- এই মুহূর্তে বি। দে । শ
- অক্টোবর ১৫, ২০২৫
খাইবারে রণ ! পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
পাক-আফগান সীমান্তে ফের বেজে উঠল কামানের গর্জন। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের খুররম জেলায় মঙ্গলবার গভীর রাতে নতুন করে শুরু হয় তীব্র গুলিবিনিময়। সীমান্তের এ প্রান্তে পাকিস্তানি সেনা, ওপ্রান্তে আফগান তালেবান— রাতভর চলেছে সংঘর্ষ, বিস্ফোরণ আর পাল্টা আঘাত। পাকিস্তানের সরকারি গণমাধ্যমের দাবি, আফগান বাহিনী ‘উস্কানি ছাড়াই’ গুলি চালায়। জবাবে পাকিস্তানও নেমে পড়ে পাল্টা অভিযানে। তাতে আফগান সেনার ট্যাঙ্ক ও অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ইসলামাবাদের তরফে দাবি করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশের এক পুলিশ আধিকারিক সংঘর্ষের কথা স্বীকার করেছেন, কিন্তু কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে মুখ খোলেননি। পাকিস্তানের সেনা সূত্রে খবর, এ অভিযানে ফিতনা আল-খারিজ নামে এক জঙ্গি গোষ্ঠীর শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে দ্বিতীয় সংঘর্ষ। পাকিস্তানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, আফগান বাহিনী ও পাকিস্তানি তালেবান জঙ্গিরা একসঙ্গে সীমান্ত পোস্টে হামলা চালায়। তার পরেই পাকিস্তানি বাহিনী জবাবি অভিযানে নামে এবং খুররম জেলায় একটি বড়ো জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস করে দেয়। যদিও আফগান বা পাকিস্তান সেনার তরফে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, কিন্তু খবর আসছে গত শনিবার থেকেই সীমান্ত জুড়ে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। সংঘর্ষে দুই দেশেই বহু হতাহতের খবর। পরে কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় রাতের দিকে তালেবানরা সামরিক অভিযান স্থগিত করে।
এদিকে, দুই পক্ষই একে অপরের দাবি উড়িয়ে দিচ্ছে। কাবুল জানিয়েছে, পাকিস্তানের পুনঃপুন সীমান্ত লঙ্ঘনের জবাবে তারা ৫৮ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে। অন্যদিকে, ইসলামাবাদ বলছে, তাদের ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম, বরং তালেবান-সংযুক্ত জঙ্গিরাই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা দাবি করেছে, তাদের লক্ষ্য একটাই, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করা। কিন্তু পাকিস্তানের অভিযোগ, কাবুল সরকার টিটিপি-কে আশ্রয় দিচ্ছে। আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া— ‘আমাদের মাটি অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না।’
দুই প্রতিবেশীর এই রক্তক্ষয়ী সম্পর্কের শিকড় অনেক পুরনো। প্রায় ১,৬০০ মাইল দীর্ঘ দুর্গম ‘দুরান্ড লাইন’ বরাবর গড়ে উঠেছে সন্দেহ, সংঘাত আর সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এক সময় আফগান তালেবানের পৃষ্ঠপোষক ছিল পাকিস্তানই। গত দশকের গোড়ার দিকে কাবুলে নিজেদের অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে মশগুল ছিল ইসলামাবাদ। এখন পুরনো বন্ধুই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড়ো শত্রু। পাকিস্তান বলছে, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করার পর থেকেই পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার হার বেড়ে গিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ঘাঁটি, সীমান্ত পোস্ট, কিছুই আর নিরাপদ নয়। সে উত্তেজনার জেরেই সীমান্তের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। তালেবানদের মত অবশ্য ভিন্ন। সত্যি-মিথ্যা যাই হোক দুই দেশের একে অপরের উপর ধারাবাহিক উত্তেজনায় দক্ষিণ এশিয়ার বাতাসে নতুন করে যুদ্ধের গন্ধ ভাসছে।
উল্লেখ্য, এই জটিল সমীকরণে নতুন রঙ চড়িয়েছে ভারত। পাকিস্তান মনে করছে, আফগানিস্তানে ক্রমে প্রভাব বাড়াচ্ছে দিল্লি। সম্প্রতি তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর ও নয়াদিল্লির কাবুলে দূতাবাস পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদের অস্বস্তি আরো বাড়িয়েছে। একদিকে পূর্ব সীমান্তে ভারত, অন্যদিকে পশ্চিম সীমান্তে আফগানিস্তান, দু-দিকেই এখন চাপের মুখে পাকিস্তান। কূটনৈতিক মহলের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার জলন্ত আগুন শুধু সীমান্তে নয়, গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
❤ Support Us








