- এই মুহূর্তে দে । শ
- ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৫
নতুন মুখ্যমন্ত্রী বাছা নিয়ে অচলাবস্থা, রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে এগোচ্ছে মণিপুর ?
মণিপুরে কি শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে? পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তেমন আশঙ্কাই তীব্র হয়ে উঠছে। কারণ এখনও পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের উত্তরসূরী খুঁজে বার করতে পারেনি বিজেজি। অথচ বিধানসভা অধিবেশন আহ্বানের সময়সীমা ঘনিয়ে আসছে। দ্রুত নতুন মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিতে না পারলে রাষ্ট্রপতি শাসনের দিকে এগিয়ে যাবে মণিপুর।
দলীয় বিধায়কদের চাপে পড়ে রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বীরেন সিং। তাঁর উত্তরসূরী নির্বাচনের ব্যাপারে এখনও ঐক্যমত হয়নি। বিজেপি বিধায়কদের একটা দল মঙ্গলবার উত্তর–পূর্ব ভারতের দায়িত্বে থাকা সম্বিত পাত্রের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। এরপর বিকেল ৪.৪৫ মিনিট নাগাদ সম্বিত পাত্র, বিজেপি–র মণিপুর রাজ্য সভাপতি সারদা দেবী এবং তিনজন বিধায়ক ইম্ফলের রাজভবনে প্রায় আধ ঘন্টা ধরে রাজ্যপাল অজয় ভাল্লার সঙ্গে বৈঠক করেন। বিজেপি কিংবা রাজ্যপালের পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি জারি করা না হলেও সূত্রের খবর, এখনও বীরেন সিংয়ের উত্তরসূরী বেছে নিতে পারেনি বিজেপি।
সংবিধানের ১৭৪ (১) অনুচ্ছেদ মণিপুরের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। এই অনুচ্ছেদে বলা আছে, শেষবার স্থগিত হওয়া বিধানসভার অধিবেশনের ৬ মাসের মধ্যে আবার অধিবেশন ডাকতে হবে। মণিপুর বিধানসভায় শেষ অধিবেশন হয়েছিল ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট। সংবিধান অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবার বিধানসভার অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। এই সময়সীমা যত বাড়তে থাকবে, মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসনের সম্ভাবনা ততই বেড়ে যাবে।
বীরেন সিংয়ের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে যারা এগিয়ে রয়েছেন, তাঁদের পক্ষে তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিংয়ের ঘনিষ্ঠ বিধায়কদের সমর্থন পাওয়া কঠিন। বীরেন সিং মেরুকরণকারী ব্যক্তি হলেও নিজের ঘাঁটিতে দারুণ জনপ্রিয়। বিজেপি–র এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, ‘সম্ভবত বিধানসভা স্থগিত অবস্থায় রাষ্ট্রপতি শাসনের অধীনে আনা হবে।’ যদি তা করা হয়, তাহলে বিধানসভা স্থগিত অবস্থায় থাকবে, ভেঙে দেওয়া হবে না। যে কোনও সময় এটি পুনরুজ্জীবিত করা যেতে পারে। যার ফলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি থাকা সত্ত্বেও বিধায়করা সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারবেন।
বিরোধীরা সরকারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে। কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ এবং সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞ অভিষেক মনু সিংভি বলেছেন, ‘সাংবিধানিক, আইনগত এবং রাজনৈতিকভাবে মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া অনিবার্য। এর কারণ হল, রাজনৈতিকভাবে শাসক দল অন্য কোনও গঠনকে স্থান দেবে না। মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্থান এত বিলম্বিত হয়েছিল এবং বিজেপি নিজেই এত বিভক্ত ঘর যে তারা কোনও বিকল্পকে জায়গা দখল করতে দেয়নি। ফলে রাষ্ট্রপতি শাসন অনিবার্য।’
অন্যদিকে, লোকসভার প্রাক্তন মহাসচিব পিডিটি আচার্য বলেন যে ১৭৪(১) ধারার অধীনে ছয় মাসের নিয়ম মণিপুরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তিনি বলেছেন, ‘এই ক্ষেত্রে ছয় মাসের নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কারণ মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের পর মণিপুরে কোনও সরকার নেই। মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের অর্থ হল কোনও সরকার নেই। যদি মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করে থাকেন, তাহলে ছয় মাসের মধ্যে বিধানসভা অধিবেশন ডাকা উচিত ছিল। রাজ্যপালের সামনে এখন দুটি আইনি বিকল্প রয়েছে। তাঁকে দেখতে হবে যে সংখ্যাগরিষ্ঠ কেউ সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত কিনা। যদি অন্য কোনও বিধায়কের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকে বা কেউ এগিয়ে না আসে, তাহলে তাঁকে কেন্দ্রকে চিঠি লিখতে হবে, তথ্য ভাগ করে নিতে হবে এবং তারপর ৩৫৬ ধারার অধীনে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ করবেন।’
❤ Support Us







