- দে । শ
- অক্টোবর ৬, ২০২৫
গুজরাটে মৃত্যু কালনার পরিযায়ী শ্রমিকের
ভিনরাজ্যে ফের মৃত্যু বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের। গুজরাটের ভুজ এলাকায় গাড়ি থেকে পড়ে মৃত্যু হল হারাধন দেবনাথ (৫২) নামে কালনার নান্দাই আশ্রমপাড়ার বাসিন্দার। ভুজের একটি বেসরকারি ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন হারাধন। কাজের শেষে কোম্পানির গাড়িতে থাকার জায়গায় ফিরছিলেন। গাড়ির ভেতরে জায়গা হয়নি। হারাধন-সহ তিন শ্রমিক গাড়ির পিছনে ঝুলতে ঝুলতে ফিরছিলেন। গাড়ি চলছিল তীব্র গতিতে। বেহাল রাস্তার তীব্র ঝাঁকুনিতে ছিটকে পড়েন তিনজনেই। পিছনে পিছনে আসা একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ সামলাতে না পেরে রাস্তায় পড়ে থাকা হারাধনকে পিষে দেয়। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ঘটনায় গুরুতর জখম বিহার ও ত্রিপুরার ২ শ্রমিক স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রাতে নান্দাই আশ্রমপাড়ায় হারাধনের মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই শোকের ছায়া নামে। হারাধনের স্ত্রী রত্না দেবনাথের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, স্ত্রী, ২ সন্তান ও বাবা-মাকে নিয়ে ৬ জনের সংসার টানতে হিমশিম খাচ্ছিলেন হারাধন। মাস চারেক আগে গুজরাটের ভুজে একটা ফ্যাক্টরিতে কাজের সুযোগ মেলে। সাত-পাঁচ না ভেবেই কাজে যোগ দিতে চলে যান হারাধন।
রোজই কাজ সেরে গাড়ির পিছনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুলতে ঝুলতেই ফিরতে হত হারাধন-সহ অন্যান্য শ্রমিকদের। গাড়ির ভিতরে জায়গা জুটত না। অভিযোগ জানিয়েও ফল মেলেনি। শেষমেশ প্রাণটাই চলে গেল। হারাধনের ছেলে অমিতের কথায়, ‘দুটো পয়সা রোজগারের জন্য বাবা ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে কোম্পানির গাফিলতি ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বলি হল।’ তবে হারাধনের মৃত্যুর পর ‘টনক নড়েছে’ ফ্যাক্টরি মালিকের। অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা করে ভুজ থেকে হারাধনের দেহ নান্দাই গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। ভুজে যেটুকু রোজগার করেছিলেন, তাই দিয়েই মা, বাবা, স্ত্রী, সন্তানদের জন্য কিছু কিছু জিনিস কিনেছিলেন হারাধন। পুজোর সময় বাড়ি আসার কথা ছিল। এসে সেইসব জিনিস সকলের হাতে তুলে দিতেন। ব্যাগভর্তি সেইসব উপহার নান্দাইয়ের বাড়িতে ফিরল হারাধনের কফিনবন্দি মৃতদেহর সঙ্গেই।
❤ Support Us





