- বি। দে । শ
- জুন ১, ২০২৬
বিপাকে ‘বিস্ময় বালক’! বয়স বিতর্কে তোলপাড় নাইজেরিয়া, চাপে রাজনীতিক মাহমুদ সাদিস বুবা
আপাতদৃষ্টিতে তাঁকে দেখে অনেকেই কিশোর বলে ভুল করেন। কিন্তু, তিনি দাবি করতেন তাঁর বয়স ৩০ পেরিয়েছে। সে দাবির উপর ভর করেই ২০২৭ সালের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের আসনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নাইজেরিয়ার তরুণ রাজনীতিক মাহমুদ সাদিস বুবা। কিন্তু হঠাৎই ফাঁস হওয়া কিছু সরকারি নথি ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, বুবার প্রকৃত বয়স ৩০ নয়, মাত্র ১৬। অভিযোগ সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে সমাজমাধ্যম, সর্বত্র শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
নাইজেরিয়ার কাদুনা রাজ্যের সাবন গারি কেন্দ্রের বাসিন্দা মাহমুদ সাদিস বুবা স্থানীয় মহলে ‘আবিন আল’আজাবি’ বা ‘বিস্ময় বালক’ নামেই বেশি পরিচিত। সম্প্রতি তিনি ২০২৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্য হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সেই ঘোষণার পর থেকেই জাতীয় স্তরে পরিচিতি বাড়তে শুরু করে তাঁর। আর পরিচিতির সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে বিতর্কও। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘পিপলস গেজেট’–এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সরকারি পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখে দেখা গিয়েছে, বুবার প্রকৃত বয়স তাঁর দাবির সঙ্গে মিলছে না। প্রতিবেদনে এও ইঙ্গিত করা হয়েছে, তাঁর আসল বয়স ৩০ নয়, বরং প্রায় ১৬ বছর। যদিও এমন দাবির পক্ষে, নাইজেরিয়া প্রশাসনের তরফে এখনো কোনো সরকারি ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও ফাঁস হওয়া নথির সত্যতা আনুষ্ঠানিক ভাবে নিশ্চিত করেনি।
তবে, বুবার বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সমাজমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। অনেকেই তাঁর শারীরিক গঠন ও চেহারা দেখে বয়স নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। জল্পনার জবাব দিতে গিয়ে বুবা একাধিক বার জানিয়েছেন, তাঁর খর্বকায় শারীরিক গঠন কোনো বয়সজনিত বিষয় নয়। তিনি ডোয়ার্ফিজম বা বামনত্বে আক্রান্ত। তাঁর দাবি, এই শারীরিক বৈশিষ্ট্য তিনি পিতামহের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ঈশ্বর আমাকে এ ভাবেই সৃষ্টি করেছেন। আমি যেমন, তেমনটাই থাকতে চাই। আমার এ অবস্থা আমাকে কখনো বিব্রত করে না। বরং আমি তা নিয়ে গর্বিত।’ সমালোচকদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, ‘কেউ কেউ আমার উচ্চতা নিয়ে ব্যঙ্গ করে, কিন্তু আমি মনে করি উচ্চতা কখনো কোনো মানুষের যোগ্যতার মাপকাঠি হতে পারে না।’
রাজনীতিতে নিজের দীর্ঘ দিনের সক্রিয়তার কথাও তুলে ধরেছেন বুবা। তাঁর দাবি, সাবেক রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদু বুহারির আমল থেকেই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু এবং কাদুনার গভর্নর উবা সানির সমর্থনে গঠিত একটি রাজনৈতিক সংগঠনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি বহু বছর ধরেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এখন চাইলে যে কোনো সময় রাষ্ট্রপতির সঙ্গেও দেখা করতে পারি।’ তবে সাম্প্রতিক বিতর্ক বুবাকে অস্বস্তিতে ফেলেছে তার ইঙ্গিত মিলেছে। বিবিসি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে লড়ার পরিকল্পনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বুবা। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, অবিলম্বে তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছেন। নিজের দল ‘অল প্রগ্রেসিভস কংগ্রেস’ (এপিসি)-র চেয়ারম্যানের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠিতে এমন সিদ্ধান্তের কথা তিনি লিখেছেন বলে জানা যাচ্ছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের বৃহত্তর স্বার্থেই এ পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।
যদিও বুবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বয়স বিতর্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতেই তিনি আপাতত নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। এ দিকে, ফাঁস হওয়া নথিগুলিকে কেন্দ্র করে নাইজেরিয়ায় রাজনৈতিক প্রার্থীদের বয়স ও পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগে প্রার্থীদের পরিচয়পত্র ও বয়স সংক্রান্ত তথ্য আরও কঠোর ভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অন্য দিকে, বুবার সমর্থকদের বক্তব্য, সরকারি ভাবে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। ফলে আপাতত বয়স, পরিচয় এবং রাজনৈতিক যোগ্যতা— এই তিন প্রশ্নকে ঘিরেই নাইজেরিয়ার রাজনৈতিক পরিসরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মাহমুদ সাদিস বুবা।
❤ Support Us








