Advertisement
  • দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫

পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্তে নামছে জাতীয় মহিলা কমিশন

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্তে নামছে জাতীয় মহিলা কমিশন

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এক স্বাস্থ্যকর্মীর উপর যৌন নির্যাতন চালানোর অভিযোগে রাজ্যজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। গত সোমবার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ওই তরুণী অভিযোগ করেনএক বেসরকারি সংস্থার অধীনে কর্মরত ফেসিলিটি ম্যানেজার জাহির আব্বাস খান তাঁর উপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালিয়েছেন। অভিযোগ দায়ের হলে, পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত ম্যানেজারকে গ্রেফতার করে এবং আদালত তাঁকে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

জানা যাচ্ছে, তমলুক থানার বাসিন্দা ওই তরুণী, পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ওয়ার্ড গার্ল হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর অভিযোগগত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে ওষুধ দেওয়ার নাম করে ম্যানেজার জাহির আব্বাস খান তাঁকে হাসপাতালে একটি ফাঁকা ঘরে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেন। তরুণী জানানএর আগেও একাধিকবার অভিযুক্ত তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করেছেন। কাজ হারানোর ভয় দেখিয়ে তাঁর মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন। ঘটনার পারম্পরিকতায়, হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মীরা মঙ্গলবার সুপারকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবিএ ঘটনা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়বরং এটি দীর্ঘদিন ধরে চলা অত্যাচারের এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। কর্মীদের অভিযোগ, ‘আমরা বহু দিন ধরে ওই ম্যানেজারের অত্যাচার সহ্য করছিলাম। ভয়ে কেউ মুখ খোলেনি। অভিযুক্ত ব্যক্তি আমাদের চাকরি থেকে বের করে দিতে হুমকি দিত।’

এ ঘটনায় এরবার পদক্ষেপ নিতে চলেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার জানান, ‘নির্যাতিতা আমাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। এখন সবাই জানেপশ্চিমবঙ্গে এমন পরিস্থিতি চলছে যেকেবল অভিযোগ জানিয়ে মামলা না করলে কোনো বিচার হয় না।’ তিনি জানানমহালয়ার আগেই পাঁশকুড়া যাচ্ছেন তাঁরা। কমিশনের এ পদক্ষেপে ঘটনাটি নতুন করে রাজ্য রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। স্থানীয় তৃণমূল নেতারা হাসপাতালে গিয়ে অভিযুক্তের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে সুপার এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। অন্যদিকেবিজেপি পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে যেশাসক দলের মদত ছাড়া হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন ঘটনা ঘটানো অসম্ভব।’ এছাড়াও, ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁশকুড়া বনধের ডাক দিয়েছে এসইউসিআই। সরব হয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও। তিলোত্তমা মঞ্চের ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

এ ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অভিযোগ উঠেছে যেহাসপাতালের সুষ্ঠু নজরদারি না থাকায় লাগাতার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের অস্থায়ী কর্মীরা জানাচ্ছেন, ‘সুপারের অফিসের কাছে অল্প সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে, অন্য কোথাও নেই। এধরণের নিরাপত্তা গাফিলতির  ঘটনার জন্য দায়ী।’ এদিকেহাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, তারা ঘটনার তদন্ত করছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আরজিকরের পররাজ্যে আবার এ ধরণের ঘটনায় পুনরাবৃত্তিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনের ওপর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই ঘটনার গুরুত্ব বুঝেপ্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। 


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!