- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৫
১০ ঘন্টায় ২১ জনের সিজার ! অসমে চিকিৎসককে শোকজ স্বাস্থ্য দফতরের
১০ ঘন্টার মধ্যে ২১টি সিজার ডেলিভারি! জীবাণুমুক্তকরণ এবং রোগীর সুরক্ষা বিধি না মানার অভিযোগে শোকজের মুখে পড়তে হল একজন অভিজ্ঞ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞকে। ঘটনাটি ঘটেছে অসমের মরিগাঁও জেলার এক সিভিল হাসপাতালে। ডাঃ কান্তেশ্বর বরদোলি নামে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞকে নোটিশ ধরিয়েছেন স্বাস্থ্য দফতরের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার নীতীশা বোরা।
৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩:৪০ মিনিট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ভোর ১:৫০ মিনিটের মধ্যে মরিগাঁওয়ের এসটিএইচজি সিভিল হাসপাতালে মেজর অপারেশন থিয়েটারে ২১টি জরুরি লোয়ার সেগমেন্ট সিজারিয়ান সেকশন অপারেশন করেন ডাঃ কান্তেশ্বর বরদোলই। এত কম সময়ের মধ্যে কীভাবে ২১টি জরুরি অপারেশন করলেন ডাঃ কান্তেশ্বর বরদোলই, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগী সুরক্ষা বিধি না মানারও প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনার কথা জানতে পেরে মরিগাঁও জেলা স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে ডাঃ কান্তেশ্বর বরদোলইকে শোকজ নোটিশ ধরানো হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের অতিরিক্ত ডেপুটি
কমিশনার নীতীশা বোরা কর্তৃক জারি করা এক সরকারি নোটিশে ডাক্তারকে অস্বাভাবিকভাবে বেশি সংখ্যক অস্ত্রোপচারের জন্য বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ডাঃ বরদোলোই, আপনি ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩:৪০ টা থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ভোর ১:৫০–এর মধ্যে মরিগাঁওয়ের এসটিএইচজি সিভিল হাসপাতালের মেজর অপারেটিং থিয়েটারে ২১টি জরুরি এলএসসিএস অপারেশন করেছেন। এটা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তাই এই ব্যাপারে আপনাকে প্রতিটা অপারেশনের বিস্তৃত বিবরণ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।’
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অপারেশনের রেকর্ড পর্যাপ্তভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি, যা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং মাতৃ ও শিশুর অসুস্থতা এবং মৃত্যুহার রোধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্দেশিকায় ডাঃ বরদোলইকে প্রতিটি অস্ত্রোপচারের সার্বিক প্রতিবেদন, কেস প্রস্তুতির বিবরণ, জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতি, সহায়তাকারী কর্মীদের ভূমিকার রিপোর্ট তিন দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
ডাঃ কান্তেশ্বর বরদোলই তাঁর পদক্ষেপের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন যে, তিনি সীমিত সময়ের মধ্যে একাধিক অস্ত্রোপচার করতে সক্ষম। তিনি বলেছেন, ‘আমি একের পর এক জরুরি অপারেশন করছিলাম। সংখ্যা অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যায়। আমি দ্রুত অপারেশন করলেও সমস্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করেছি।’ অবহেলার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘রোগীর যত্নে কোনও আপস করা হয়নি। ২১ জন মহিলার মধ্যে ১৯ জনকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেককেই নিরাপদে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। একজনকে জিএমসিএইচে রেফার করা হয়েছে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয় এবং জরুরি পরিস্থিতিতেও এটা ঘটতে পারে। আমি ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে আমার ব্যাখ্যা জমা দিয়েছি।’ তবে কারণ দর্শানোর নোটিশে হতাশা প্রকাশ করেছেন ডাঃ বরদোলই। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল এবং রোগীদের এত কিছু দেওয়ার পরেও যদি আমাকে কারণ দর্শাতে হয়, তাহলে মনে প্রশ্ন জাগে, আমার কি সরকারি চাকরিতে থাকা উচিত।’
❤ Support Us







