Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • জুলাই ৩, ২০২৫

মোদিকে ঘানার সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মান। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ‘নতুন যুগ’, ৪ চুক্তি স্বাক্ষরিত

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
মোদিকে ঘানার সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মান। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ‘নতুন যুগ’, ৪ চুক্তি স্বাক্ষরিত

এই মুহূর্তে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ, ঘানা সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৩ দশকেরও বেশি সময় পরে প্রথমবার ঘানায় পা রাখলেন কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। আর সে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘দ্য অফিসার অফ দ্য অর্ডার অফ দ্য স্টার অফ ঘানা’ সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছে নরেন্দ্র মোদিকে। দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি ও সুসম্পর্ক মজবুত করতে তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ঘানা সরকার। আগেই বিভিন্ন দেশ থেকে সম্মান পেয়েছেন, এবার এ সম্মানে ভূষিত হয়ে গর্ববোধ হচ্ছে, জানিয়েছেন মোদি। তিনি বলেছেন, ‘এর ফলে দু-দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামিতে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমার কাঁধে আরো দায়িত্ব চাপলো।’ এই সম্মান দেশের জনগণ ও দু-দেশের মধ্যে থাকা ঐতিহাসিক ও গভীর সম্পর্কের প্রতি উৎসর্গ করেছেন তিনি। পাশাপাশি ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মাহামার সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করছেন মোদি, যেখানে দু-দেশের মধ্যে ৪ টি গুরুত্বপূর্ণ ‘মৌ চুক্তি’ সাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির উদ্দেশ্য ভারত ও ঘানার মধ্যে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, বানিজ্যগত, শিক্ষাগত ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব আরো উৎসাহিত করা।

ঘানার প্রেসিডেন্ট জন মহামার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে শুধু সম্পর্ককে-এর উন্নতি নয়, জোর দেওয়া হয়েছে প্রথাগত চিকিৎসা, সংস্কৃতি, মান নির্ধারণ এবং যৌথ কমিশনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর। আলোচনায় উঠে এসেছে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, কৃষি, খনিজ সম্পদ আর ডিজিটাল পেমেন্টের মতো আধুনিক যুগের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলির বিষয়ও। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, ভারত এবং ঘানার একসঙ্গে কাজ করার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জ্বালানির মতো ক্ষেত্রে আমাদের যৌথ উদ্যোগে নানা প্রকল্প শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল প্রতীকী নয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও দু-দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই হয়েছে বলে দাবি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব দম্মু রবি জানান, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৪টি সমঝোতা স্মারকের মধ্যে একটি চুক্তি রয়েছে সংস্কৃতি বিনিময় কর্মসূচি সংক্রান্ত, যাতে দু-দেশের শিল্প, সংগীত, নৃত্য, সাহিত্য এবং ঐতিহ্যের বিনিময় ও প্রচারে আরও উৎসাহ জোগানো হবে। দ্বিতীয় চুক্তিটি হয়েছে ভারতের মান নির্ধারণ সংস্থা এবং ঘানা স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটির মধ্যে, যার মাধ্যমে মান নির্ধারণ, শংসাপত্র প্রদান এবং মানসম্মত পণ্যের প্রচারে যুগ্মভাবে কাজ করবে দুই দেশ। তৃতীয় চুক্তিটি প্রথাগত চিকিৎসার ক্ষেত্র নিয়ে—ঘানার ইনস্টিটিউট অফ ট্র্যাডিশনাল অ্যান্ড অল্টারনেটিভ মেডিসিন এবং ভারতের ইনস্টিটিউট অফ টিচিং অ্যান্ড রিসার্চ ইন আয়ুর্বেদার মধ্যে এ সমঝোতা হয়েছে। চতুর্থ চুক্তির বিষয় হলো যৌথ কমিশন গঠন, যার মাধ্যমে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদির কথায়, ‘ভারত ফিনটেকের দুনিয়ায় যে বিপ্লব ঘটিয়েছে, তা ঘানার সঙ্গে ভাগ করে নিতে প্রস্তুত। ঘানায় ইউপিআই প্রযুক্তি চালু করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সে দেশের রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা এবং সন্ত্রাস মোকাবিলায় ভারত-ঘানা ঐক্যমতের কথা জানিয়েছেন। সন্ত্রাস মানবতার শত্রু। ঘানার সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টায় একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্তও হয়েছে।’ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়েও আশাবাদী দুই দেশ। প্রধানমন্ত্রী জানান, ঘানায় ভারতীয় সংস্থাগুলির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ইতিমধ্যেই ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। প্রায় ৯০০টি প্রকল্পে কাজ করছে ভারতীয় সংস্থাগুলি। আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ঘানা শুধু পশ্চিম আফ্রিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি নয়, আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবেও কাজ করবে।

বৈঠকে ঘানার প্রেসিডেন্ট মহামা বলেছেন, ঘানাকে খাদ্য উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ভারতের সহযোগিতা চান। কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রশিক্ষণ আর বিনিয়োগে ভারত যে পাশে থাকবে, সে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। একইসঙ্গে ঘানাকে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ভারতীয় ফার্মা সংস্থাগুলির অংশগ্রহণকে স্বাগত জানানো হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মহামা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের সঙ্গে কিছু কাজ শুরুও হয়েছে। সে পরিকাঠামো আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২ জুলাই থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ঘানা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল এবং নামিবিয়া— ৫টি দেশের রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন। এই সফর তাঁর এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদির সবচেয়ে দীর্ঘ বিদেশ সফর । সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মোদী ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য ১৭তম ‘ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন’-এ অংশ নেবেন। সেখানে তিনি ‘ব্রিকস’ সদস্য দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি, কৌশলগত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন। সফরকালীন প্রতিটি দেশেই তিনি একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবে। মনে করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বকে আরো মজবুত করার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেবেন মোদি। ঘানায় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর আফ্রিকা মহাদেশে ভারতের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান আরো জোরদার করল, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কোনো সন্দেহ নেই। একই সঙ্গে আফ্রিকা ও গ্লোবাল সাউথের মধ্যে সম্পর্ক গভীর করার দিকেও এটি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন কূটনীতিক মহল। ঘানার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিম আফ্রিকান রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের এই ঘনিষ্ঠতা আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!