Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ১৫, ২০২৬

রাম মন্দিরের সিইও পদে হুড়োহুড়ি, ২৪ ঘণ্টায় জমা হাজারের বেশি আবেদন! দৌড়ে অবসরপ্রাপ্ত আমলারাও

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
রাম মন্দিরের সিইও পদে হুড়োহুড়ি, ২৪ ঘণ্টায় জমা হাজারের বেশি আবেদন! দৌড়ে অবসরপ্রাপ্ত আমলারাও

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের অনুদান তছরুপের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি স্তিমিত হয়নি। কিছুদিনের মধ্যে জমা পড়তে চলেছে বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) তদন্ত রিপোর্ট। তার মধ্যেই মন্দির পরিচালনার কাঠামোকে আরও পেশাদারদক্ষ ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে বড়ো পদক্ষেপ করল শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। মন্দিরের জন্য নতুন প্রধান নির্বাহী আধিকারিক (সিইও) নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন সাড়া। বিজ্ঞপ্তি জারির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এক হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। সূত্রের খবরআবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আমলাপ্রাক্তন প্রশাসনিক আধিকারিক এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকারি কর্মীরা। সে তালিকায় নাম রয়েছে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার, সমাজকর্মী অমিতাভ ঠাকুরেরও।

রামমন্দির এখন শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় কেন্দ্র নয়বরং প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ও বিপুল আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান। মন্দিরের দৈনন্দিন পরিচালনাআর্থিক ব্যবস্থাপনাজনসংযোগ এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাবেন নির্বাচিত ব্যক্তি। ফলে দেশের নানা প্রান্ত থেকে অভিজ্ঞ প্রশাসকদের আগ্রহ এই পদকে ঘিরে বাড়বেতা অনুমিতই ছিল। কিন্তু আবেদনপত্রের যে স্রোত দেখা গিয়েছেতা ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষকেও বিস্মিত করেছে।  বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই নির্বাচন কমিটির নির্ধারিত ই-মেল ঠিকানায় কার্যত আবেদনের ঢল নামে। ট্রাস্টের এক আধিকারিক জানিয়েছেনপ্রথম দিনেই প্রায় ৭৫০টি আবেদন জমা পড়েছিল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সে সংখ্যা হাজার অতিক্রম করে। এখনো আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। ফলেআগামী ১৮ জুলাই আবেদনের শেষ সময়সীমা পর্যন্ত সংখ্যা কয়েক হাজার ছুঁয়ে ফেলতে পারে।

আবেদনের বিপুল সংখ্যা নির্বাচন কমিটির কাজও অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। সে কারণেই আবেদনপত্রগুলি প্রাথমিকভাবে বাছাইনথিপত্র যাচাই এবং নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে শ্রেণিবিন্যাস করার জন্য একজন সচিব নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাস্টের এক সদস্য জানিয়েছেন, এত কম সময়ে যে পরিমাণ আবেদন এসেছেতাতে আবেদনপত্রগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরীক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত প্রশাসনিক সহায়তা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের নির্বাচন কমিটি গঠন করেছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী এবং পরমাণু বিজ্ঞানী তথা শিরডির শ্রী সাইবাবা সংস্থান ট্রাস্ট’-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুরেশ হাওয়ারে। আগামী ১৯ জুলাই কমিটির বৈঠকে আবেদনপত্র খতিয়ে দেখার কাজ আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হবে। সে বৈঠকেই সাক্ষাৎকারের পদ্ধতিসময়সূচি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

ইতিমধ্যেই আবেদনকারীদের মধ্যে অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের প্রাক্তন আইপিএস অফিসার অমিতাভ ঠাকুর। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যেট্রাস্ট নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ডে নিজেকে উপযুক্ত মনে করেই তিনি আবেদন জমা দিয়েছেন। যদিও অতীতে বিভিন্ন বিতর্কে তাঁর নাম জড়িয়েছে। গত বছর দেওরিয়া জেলার একটি শিল্প প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত প্রতারণার মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করেছিল লখনউ পুলিশ। ফলে তাঁর আবেদনকে ঘিরে কৌতূহলও কম নয়। সিইও পদের জন্য ট্রাস্ট যে যোগ্যতার শর্ত নির্ধারণ করেছেতা যথেষ্ট কঠোর। আবেদনকারীর বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে। অন্তত ২০ বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। বৃহৎ জনসংস্থাসরকারি দফতরপ্রতিষ্ঠান বা ট্রাস্ট পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ট্রাস্টের মতেএমন ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে যাঁদের সাধারণ প্রশাসনআর্থিক ব্যবস্থাপনাজনসংযোগ এবং আইন সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এ ছাড়াও নির্বাচিত ব্যক্তিকে স্থায়ীভাবে অযোধ্যায় বসবাস করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় এবং বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট শর্ত আরোপ করেছে ট্রাস্ট। আবেদনকারীকে একজন অনুশীলনকারী হিন্দু’ হতে হবে এবং ভগবান শ্রী রামের প্রতি গভীর ভক্তি ও আস্থা থাকতে হবে। একই সঙ্গে হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষায় সাবলীল দক্ষতাও আবশ্যিক করা হয়েছে। নির্বাচন কমিটির সূত্রে খবরইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বহু অবসরপ্রাপ্ত আইএএসআইপিএসপ্রতিরক্ষা আধিকারিক এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেরই বৃহৎ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানতীর্থস্থানট্রাস্ট কিংবা জনসমাগমপূর্ণ সরকারি সংস্থা পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে প্রতিযোগিতা যে অত্যন্ত কঠিন হতে চলেছেসে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রাথমিক যাচাইপর্ব শেষ হওয়ার পর যোগ্য ও উপযুক্ত প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অথবা একান্ত আলোচনার জন্য ডাকা হবে। প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা ও পদমর্যাদার কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনে অনলাইন সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ১৯ জুলাইয়ের বৈঠকে।

এদিকে, আগামী ২২ জুলাই শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই নির্বাচন কমিটি নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট ট্রাস্টের হাতে তুলে দিতে পারে। সূত্রের খবরশেষ পর্যন্ত সমস্ত আবেদন খতিয়ে দেখে তিন জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হবে। সে তালিকাই ট্রাস্টের কাছে সুপারিশ হিসেবে পাঠাবে নির্বাচন কমিটি। পরে ওই তিন জনের মধ্য থেকেই বেছে নেওয়া হবে রামমন্দিরের নতুন সিইও। নির্বাচন কমিটির সদস্যদের বক্তব্যকোনো আবেদনকারীকেই কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না। প্রত্যেকের আবেদন নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!