Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • অক্টোবর ৮, ২০২৫

প্যারাগ্লাইডারে বোমা! মায়ানমারে ধর্মীয় উৎসবে নিহত অন্তত ৪০, চলছে উদ্ধারকাজ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
প্যারাগ্লাইডারে বোমা! মায়ানমারে ধর্মীয় উৎসবে নিহত অন্তত ৪০, চলছে উদ্ধারকাজ

শান্তিপূর্ণ উৎসবের মধ্যেই নেমে এল মৃত্যু। পবিত্র বৌদ্ধ উৎসব থাদিংজুৎ-এর দিনে, মায়ানমারে শতাধিক মানুষ মোম জ্বেলে প্রার্থনায় অংশ নিচ্ছিলেন, তখনই আকাশপথে এল এক প্যারাগ্লাইডার। পর মুহূর্তেই বিস্ফোরণ। চার দিক লণ্ডভণ্ড। মুহূর্তে লাশের স্তূপ। ঘটনাস্থলে নিহত অন্তত ৪০। ঘটনাটি ঘটেছে মায়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের চাউং ইউ টাউনশিপে, সোমবার সন্ধ্যায়। উঠে এসেছে একের পর এক বিভীষিকাময় চিত্র। প্রত্যক্ষদর্শীদের বলছেন, বিস্ফোরণের পর বহু দেহ এমনভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল যে শনাক্ত করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ওইদিন বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ মোমবাতি প্রজ্বলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছিল। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি ছিল সে সমাবেশের মূল সুর। কিন্তু উৎসব রক্ষা করতে পারেনি মৃত্যু-দূতদের থাবা থেকে। দেশটির সরকার-বিরোধী গোষ্ঠী ‘পিপলস ডিফেন্স ফোর্স’-এর এক আধিকারিক বিবিসিকে জানান, তাঁদের কাছে আগেভাগেই একটি বিমান হামলার সতর্কবার্তা আসে। তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব সমাবেশ স্থল ছাড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সময় পায়নি কেউই। ওই আধিকারিক বলেন, ‘ওরা ঠিক ৭ মিনিটের মধ্যে এসে বোমা ফেলে দেয়। প্রথম বিস্ফোরণে মাটিতে পড়ে যাই। বোমা আমার হাঁটুর নিচে আঘাত করে।’

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার জেরে মায়ানমার সেনাবাহিনীর কাছে যুদ্ধবিমানের জোগান কমে গিয়েছে। ফলে তারা এখন ঝুঁকছে ছোটো ও হালকা আকাশযানের দিকে। চিন ও রাশিয়া থেকে পাওয়া প্রযুক্তিতে তৈরি মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার ব্যবহার করেই হামলা চালানো হয়েছে বলে আশঙ্কা। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্যারাগ্লাইডার থেকে বোমা ফেলা যুদ্ধকৌশলে এক ‘উদ্বেগজনক নতুন অধ্যায়’। সংস্থাটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সংগঠন আসিয়ান-এর কাছে আরো কড়া অবস্থান নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মায়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ৫,০০০-র বেশি সাধারণ মানুষ। লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন। ২০২৩ সালের শেষ প্রান্তে মায়ানমারের তিনটি প্রধান বিদ্রোহী গোষ্ঠী একত্রিত হয়ে তৈরি করে ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়ান্স’। এই নতুন জোট সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান শুরু করে, যার ফলে দেশে আরো জোরালো হয় সশস্ত্র প্রতিরোধ। যদিও জোটের অন্যতম সদস্য মায়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়ান্স আর্মি পরে সরকারের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছায়, তবে তাদের শরিক চিন ন্যাশনাল আর্মি ও চায়নাল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্স এখনো সক্রিয়ভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও, কাচিন লিবারেশন ডিফেন্স ফোর্স এবং অং সান সু চি-র সমর্থনে গঠিত স্বঘোষিত ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’-এর সশস্ত্র বাহিনী ‘পিপল্‌স ডিফেন্স ফোর্স’ জান্তা-বিরোধী প্রতিরোধের অন্যতম চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছে।

আগামী ডিসেম্বরে দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, সে নির্বাচন হবে একতরফা, সামরিক সরকারের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার হাতিয়ার। এমন এক পরিস্থিতিতে, ধর্মীয় উৎসবের দিনে নির্বিচার বোমাবর্ষণ শুধু শাসকদের নিষ্ঠুর মুখই নয়, এক প্রবল রাজনৈতিক বার্তাও দিয়ে গেল। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাগাইং অঞ্চলটি মূল সংঘর্ষস্থলগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। ওই অঞ্চলের বড়ো অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে সশস্ত্র প্রতিরোধ বাহিনী ‘পিপলস ডিফেন্স ফোর্স’। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনী ব্যাপক বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের মাধ্যমে কিছু এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!