Advertisement
  • দে । শ
  • ডিসেম্বর ৩০, ২০২৪

স্ত্রীর চাকরি আটকাতে হাত কোপ। অভিযুক্তের বিচার শুরু আদলতে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
স্ত্রীর চাকরি আটকাতে হাত কোপ। অভিযুক্তের বিচার শুরু আদলতে

নারী স্বাধীনতায় ‘কোপ’। স্ত্রীর চাকরিতে যোগ দেওয়া রুখতে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমন্ত স্ত্রীর মুখে বালিশ চাপা দিয়ে কবজি থেকে ডান হাতের নীচের অংশটা কেটে নিয়েছিল সরিফুল শেখ। ২০২২ সালের ৪ জুন রাতে কেতুগ্রামের কোজলসা গ্রামের নৃশংস ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হল কাটোয়া মহকুমা আদালতে। বাবা আজিজুল হককে সঙ্গে নিয়ে সাক্ষ্য দিতে এসে আক্রান্ত রেণু খাতুন বলে যান, ‘সুবিচার পাবই। অপরাধীর শাস্তি হবেই। সত্যের জয় হবেই।’ রেণুর ঘটনাকে ‘নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ আখ্যা দিয়ে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজে রেণুর পাশে দাঁড়ান। মুখ্যমন্ত্রীর সৌজন্য ও সক্রিয়তায় সরকারি সাহায্যে কৃত্রিম হাত লাগানো হয় রেণুর। নার্সের চাকরি দেওয়া হয় রেণুকে। কাটোয়া আদালতে এসে ‘মানবিক মুখ্যমন্ত্রী’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে অকুন্ঠ রেণু বলছিলেন, ‘আমার সেই কঠিন সময়ে দিদির (মমতা ব্যানার্জি) মত রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক পদমর্যাদার মানুষ যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তা চিরজীবন মনে রাখব। চিকিৎসা, চাকরি, প্রশাসনিক সাহায্য-সহ সবরকমভাবে আমাকে সাহায্য করেছিলেন দিদি।’

উল্লেখ্য যে রেণুর হাতের কবজি কেটে নেওয়ার ঘটনার অভিযোগ পেয়েই পুলিশ কেতুগ্রামের কোজলসা গ্রামের ৩ জন রেণুর স্বামী সরিফুল শেখ, শ্বশুর সিরাজ শেখ, শাশুড়ি মেহেরনিকা বিবি-সহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। বাকি ধৃতরা মুর্শিদাবাদের তালগ্রামের বাসিন্দা সরিফুলের মাসতুতো ভাই চাঁদ মহম্মদ, হাবিবুর রহমান ও আশরাফুল শেখ। পুলিশের পেশ করা চার্জশিটে শের মহম্মদ ওরফে সরিফুল শেখ-সহ ৬ অভিযুক্তর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, বধূ নির্যাতন, গুরুতর আঘাত, ষড়যন্ত্র-সহ বেশ কয়েকটি ধারা দেওয়া হয়। পরে মূল অভিযুক্ত সরিফুল ছাড়া বাকি অভিযুক্তরা জামিন পেয়ে যায়। সেইসঙ্গে কাটোয়া মহকুমা আদালত এই ঘটনায় খুনের চেষ্টার ধারা বাতিলের নির্দেশ দিয়ে কাটোয়ার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে পাঠায়। সেখানেই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হল। ঘটনার দিন উদ্ধার হওয়া কাতান (যে ধারাল অস্ত্র দিয়ে রেণুর হাত কাটা হয়েছিল), রক্তমাখা পোশাক, বিছানার চাদর আদালতে পেশ করা হয়। রেণুর বাবা কেতুগ্রামের চিনিসপুরের বাসিন্দা আজিজুল হকের দাবি, ‘মেয়েকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে আমার জামাইকে পুলিশে ধরে। তারপর থেকে জামাইয়ের লোকজনেরা আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিত। অবশ্য পুলিশ সেইসময় পাশে ছিল। তবে বিচারব্যবস্থার প্রতি আমাদের আস্থা আছে। ন্যায়বিচার পাবই।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!