Advertisement
  • প্রচ্ছদ রচনা
  • মে ১৭, ২০২২

আরও দশ দিনের রিমান্ডে বাংলাদেশের ব্যাঙ্ক জালিয়াত পি কে হালদার।অচিরে তাঁকে ঢাকায় ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ।

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আরও দশ দিনের রিমান্ডে বাংলাদেশের ব্যাঙ্ক জালিয়াত পি কে হালদার।অচিরে তাঁকে ঢাকায় ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ।

বাংলাদেশের প্রশান্ত কুমার হালদার (পি কে হালদার নামে পরিচিত) সহ ৫ ‘ব্যাঙ্ক জালিয়াত’-কে ১০ দিন জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত ।শনিবার প্রশান্ত কুমার ও তার স্ত্রীসহ ৬ জনকে পশ্চিমবঙ্গর অশোকনগর থেকে গ্রেপ্তার করে ইডির গোয়েন্দা বাহিনী।বাংলাদেশ সরকারের তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার পি কে হালদারসহ পাঁচ জনকে আদালতে হাজির করে ইডি রিমান্ডের আবেদন জানায় । মামলার শুনানির পর, বিচারক রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করেন।পিকে হালদারের স্ত্রীকে ১০ দিনের জন্য জুডিশিয়াল কাস্টডিতে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তাঁকে ইডির গোয়ান্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন । ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যাবর্তন চুক্তি অনুযায়ী আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা । টাকা পাচার মামলার আসামি পি কে হালদার কী ভাবে ফেরত পাঠানো হবে তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা চলছে । বাংলাদেশ থেকে পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করার অভিযোগ রয়েছে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে । আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অরিজিৎ চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেছেন, অর্থ পাচারের মামলায় এদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই রিমান্ডে রাখা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার একটি ব্যাংক ও আর একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন পি কে হালদার। অভিযোগ, প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন । তাঁর ‘কীর্তি’ প্রশাসনের কি অজানা ছিল ? বাংলাদেশের দুর্নিতী দমন কমিশন পি কে হালদার এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি মামলা করেছে । এসব মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় পি কে হালদারের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত খবরাখবর ।

বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্তারা বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যার্পণ চুক্তির মাধ্যমে পি কে হালদারকে দেশে ফেরত এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। তবে বিষয়টি জটিল বলে সময় লাগতে পারে ।বাংলাদেশের প্রধান অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন রবিবার বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন এবং ফিনান্সিয়্যাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিকে হালদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর সম্পদ আপাতত বাজেয়াপ্ত । প্রশাসন সতর্ক। যথা শ্রীঘ্রই তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আদালতে তোলা হবে।

হালদারের বিরুদ্ধে নানারকম দুর্নিতীর অভিযোগ রয়েছে । বেআইনি ভাবে পাসপোর্ট ও ভারতীয় ভোটার কার্ড তৈরি করিয়েছেন । এসব দললি দেখিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বারতে বসবাস করছেন ।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, ‘ ভারতে তিনি কি করেছেন, তা ওখানকার খতিয়ে দেখবে । আমাদের দেশে তাঁর বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোর বিচারের জন্য আমরাও তাঁকে ফেরত চাইব। ‘

বিবিসি জানিয়েছে, পি কে হালদারের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া খুব সহজসাধ্য ব্যাপার নয়। তিনি গুরুতর অপরাধী । ভারতের আইন ভেঙ্গেছেন। বেআইনিভাবে নাগরিকত্ব নিয়েছেন। ভারত সরকার যদি তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে সে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত, তাঁকে অচিরে ঢাকায় ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা কম । ‘


❤ Support Us
error: Content is protected !!