- দিন-দুনিয়া দে । শ
- মে ৩, ২০২৩
শর্ত সাপেক্ষে মুক্ত ২০০০ রাজনৈতিক বন্দি । মানবিকতার আড়লে সামরিক জুন্টার কী অভিসন্ধি, উঠছে প্রশ্ন । সুচিকে নিয়ে মুখে কুলুপ মায়ানমারের
মায়ানমারে জুন্টা সরকার সেদেশের জেলগুলি থেকে ২ হাজার ১০০ জনের বেশি রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিচ্ছে। জুন্টা মায়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই মায়ানমারের বহু নাগরিকের গায়ে রাজনৈতিক বন্দির তকমা সেঁটে দেওয়া হয়েছে।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পুণ্যদিন উপলক্ষে বুধবার ২ হাজার ১৫৩জন রাজনৈতিক বন্দিকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সেনা সরকার পরিচালিত টিভি চ্যানেল এমআরটিভিতে এখবর ফলাও করে সম্প্রচারিত হয়েছে। জানা গিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্ত রাজনৈতিক বন্দিদের তালিকায় নাম নেই সু কি-র। প্রসঙ্গত, সেনা সরকারের দায়ের করা কয়েক ডজন অভিযোগের জেরে অং সান সু চি-কে জেলেই থাকতে হবে।
মায়ানমারের সেনা কাউন্সিল জানিয়েছে, যে সমস্ত রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের আগামী কয়েকদিনের ভিতর মুক্তি দেওয়া হবে। এই রাজনৈতিক বন্দিরা এতদিন পর্যন্ত যে সমস্ত অভিযোগে জেলে ছিলেন তার মধ্যে রয়েছে, জনসমাজে অশান্তি পাকানোর অভিযোগ থেকে শুরু করে ভুয়ো খবর ছড়ানোর মতো অভিযোগও।
সূত্রের খবর, যে সমস্ত রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেক্ষেত্রে শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যদি দেখা যায়, মুক্তি পাওয়ার পরে এই রাজনৈতিক বন্দিরা ফের আইনভঙ্গ করেছেন, তাহলে তাঁদের ফের জেলে পোরা হবে। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের জুলাই মাসে ২ হাজার ২৯৬জন রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার পরে ফের দু’হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল জুন্টা সরকার।
এব্যাপারে অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের তরফে জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনী রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করার পর ২০২১ সাল থেকে মায়ানমারের ১৭ হাজার ৮৯৭ জন প্রতিবাদকারীকে সেনা নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ গা থেকে ঝেড়ে ফেলতেই সেনা সরকার ফের রাজনৈতিক বন্দিদের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রাক্তন সেক্রেটারি-জেনারেল বান কি মুন মায়ানমারের সেনা সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, মায়ানমারে যে রাজনৈতিক অশান্তির আবহ সৃষ্টি হয়েছে, তার সমাধানে ব্যবস্থা নিক সেনা সরকার। মায়ানমারে সরকারবিরোধী অহিংস আন্দোলন দমন করতে সেনাবাহিনী নির্বিচারে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। সূত্রের খবর, এপর্যন্ত নিরাপত্তারক্ষীরা ৩ হাজার ৪৫২জন নিরীহ নাগরিককে হত্যা করেছে।
❤ Support Us






