- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ৫, ২০২৬
‘সামরিক সংঘাত কখনই সমাধান নয়’— ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির
ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধে কার্যত পুড়ছে গোটা পশ্চিম এশিয়া। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে ভেঙে পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতির চাকা, বিশেষ করে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের যোগান ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা। ভারত এ পর্যন্ত সরাসরি কোনো পক্ষের হয়ে দাঁড়ায়নি, অতীতের নিরপেক্ষ কূটনৈতিক ইতিহাসকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার। কিন্তু চোখ বুজলে কী আর প্রলয় বন্ধ থাকে! যুদ্ধের আবহে তেল, জ্বালানি গ্যাস সহ ভারতের একাধিক আমদানিকৃত পণ্যের ঘাটতি ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ না থামলে এর পরোক্ষ ফল ভোগ করতে হবে ১৪০ কোটি জনসংখ্যার ভারতকেও। এহেন পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি আবারও শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার, দিল্লিতে ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার স্টাব কে পাশে নিয়ে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কেবল সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।’
বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি উভয়কেই প্রসঙ্গ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া, আমরা সর্বদা চাইব যে সংঘাতের অবসান হোক। এই ক্ষেত্রে যে কোনো শান্তিকামী পদক্ষেপে আমাদের সমর্থন থাকবে।’ মোদির আশা, দ্রুতই এ যুদ্ধের অবসান হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, বর্তমান বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা চলছে, তা ইউক্রেন থেকে পশ্চিম এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে প্রতিফলিত হচ্ছে। এরকম ভয়ানক পরিস্থিতিতে ভারত এবং ইউরোপ, বিশ্বের দুটি প্রধান গণতান্ত্রিক শক্তি, সম্পর্কের ‘সোনালি অধ্যায়ে’ প্রবেশ করছে। মোদির কথায়, ‘আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকে শক্তিশালী করবে।’
এদিকে, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েলের যৌথ হামলার পর। ওই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের দ্রুত উন্নয়নশীল পারমাণবিক কার্যক্রম ও সামরিক অবকাঠামো দুর্বল করা। আক্রমণের সময় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলী খামেনেই নিহত হন, গোটা অঞ্চলে নতুন ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সামরিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে এবং গত ৫ দিনে মপরিস্থিতি উদ্বেগজনক মাত্রা স্পর্শ করেছে। এর আগেও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’ তবে খামেনেইয়ের মৃত্যু বা মার্কিন-ইজরায়েলি হামলা নিয়ে সরাসরি ভারতের সরকারি পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ইতিমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমান এবং বাহারিনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফা এর সঙ্গে ফোনে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইরানের পাশাপাশি এদিন ইউক্রেনের প্রেক্ষাপটেও প্রধানমন্ত্রী মোদী মন্তব্য করেন, ৪ বছরের সংঘাতে ইউক্রেন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ভোগ করছে। রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর ইউক্রেনে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, হাজার হাজার নিহত হয়েছে এবং পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষত ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেনকে সমর্থন জানাচ্ছে। যুদ্ধ এখনো দীর্ঘস্থায়ী আকারে চলতে থাকার কারণে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বেড়েছে। পরিশেষে, মোদি আবারও আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি এবং সংলাপের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘সংলাপ ও কূটনীতি ছাড়া কোনো সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ভারত ও ফিনল্যান্ড এই নীতি মেনে চলবে এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় অবিরত সমর্থন জারি রাখবে।’
❤ Support Us






