Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • অক্টোবর ৯, ২০২৫

জইশের নতুন ‘মহিলা ব্রিগেড’: ‘অপারেশন সিঁদুর’ পর নারীকেন্দ্রিক জঙ্গী সংগঠনের নতুন ছক !

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
জইশের নতুন ‘মহিলা ব্রিগেড’: ‘অপারেশন সিঁদুর’ পর নারীকেন্দ্রিক জঙ্গী সংগঠনের নতুন ছক !

ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ প্রবল ধাক্কা খাওয়া পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ ফের নতুন কৌশল নিয়েছে। এবার সরাসরি মহিলা ব্রিগেড গঠনের পথে হাঁটল মাসুদ আজহারের নেতৃত্বাধীন নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীটি। সংগঠনের নাম — ‘জমাত-উল-মুমিনাত’। পাকিস্তানের ভাওয়ালপুর থেকে শুরু হয়েছে এই নতুন শাখার সদস্য সংগ্রহ।

জঙ্গি দুনিয়ায় নারীর ভূমিকা এতদিন সীমিত ছিল। তবে আইএস, বোকো হারাম বা এলটিটিই-র মতো সংগঠনগুলি বহু আগেই নারী আত্মঘাতী হামলাকারী ব্যবহার করেছে। জইশ বা লস্কর-ই-তৈয়বা সেদিকে হাঁটেনি এতদিন। সে ছবি এবার পাল্টে যেতে পারে বলেই মনে করছে ভারতীয় গোয়েন্দা মহল। সূত্রের খবর, ‘জমাত-উল-মুমিনাত’-এর নেতৃত্বে রয়েছেন মাসুদ আজহারেরই বোন সাদিয়া আজহার। যার স্বামী ইউসুফ আজহার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ নিহত হয়েছেন। ভাওয়ালপুর, করাচি, মুজফফরাবাদ, কোটলি, হরিপুর, মানসেহরার মতো অঞ্চলের দরিদ্র ও প্রান্তিক নারীদের ‘জিহাদ’-এর নামে নিয়োগ করা হচ্ছে এই সংগঠনে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, জঙ্গি পরিবারের মহিলা, কট্টর মৌলবাদী শিক্ষাকেন্দ্রের ছাত্রী— এমন নারীদেরই প্রাথমিকভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে নয়া যোগাযোগ মাধ্যম — হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে জম্মু-কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের কিছু রাজ্যে সক্রিয় হতে চাইছে এই মহিলা ব্রিগেড। জইশের প্রচারের কৌশলেও দেখা যাচ্ছে বড়োসড়ো পরিবর্তন। জইশের তরফে প্রকাশিত এক প্রচারপত্রে ধর্মীয় ছবি ব্যবহার করে আবেগতাড়িত বার্তা দেওয়া হয়েছে। শহুরে, শিক্ষিত মুসলিম মহিলাদের ‘ধর্মের পথে’ ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এই আবহেই ফিরে আসছে জম্মু ও কাশ্মীরের মহিলা জঙ্গি সংগঠনের কথা উঠলেই সামনে আসে দুখতারান-ই-মিল্লাত –এর নাম। যার নেতৃত্বে ছিলেন আসিয়া আন্দ্রাবি। ১৯৮১ সালে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এই সংগঠনটি। আদতে এক ধর্মীয়-মৌলবাদী সংগঠন হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা হয়ে ওঠে এক কট্টর বিচ্ছিন্নতাবাদী প্ল্যাটফর্ম। প্রথমদিকে সংগঠনের লক্ষ্য ছিল কাশ্মীরি মহিলাদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া। কিন্তু পরবর্তীতে সংগঠনটি ‘নীতি পুলিশের’ ভূমিকা নেয়। বোরকার বাধ্যবাধকতা, সিনেমা হলের অশ্লীল পোস্টার সরানো, গণপরিবহনে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনের দাবি— এসবই ছিল শুরুর দাবি। ১৯৮৮-তে উপত্যকায় জঙ্গি আন্দোলনের সূচনা হলে, ডিইএম কার্যত রূপ নেয় একটি জঙ্গিপন্থী সংগঠনে। আসিয়া আন্দ্রাবি নিজেই বলেন, ‘আমি মেয়েদের পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়ার থেকে বিরত রেখেছি, কিন্তু প্রয়োজনে নারীও জিহাদে অস্ত্র ধরতে পারে, এমনকী আত্মঘাতী বোমারু হতেও।’ বর্তমানে দুখতারান-ই-মিল্লাত ভারতে নিষিদ্ধ। আসিয়া এখন দিল্লির তিহার জেলে বন্দি, এনআইএ-র অধীনে রয়েছে তদন্ত।
এ আবহে, জইশের এই নতুন মহিলা শাখা এবং দুখতারান-ই-মিল্লাতের পুরনো কার্যকলাপ একত্রে ইঙ্গিত করছে, নারী-জঙ্গিবাদের এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে উপমহাদেশে। ২০১৯-এর পুলওয়ামা হামলার পর জইশ-কে চাপে ফেলতে ভারতের পদক্ষেপ সারা বিশ্বে সমর্থন পেয়েছিল। কিন্তু এখন তারা নতুনভাবে সংগঠিত হচ্ছে এবং এবার তা নারী-নেটওয়ার্কের হাত ধরে। ফলে ভারতীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মাথাব্যথা বাড়ছে। নারীদের জঙ্গি কার্যক্রমে ব্যবহার করা হলে, তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে— কারণ সামাজিক পরিসরে মহিলাদের সন্দেহের চোখে দেখা হয় না সহজে। তাতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। ভারতের সামনে তাই এখন শুধু সীমান্ত রক্ষা নয়, সমাজ ও সংস্কৃতির ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করা জঙ্গি ছকের মোকাবিলা করাও অন্যতম চ্যালেঞ্জ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!