- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মার্চ ৫, ২০২৬
কুর্সি ছেড়ে রাজ্যসভায় নীতীশ, বিহারে মুখ্যমন্ত্রী পদ্মের ? প্রতিবাদে রাস্তায় জেডিইউ
ফের সরগরম বিহারের রাজনীতি। দু–দশকেরও বেশি সময় ধরে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা নীতীশ কুমার ঘোষণা করেছেন, তিনি রাজ্যসভায় প্রার্থী হবেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫৪ মিনিটে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের পোস্টে নিজেই জানান, ‘সংসদীয় রাজনীতি শুরু করার পরই আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল— বিহারের দুই কক্ষ এবং সংসদের দুই কক্ষে সদস্য হওয়ার। সে ইচ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যেই এবার রাজ্যসভা নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছি।’
নীতীশ কুমারের এ ঘোষণায় শুরু হয়ে প্রবল রাজনৈতিক ঝড়। বুধবার থেকেই শোনা যাচ্ছিল, মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি রাজ্যসভায় যাচ্ছেন। সে গুঞ্জনের প্রভাব পড়ে জেডিইউ-এর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পাটনা-সহ বিহারের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় কর্মীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের দাবি, বিহারের রাজনীতি থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে নীতীশকে সরানোর পরিকল্পনা হচ্ছে। পাটনায় জেডিইউ-এর অফিস এবং নীতীশের সরকারি বাসভবনের সামনে জমায়েত হওয়া কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। দলীয় বিধায়করা যারা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন, তাদের গাড়ি আটকে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠছে।
কর্মী-সমর্থকদের এই বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেডিইউ নেতা রাজীব রঞ্জন পটেল। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু নীতীশ কুমারকেই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই। আমরা চাই না তিনি রাজ্যসভায় যান। বিহারবাসী তাঁর নামে ভোট দিয়েছে। যদি রাজ্যসভায় কাউকে পাঠানোরই হয়, তবে তাঁর ছেলে নিশান্ত কুমারকে পাঠানো হোক।’ ক্ষুব্ধ কর্মীদের বক্তব্য, তাঁরা কয়েক মাস আগেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে নীতীশ কুমারের জন্য ভোট চেয়েছেন। তাই এখন তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকতে হবে। বিহার বিধান পরিষদের সদস্য, জেডিইউ নেতা সঞ্জয় সিং–ও এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘নীতীশ কুমার রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমরা আপত্তি জানাতে পারি না। তবে বিহারবাসী চাইছেন তিনিই যেন মুখ্যমন্ত্রী থাকেন।’
নীতীশের পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বিহারে যে নতুন সরকার গঠিত হবে, তাতেও তাঁর পূর্ণ সমর্থন থাকবে। তিনি লিখেছেন, ‘আপনাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে এবং উন্নত বিহার গড়ে তোলার জন্য একসাথে কাজ করার দায়বদ্ধতা অটুট থাকবে।’ ফলে, মুখ্যমন্ত্রী পদে কে বসবেন টা ঘিরে দলের অন্দরে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। নীতীশ কুমারের ছেলে নিশান্ত কুমারের নাম উপমুখ্যমন্ত্রী পদে আলোচনায় রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ছেলের রাজনৈতিক উত্থানের পথ তৈরি করতেই সম্ভবত নীতীশ মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে, জল্পনা রয়েছে, নীতীশের পদত্যাগের পর মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন কোনো এক বিজেপি নেতা। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত পাটনায় বিজেপির কোনো নেতা মুখ্যমন্ত্রী হননি। এবার, গেরুয়া শিবিরের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে, বিতর্ক থেকে আপাতত কিছুটা দূরত্ব রেখেই জেডিইউ-এর জোটসঙ্গী বিজেপি পুরো বিষয়টিকে জেডিইউ-এর নিজস্ব বিষয় হিসেবে মন্তব্য করেছে। বিহারের মন্ত্রী, বিজেপি নেতা রামকৃপাল যাদব বলেছেন, ‘ওরাই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। নীতীশ কুমারের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। এনডিএ এক জোট। আমরা সকলে মিলে সরকার চালাব।’ পিটিআই-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার নীতীশ কুমারের সঙ্গে রাজ্যসভায় মনোনয়ন জমা দেবেন বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নাবিন। মনোনয়ন দেওয়ার সময় উপস্থিত থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী ১৬ মার্চ বিহারের পাঁচটি সহ ১০ রাজ্যের ৩৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রতিটি আসনের জন্য এক জনই মনোনয়ন দিলে নির্বাচনের প্রয়োজন হবে না। বিধায়ক সংখ্যার নিরিখে, বিজেপির ৮৯ জন বিধায়ক ও জেডিইউ-এর ৮৫ জন বিধায়কের সমর্থনে ২টি আসনে বিজেপি, আর ২টি আসনে জেডিইউ-র জয় নিশ্চিত। পঞ্চম আসনে বিজয় পেতে এনডিএ শিবিরকে আরও তিন বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে। বিরোধী জোটের সহযোগিতায় (কংগ্রেস, আরজেডি, বাম, মিম, বিএসপি) এই আসনটি বিরোধীদের দিকে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, রাজ্যসভায় পা রেখে বিহারের রাজনীতিতে বিরল কৃতিত্ব অর্জন করতে যাচ্ছেন নীতীশ কুমার । তিনি ইতিমধ্যেই বিহারের আইনসভা ও বিধান পরিষদের উভয় কক্ষে, এছাড়াও সংসদের লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছেন। রাজ্যসভায় নির্বাচিত হলে তিনি উভয় সংসদের ও উভয় বিধানসভার সদস্য হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করবেন। একই সঙ্গে, দেশের অন্যান্য রাজ্যেও রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। তেলেঙ্গানা থেকে অভিষেক মনু সিংভিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি কংগ্রেসের আইনগত জটিলতা সমাধানে দলের বড়ো ভরসা। তামিলনাড়ুতে জোট শরিক ডিএমকের সহযোগিতায় খ্রিস্টোফার তিলককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ছত্তিশগড় থেকে ফুলো দেবী নেতাম পুনরায় প্রার্থী হয়েছেন। হরিয়ানা ও হিমাচলে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের মনোনয়ন নিশ্চিত হয়েছে। বাংলার দীপা দাশমুন্সি আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত টিকিট পাননি। বর্তমান অবস্থায়, বিজেপির হাতে ১০৩ সাংসদ রয়েছে। এনডিএ-র মোট সংখ্যা ১৩৩, যা ম্যাজিক ফিগারের উপরে। বিরোধী জোটের সাংসদ সংখ্যা ৭৯। কংগ্রেসের ২৭, তৃণমূল ১২ এবং বিজেপির ১০ আসন রয়েছে। এবারের ভোটের পর এই সংখ্যা আরও কমে ৭৫-এ নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
❤ Support Us






