- দে । শ
- মে ২১, ২০২৬
অনলাইনে ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কেমিস্টদের ধর্মঘট, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি
অনলাইনে ‘বেআইনি’ ও ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে সরব হয়ে, বুধবার দেশজুড়ে একদিনের প্রতীকী ধর্মঘটে শামিল হয়েছিল ‘অল ইন্ডিয়া অর্গানাইজেশন অব কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস’। সংগঠনের দাবি, দেশের ১২ লক্ষেরও বেশি কেমিস্ট ও ড্রাগিস্ট এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলির লাগামছাড়া ওষুধ বিক্রি, প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বাড়িতে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া এবং অস্বাভাবিক ছাড়ের প্রলোভন শুধু ছোটো ওষুধ ব্যবসায়ীদের অস্তিত্বের উপরই আঘাত হানছে না, বিপন্ন করছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যনিরাপত্তাকেও।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে সংগঠনটি। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে পাঠানো স্মারকলিপিতে সংগঠনটির বক্তব্য, ‘অনলাইন ওষুধ বিক্রির নামে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা বিপজ্জনক এবং উদ্বেগজনক।’ তাদের অভিযোগ, বহু অনলাইন সংস্থা বৈধ প্রেসক্রিপশন যাচাই না করেই ওষুধ সরবরাহ করছে। ভুয়ো ই-প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে চলছে অ্যান্টিবায়োটিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রিত ওষুধের বিক্রি। এর ফলে জনস্বাস্থ্যের উপর আশঙ্কাজনক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে এর প্রভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
‘এআইওসিডি’-র সভাপতি জগন্নাথ শিন্দে এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব সিংঘল অভিযোগ তুলেছেন, অনলাইন সংস্থাগুলি ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে এমন প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে, যাতে ছোটো ছোটো অষুধের দোকানগুলোর পক্ষে টিকে থাকা কার্যত অসম্ভব করে তুলছে।দশকের পর দশক ধরে যাঁরা পাড়ায় পাড়ায় মানুষের ওষুধের চাহিদা পূরণ করে আসছেন, সেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত কেমিস্টরাই আজ টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছেন বলে অভিযোগ সংগঠনের।
‘এআইওসিডি’-র দাবি, ‘ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিক্স অ্যাক্ট, ১৯৪০’ এবং সংশ্লিষ্ট ১৯৪৫ সালের বিধিতে অনলাইনে ওষুধ বিক্রির কোনো স্পষ্ট আইনগত কাঠামো নেই। আর এই আইনি অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়েই বহু সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনের আরও অভিযোগ, ২০১৮ সালে জারি হওয়া GSR 817(E) এবং কোভিড অতিমারির সময় চালু হওয়া GSR 220(E)-কে এখন অনলাইন ওষুধ বিক্রির প্ল্যাটফর্মগুলি অপব্যবহার করছে। অতিমারির জরুরি পরিস্থিতিতে বাড়িতে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা এখনো বহাল রেখে অনলাইন সংস্থাগুলি নির্বিচারে ব্যবসা বাড়িয়ে চলেছে বলে অভিযোগ। সে কারণেই ওই দুই বিজ্ঞপ্তি অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে সংগঠনটি। অভিযোগ, ‘অননুমোদিত অনলাইন ওষুধ বিতরণের’ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে এই নিয়মগুলি। পাশাপাশি বৈধ, যাচাইকৃত এবং আইনসম্মত প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ওষুধ বিক্রি বা বাড়িতে সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে।
যদিও কেন্দ্র সরকারের দাবি, কেমিস্টদের এই ধর্মঘটের প্রভাব দেশে সর্বত্র পড়েনি। বহু রাজ্যের খুচরো ফার্মাসি সংগঠন আন্দোলনে যোগ দেয়নি, বহু দোকান এদিন খোলা ছিল। ফলে সাধারণ মানুষের ওষুধ পেতে খুব একটা সমস্যা হয়নি বলেই প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য। তবে, এআইওসিডি দাবি করেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও রাজ্যের কেমিস্টরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দোকান বন্ধ রেখে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। তবে আন্দোলনের মধ্যেও জরুরি পরিষেবা চালু রাখার আশ্বাস দিয়েছে সংগঠনটি। হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত মেডিক্যাল স্টোরগুলি খোলা রাখা হয়েছে। রোগীদের যাতে কোনও জরুরি সমস্যা না হয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কোভিড অতিমারির সময় দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবায় কেমিস্টদের ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের বক্তব্য, যখন গোটা দেশ স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল, তখনও পাড়ার ওষুধের দোকানগুলি খোলা রেখে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন কেমিস্টরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও প্রত্যন্ত এলাকায় ওষুধ পৌঁছে দিয়েছিলেন তাঁরা। সেই সমাজই আজ অনলাইন বাণিজ্যের চাপে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে বলে দাবি সংগঠনের।
❤ Support Us






