়ায় প্রশ্নের মুখে। পরে উপ নির্বাচনে ও কলকাতার পুরভোটে বামেদের ভোট শতাংশ কিছুটা বাড়ে । তবে, রাজ্যের ১০৮ পুরসভার মধ্যে একটি পুরসভায় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখল বামেরা । নদিয়ার তাহেরপুর পুরসভার দখল নিল তৃণমূল । তাহেরপুরের ১৩ টি পুরসভার মধ্যে ৮ টি ওয়ার্ড গেল বামেদের হাতে আর পাঁচটিতে জয়ী তৃণমূল ।

গোটা পুরভোট পর্বে বহরমপুরের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ছুটে বেড়িয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী। লক্ষ্য ছিল নিজের ‘গড়’ যেন রক্ষা পায়। কিন্তু পারলেন না। পারল না কংগ্রেসও। প্রথমবার মুর্শিদাবাদের প্রাণকেন্দ্র বহরমপুর পুরসভার দখল নিল তৃণমূল। ২৮টি আসনের পুরসভায় ঘাসফুলের দখলে ২২টি ওয়ার্ড। অধীরের পাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডেও জয়ী তৃণমূল। এমন ফলাফলের পরে কটাক্ষের সুরে অধীরের মন্তব্য, ‘২৮টা আসনেই জয় পেতে পারত তৃণমূল। কংগ্রেসের যে ৬ জন জিতেছেন, তাঁদের সাফল্য অক্সিজেন ছাড়া এভারেস্টে চড়ার সমান।’

বিধানসভা নির্বাচনে ভাটপাড়া থেকে কম ব্যবধানে হলেও ছেলে পবন সিংহকে জিতিয়ে আনতে পেরেছিলেন ব্যারাকপুরের সাংসদ। কিন্তু পুরভোটে কর্তৃত্ব রাখতে পারলেন না ভাটপাড়ায়। তাঁর বর্তমান দল বিজেপি একটি আসনও পেল না। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভোট হয়নি।

দিলীপের গড়েও হল না মুখরক্ষা। সকাল বিকাল গড় আঁকড়ে পড়ে ছিলেন দিলীপ ঘোষ। শাসকদল-পুলিশকে এক হাত নিয়ে প্রচার সেরেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। হাত নাড়িয়ে অনুগামীদের পাশে নিয়ে খোশমেজাজে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রচার করেছেন দিলীপ ঘোষও। কিন্তু পুরভোটের ফল বলল অন্য কথা। কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুরের গড় বাঁচিয়ে রাখতে পারলেন না দিলীপ। মেদিনীপুরে ২০টি আসন তৃণমূলের দখলে, তিনটি বাম, একটি নির্দল ও একটি কংগ্রেসের দখলে গিয়েছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃণমূল মেদিনীপুর পৌরসভার বোর্ড দখলের পথে। এর আগের পৌরনির্বাচনে মাত্র ১৩ টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল। সেখান থেকে এবার ৭টি আসন বাড়িয়েছে। পরবর্তীকালে আরও অনান্য দল থেকে প্রার্থীরা তৃণমূলে যোগ দেন। মোট ১৯ টি আসন হয় তৃণমূলের।

কামারহাটি পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৪৫৭০ ভোটে জয়ী মদন মিত্রের পুত্রবধূ মেঘনা মিত্র । কলেজে পড়ার সময় রাজনীতি করতেন মেঘনা । তবে এবারই প্রথম টিকিট পেলেন তিনি ।

প্রথম থেকেই বিরোধী নয় গোঁজ কাঁটা নিয়ে ভয় ছিল শাসকদলের অন্দরে। তেমনটা হলও। পশ্চিম মেদিনীপুরের ক্ষীরপাই পুরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে জয়ী তৃণমূলের গোঁজ নির্দল প্রার্থী সুনীতি হালদার। ওই ওয়ার্ডের সভাপতি ছিলেন মনোজ হালদার। তাঁর মা নির্দলে যোগ দেওয়ার পরই দল থেকে বহিষ্কার করা হয় মনোজবাবুকে। এবার ওই ওয়ার্ডে জিতেই তৃণমূল প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ের হাসি হাসলেন সুনীতি দেবী। ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী অন্তরা সাহা পেয়েছেন ৩৮৪ ভোট। অন্যদিকে নির্দল প্রার্থী সুনীতি হালদার পেয়েছেন ৪৬১টি ভোট।

 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!