- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫
মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতার, সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অসহযোগ আন্দোলন নাগাদের। মণিপুরে অবরোধ, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা
ভারত–মায়ানমার সীমান্তে ১৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এছাড়া প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে মুক্ত চলাচল ব্যবস্থাও বাতিল করেছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করল ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল। মণিপুরের নাগা উপজাতিদের এই শীর্ষ সংস্থা তাদের এলাকায় ‘বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা’ জারি করেছে। বুধবার সকাল থেকেই রাস্তা অবরোধ শুরু করেছে। কোনও বাণিজ্যিক পণ্যবাহী যান চলাচল করতে হচ্ছে না।
বিক্ষোভকারীরা জাতীয় ২ নম্বর ও ৩৭ নম্বর জাতীয় মহাসড়ক বরাবর নাগা অধ্যুষিত এলাকায় ট্রাক অবরোধ শুরু করেছে। অবরোধের আওতায় থাকা এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে সেনাপতি, উখরুল এবং তামেংলং। অবরোধের ফলে মণিপুরের অন্যান্য অংশে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় উপত্যকা এবং দক্ষিণ কুকি–অধ্যুষিত পাহাড়ি অঞ্চল।
ভারত–মায়ানমার সীমান্তে বেড়ে নির্মাণ ও মুক্ত চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে ২৬ আগস্ট দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল মণিপুরের নাগা উপজাতিদের শীর্ষ সংস্থা ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর অসহযোগ নীতির পদক্ষেপ নিয়েছে নাগা কাউন্সিল। ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা হল তাদের অসহযোগ আন্দোলনের সূচনা, যা তাদের অভিযোগের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নিরলসভাবে চালানো হবে।
৬ ফেব্রুয়ারি ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে ১৬৪৩ কিলোমিটার সীমানাকে কাল্পনিক বলে উল্লেখ করে বেড়া নির্মাণের বিরোধিতা করেছিল ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল। তারা বলেছিল, ‘যদি যখন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ভারতের তথাকথিত তিনটি উত্তর–পূর্ব রাজ্যের সাথে সংযুক্ত ১০০০ কিলোমিটারেরও বেশি নাগা আবাসভূমি, মণিপুর, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচল প্রদেশকে ভৌগোলিকভাবে দ্বিখণ্ডিত করা হবে, মায়ানমারের নাগাদের ছাড়া সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে।’
ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে ১৯৫০ সালে মুক্ত চলাচল ব্যবস্থা চালু করা হয় এবং ১৯৬৮ সালে তা পুনর্গঠন করা হয়। এই ব্যবস্থায় ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে ভিসা ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রমের অনুমতি ছিল। ২০০৪ সালে এটা ১৬ কিলোমিটারে এবং পরে বেড়াহীন আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্ত চলাচল ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। অবৈধ অভিবাসন, মাদক চোরাচালান এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের জন্য সীমান্ত বেড়া দেওয়া জরুরি বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাই মুক্ত চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।
বেড়া নির্মাণের সময় মণিপুরের টেংনোপালসহ বিভিন্ন জায়গায় সরকার নাগাদের জমির অধিকার উপেক্ষা করছে বলে অভিযোগ করেছে ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল। সংগঠনটি জানিয়েছে যে, ‘নাগাদের আবাসভূমির মধ্যে ভারত ও মায়ানমারের মধ্যে কোনও স্থল সীমানা নেই। নাগারা কোনও ভূমি বিচ্ছিন্নতা নীতি মেনে নেবে না। সরকারের এই পদক্ষেপ অমানবিক। নাগা জনগণ এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে।’ তাদের যুক্তি, বেড়া নির্মাণ ও চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ সাংস্কৃতিক, পূর্বপুরুষ এবং সম্প্রদায়ের বন্ধনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সংগঠনটি নাগা অঞ্চল জুড়ে সীমান্ত বেড়া প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়েছে। তারা সরকারকে নাগাদের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এবং দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়েছে। ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল ‘বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা’ কে গণতান্ত্রিক এবং অহিংস আন্দোলনের একটা রূপ বলে অভিহিত করেছে। সংগঠানটি জানিয়েছে যে, তাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে প্রতিবাদ আরও তীব্র করবে। অবরোধের ফলে ইম্ফল উপত্যকায় খাদ্যের অভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
❤ Support Us







