Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • জানুয়ারি ২৩, ২০২৫

ফ্রেব্রুয়ারিতে প্যারিসে মোদি-ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা, উঠতে পারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ফ্রেব্রুয়ারিতে প্যারিসে মোদি-ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা, উঠতে পারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ

দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ২০ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতা গ্রহণের পরেই একাধিক নয়া নীতি গ্রহণ করেছে ট্রাম্প। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। আমেরিকার নতুন পররাষ্ট্রসচিব মার্কো রুবিও এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জয়শঙ্কর। সেই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়। তবে সে বিষয়ে মুখ খোলেননি কেউ।

জল্পনা চলছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক কবে হচ্ছে ? রয়টার্স সূত্রে খবর, আগামী ফেব্রুয়ারিতে দুই নেতার মধ্যে বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছেন উভয় দেশের কূটনীতিকেরা। বৈঠকে প্রতিবেশি বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে হতে পারে আলোচনা। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনে প্রাথমিক আলোচনা সেরে এসেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সূত্রের খবর, প্যারিসে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা আছে। তবে ট্রাম্প যদি প্যারিসের এই সম্মেলনে অংশ না নেন তাহলে ফেব্রুয়ারিতেই যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তবে কোনো তারিখই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত করা হয়নি।

একদিকে যেমন ভারত উপমহাদেশে চিনকে কোণঠাসা করতে চাইছে ওয়াশিংটন। চিনকে ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদার ভারত। ইতিমধ্যে সমুদ্রে নিজেদের অধিপত্ত বজায় রাখতে নতুন কোয়াডের গঠন করা হয়েছে। ভারতে চলতি বছরের শেষে কোয়াডের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হব। ভারত ছাড়াও, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। এই শীর্ষ সম্মেলন চলাকালে মোদি-ট্রাম্পের মধ্যে আবারো দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে বলে সম্ভাবনা। অন্যদিকে বাংলাদেশে ৫ আগষ্টে হাসিনা সরকারের পতন ও ড. ইউনূসের অন্তবর্তী সরকারের নানান নীতি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। সীমান্ত সমস্যা, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, অপরাধমূলক কাজ বেড়ে গেছে। বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকার মুক্তি দিয়েছে জঙ্গি সন্দেহে জেলা থাকা বহু অপরাধীদের, জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ভারতে নাশকতার ছক কষতে পারে তাঁরা । এমত অবস্থায় দু দেশের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন ও নির্বাচন করাতে চাইছে ভারত। নির্বাচনে যাতে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারে তা সুনিশ্চিত করবার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশত্যাগ করে হাসিনা এই মুহূর্তে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে জারি হয়েছিল গ্রেপ্তারী পরোয়ানা। নির্বাচনের আবহে দেশে ফিরলে যাতে হাসিনার উপর দমনপীড়ন বা হিংসা যাতে না হয় তা সুনিশ্চিত করতে চাইছে বিদেশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

মোদি ও ট্রাম্পের ঘনিষ্ট সম্পর্ক সর্বজনবিদিত। মার্কিন মুলুকে নির্বাচনের সময় মোদিকে ট্রাম্পের পক্ষে কথা বলতে শোনা গেছিল। নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের মুখে বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ শোনা গেছিল। হাসিনা সরকারের পতনের পিছনে পাকিস্তানের হাত রয়েছে বলে মনে করছে নয়া দিল্লি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মহম্মদ ইউনূসের সাথে পাকিস্তান সরকারের ঘনিষ্টতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি চিনের উন্ধন রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী মাসে বেজিং যেতে পারেন মহম্মদ ইউনুস । বাংলাদেশকে বিপুল আর্থিক সহায়তা দিয়ে চিন নির্ভরতা আরও বাড়িয়ে নিচ্ছে বেজিং। অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতি করতে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী মহম্মদ ইশাক বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে পাক-চিনের ঘনিষ্টতা সুনজরে দেখছে না মোদি সরকার। ভারতীয় উপমহাদেশে চিনের বাড়বাড়ন্ত আমেরিকার জন্যও সুখকর নয়। তাই বাংলাদেশের সুষ্ঠ নির্বাচন করিয়ে ‘বন্ধু’ আওয়ামি লীগকে ক্ষমতায় ফেরানোর চেষ্টা করতে পারে ভারত। ট্রাম্পের সাথে আলোচনায় সুনিশ্চিত করা হতে পারে। এছাড়াও অ্যামেরিকায় ভারতীয়দের অধিবাসন সমস্যা, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা খাতে অংশীদারত্ব বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!