Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

‘দেশ যখন উন্নতি করছে, কিছু মানুষ মিথ্যে ছড়াচ্ছে’ : রাহুলকে নিশানা মোদির, পাল্টা আক্রমণে কংগ্রেস

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
‘দেশ যখন উন্নতি করছে, কিছু মানুষ মিথ্যে ছড়াচ্ছে’ : রাহুলকে নিশানা মোদির, পাল্টা আক্রমণে কংগ্রেস

দেশের অর্থনীতি নিয়ে বিরোধীদের লাগাতার আক্রমণের আবহেই এ বার সোশ্যাল মিডিয়ায় তীক্ষ্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে ভারতীয় অর্থনীতির শক্তিশালী বৃদ্ধির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে রাহুল গান্ধীর কর্মসূচিকে ‘ঝুট কি গুঞ্জ’  অর্থাৎ ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনি’ বলে আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। কংগ্রেসের তরফে পাল্টা অভিযোগ, পরিসংখ্যানের কারসাজিতে মানুষকে বিভ্রান্ত করে মূল্যবৃদ্ধির হাই-ভোল্টেজ ধাক্কা দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার।

সোমবার প্রকাশিত দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি-র রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে ৭.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এপ্রিল থেকে জুন— এই তিন মাসে দেশের অর্থনীতি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে জানুয়ারি থেকে মার্চ ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.৬ শতাংশ। ফলে ত্রৈমাসিক হিসাবে বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে ভারতের অর্থনীতির বৃদ্ধির হার এখনো শক্তিশালী বলেই উঠে এসেছে। এই পরিসংখ্যানকেই সামনে রেখে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হার। এটা শক্তিশালী সংখ্যা। আত্মবিশ্বাস আরও বাড়ল।’ অর্থনীতির এই বৃদ্ধিকে তিনি দেশের অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেন।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ইরান যুদ্ধের প্রভাবের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গোটা বিশ্বই বর্তমানে যুদ্ধের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত। নানা ধরনের সঙ্কটে বিপর্যস্ত পৃথিবী। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক স্তরে সাপ্লাই চেন কার্যত ভেঙে পড়েছে। কোভিড অতিমারির পরেও বিশ্ব অর্থনীতিতে পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফেরেনি। প্রতিকূল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে চলেছে বলে দাবি করেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সঙ্কট এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ভারত দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে চলেছে।

অর্থনীতির এই বৃদ্ধির পরিসংখ্যানকে সামনে রেখে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দেওয়ার পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বৃদ্ধির উপর আস্থার কথাও তুলে ধরেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করে বিরোধীদের অর্থনীতি-সংক্রান্ত অভিযোগের পাল্টা বয়ান তৈরি করতেই এ বার্তা মোদির।
তবে অর্থনীতিবিদদের মোতে, খোলা চোখে দেখলে গত জানুয়ারি থেকে মার্চ এই ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.৬ শতাংশ। সেদিক থেকে দেখতে গেলে এপ্রিল থেকে জুন এই ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার গত ত্রৈমাসিকের তুলনায় কমেছে। তবে এপ্রিল থেকে জুন এই ত্রৈমাসিকের বৃদ্ধিকে মোদি দেশের অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলে উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বার্তা সামনে আসতেই বিরোধিতায় সরব হয়েছে হাত শিবির। পরিসংখ্যানের কারসাজিতে মানুষকে বিভ্রান্ত করে মূল্যবৃদ্ধির হাই-ভোল্টেজ ধাক্কা দিচ্ছে সরকার, অভিযোগ তুলছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘ভুয়ো শিরোনাম তৈরি করতেই ব্যস্ত’ এবং সাধারণ মানুষের মাথা গোঁজার জন্য একটি বাড়ি তৈরির স্বপ্নও সরকার কার্যত কেড়ে নিয়েছে। রমেশ আরও বলেছেন, ‘মোদি সরকার প্রতি সপ্তাহেই দেশের মানুষের উপর মূল্যবৃদ্ধির নতুন ধাক্কা চাপিয়ে দিচ্ছে।’ তাঁর দাবি, মূল্যবৃদ্ধি এখন আর শুধু রান্নাঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বাড়ি তৈরি থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক সামগ্রী—জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষ বাড়তি খরচের ‘বৈদ্যুতিক শক’ অনুভব করছেন।

রমেশের দাবি, তামার তারের দাম প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১,৭০০ টাকা হয়েছে। একইভাবে অ্যালুমিনিয়ামের দাম প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫০ টাকা হয়েছে। ফলে ১,০০০ বর্গফুটের একটি বাড়িতে বৈদ্যুতিক তার বসানোর খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৫০ হাজার টাকা থেকে প্রায় ১ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে বলে তিনি জানান। তাঁর আরও দাবি, সোলার প্যানেলের দাম ১০-১৫ শতাংশ বেড়েছে। পাখা ও ফলস সিলিংয়ের খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈদ্যুতিক গৃহস্থালি সামগ্রীর ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি বলে অভিযোগ করেন রমেশ। তাঁর অভিযোগ, ইলেকট্রিক ইস্ত্রির মতো গৃহস্থালি সরঞ্জামের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এলইডি এবং হ্যালোজেন আলোর দামও প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের মতো কাঁচামালের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের বাজেটেও তার প্রভাব পড়েছে।

রমেশ বলেছেন, বাড়ি তৈরির সঙ্গে যুক্ত প্রায় প্রতিটি খরচই বাড়ছে। সুইচ, সকেট, মেইন-লাইন কেবল, টাইলস, বৈদ্যুতিক তার থেকে শুরু করে শ্রমিকের মজুরি— সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধি সব দিক থেকে সাধারণ মানুষের পকেটে জোরালো ধাক্কা দিচ্ছে। অথচ অহংকারী মোদি সরকার এই বাস্তবতাকে আড়াল করে পরিসংখ্যানের কারসাজির মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই ব্যস্ত। এর আগে, সোমবার ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল কংগ্রেস। দলের দাবি ছিল, এ পরিসংখ্যানকে কোনোভাবেই ‘অর্থনৈতিক বসন্ত’ বলা যায় না। বরং ভারতের অর্থনীতির প্রকৃত চিত্র এই পরিসংখ্যান তুলে ধরছে না, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে ‘হতাশাজনক’ পরিস্থিতি রয়েছে, সেটিও জিডিপি-র এই পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী মোদিকে পাল্টা আক্রমণ করে জয়রাম রমেশ বলেছিলেন, জিডিপি বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উচ্ছ্বাস আসলে ‘অকাল উদযাপন’। তাঁর দাবি, দেশে ভোক্তা আস্থা এখনও দুর্বল, পরিবারের সঞ্চয়ের হার কমেছে এবং মানুষের ঋণের বোঝা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। কংগ্রেসের বক্তব্য, শুধু জিডিপি বৃদ্ধির হার দিয়ে দেশের অর্থনীতির সম্পূর্ণ চিত্র বোঝা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যবৃদ্ধি, পরিবারের সঞ্চয়, ঋণের চাপ এবং বিনিয়োগের পরিস্থিতিকেও অর্থনীতির প্রকৃত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিবেচনা করতে হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!