- এই মুহূর্তে দে । শ
- সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫
বেহালা, ঝাড়গ্রাম-সহ রাজ্যের ২২ জায়গায় চলছে ইডি অভিযান
অবৈধ বালি খনন এবং পাচারের অভিযোগে এ বার সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার ভোরবেলা রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একযোগে অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি সূত্রে খবর, কলকাতা, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া-সহ মোট ২২টি জায়গায় একসঙ্গে চলেছে তল্লাশি অভিযান। সঙ্গে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সূচিভেদ্য নিরাপত্তাবেষ্টনী।
এদিনের তল্লাশির মূল কেন্দ্র ছিল ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর। সুবর্ণরেখা নদী পাড়ে প্রাক্তন ভিলেজ পুলিশ শেখ জহিরুল আলির ৩তলা বাড়িতে সকাল হতেই অভিযান চালায় ইডির আধিকারিকরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, বালির ব্যবসার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত জহিরুল, তাঁর নামে একাধিক বালি খাদানের মালিকানা রয়েছে। অভিযোগ, ওই নদী থেকেই নিয়ম বহির্ভূত ভাবে দীর্ঘদিন ধরে তোলা হচ্ছিল বালি। ইডি আধিকারিকরা খতিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বালি উত্তোলনের লাইসেন্স, বিক্রির নথি এবং টাকার লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখছেন। তল্লাশি চালানো হয়েছে জহিরুলের গাড়িতেও। উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই অবশ্য দাবি করছেন, জহিরুল বালি ব্যবসা করলেও, তাঁকে বেআইনি কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলতে রাজি নন তারা।
অন্য দিকে, কলকাতায় তল্লাশি চলে বেহালার জেমস লং সরণীর একটি অফিসে, যেখানে বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ‘জিডি মাইনিং’ নামে একটি সংস্থার সদর দফতর রয়েছে। ওই সংস্থার আরো একটি শাখা রয়েছে সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে। তল্লাশি চালানো হয় রিজেন্ট পার্ক, টালিগঞ্জ, কল্যাণী, বিধাননগরের একাধিক ঠিকানায়ও। নজরে রয়েছেন আরো কয়েক জন বালিখাদানের মালিক ও ব্যবসায়ী। ইডি-র এক আধিকারিক জানান, দীর্ঘদিন ধরেই খবর মিলছিল যে, বেআইনি বালি খনন ও পাচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা হচ্ছে এবং সেই অর্থ বিমা সংস্থা ও ব্যবসার আড়ালে খাটানো হচ্ছে। সে অভিযোগের ভিত্তিতেই খোঁজ শুরু করে ইডি। তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য।
সোমবারের অভিযানে ইডি-র ৪ থেকে ৫টি দল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালিয়েছে। প্রতিটি জায়গাতেই মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। সুবর্ণরেখা নদীর ধারে দাঁড়িয়ে থাকা জহিরুলের বিশাল বাড়িটি ঘিরে ফেলা হয় সকালে। তল্লাশি চলে দীর্ঘক্ষণ। ইডি-র দাবি, সরকারের নির্ধারিত দরের থেকে অনেক বেশি দামে বালি বিক্রি করা হচ্ছিল। কোথা থেকে আসছিল বালি, কোথায় যাচ্ছিল এবং তার সঙ্গে কারা যুক্ত, খতিয়ে দেখা হচ্ছে সমস্তটাই। প্রসঙ্গত, পরিবেশবিদদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিলেন, অবৈধ বালি খননের ফলে নদীভাঙন বাড়ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নদীতীরবর্তী জনপদ। সোমবারের অভিযান সে প্রেক্ষিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনো ঝাড়গ্রামে তল্লাশি, চলছে নথি বিশ্লেষণ, আরো কোনো বড়ো চক্র এর সাথে যুক্ত কি না সন্ধানে মরিয়া ইডি।
❤ Support Us







