- দে । শ
- মে ২২, ২০২৬
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নিষিদ্ধ এক্সে, প্রতিক্রিয়া থারুরের
মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই এক কোটিরও বেশি ফলোয়ার্স অর্জন করেছিল সোশ্যাল মিডিয়ার বিতর্কিত প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। কিন্তু আচমকাই ভারতে তাদের X (আগের টুইটার) হ্যান্ডল ব্লক করে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তকে “ভয়াবহ এবং অত্যন্ত অবিবেচক” বলে কড়া সমালোচনা করলেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর।
শুক্রবার তিনি বলেন, গণতন্ত্রে ভিন্নমত, হাস্যরস, ব্যঙ্গ এবং ক্ষোভ প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। জনপ্রিয়তার কারণে কোনও প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শশী থারুর সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যুবসমাজের মধ্যে প্রবল হতাশা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই তাঁরা বিকল্প মতপ্রকাশের প্ল্যাটফর্ম খুঁজছেন। তাঁর কথায়, “যুব সমাজের হতাশা আমি বুঝতে পারছি। কেন তাঁরা এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করতে পারছেন, সেটাও আমার অজানা নয়।”
তবে সেই হতাশার বহিঃপ্রকাশ বন্ধ করার জন্য অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেননি। বরং তাঁর দাবি, “গণতন্ত্রে ভিন্নমত, হাস্যরস, ব্যঙ্গ এবং ক্ষোভ প্রকাশের জায়গা থাকা প্রয়োজন। তাই সিজেপি-র অ্যাকাউন্ট ফের চালু করা উচিত।”
যদিও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন থারুর। তবুও তিনি মনে করেন, এই প্ল্যাটফর্মের পিছনে থাকা তরুণরা ভবিষ্যতে মূল ধারার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। তাঁর মতে, “এই তরুণরাই একদিন পরিবর্তনের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারেন। তখন তাঁদের উপেক্ষা করা অসম্ভব হবে।”
এছাড়াও বিরোধী শিবিরের উদ্দেশে থারুর পরামর্শ দেন, এই নতুন সামাজিক প্রবণতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তাঁর মন্তব্য, “এটা একটা সুযোগ। বিরোধীদের সেই সুযোগ কাজে লাগানো দরকার।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, X-এ নিষিদ্ধ হলেও ইনস্টাগ্রামে এখনও সক্রিয় রয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র অ্যাকাউন্ট। সেখানে দ্রুত বাড়ছে ফলোয়ার্স সংখ্যা। শুধু সাধারণ মানুষ নয়, বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বলিউডের কয়েকজন তারকাও তাদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন।
এই গোটা বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর একটি মন্তব্যকে ঘিরে। একটি মামলার শুনানির সময় তিনি বেকার যুবকদের ‘ককরোচ’ এবং ‘প্যারাসাইট’-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই মন্তব্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরপরই অনলাইনে আত্মপ্রকাশ করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।
জানা গিয়েছে, এই প্ল্যাটফর্মের নেপথ্যে রয়েছেন আমেরিকায় অধ্যয়নরত ভারতীয় ছাত্র অভিজিৎ দীপকে। যদিও পরে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করেন, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু ততক্ষণে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।
❤ Support Us






