Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৫

সেপ্টেম্বরেই ফের রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি, সঙ্গে আসছেন রাজনাথ-দোভালও

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সেপ্টেম্বরেই ফের রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি, সঙ্গে আসছেন রাজনাথ-দোভালও

পূর্ব ভারতের প্রতিরক্ষা ঘাঁটি ফোর্ট উইলিয়ামে বসতে চলেছে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক-বেসামরিক কৌশলগত পরামর্শমঞ্চ — সম্মিলিত কমান্ডারদের সম্মেলন বা সিসিসি। আগামী ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ দিন ধরে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়ে চলবে রুদ্ধদ্বার আলোচনা। উপস্থিত থাকবেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান, প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং এবং তিন বাহিনীর সর্বোচ্চ পদস্থ কর্তারা। সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতা সফরে তাঁর সঙ্গী ‘সুপারস্পাই’ বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, এ সম্মেলনের কেন্দ্রীয় ভাবনা — ‘Year of Reforms : Transforming for the Future.’ অর্থাৎ, সংস্কারের বছর — ভবিষ্যতের জন্য রূপান্তর।
এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে আরো আধুনিক, অভিযোজিত এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা। আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতা, প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধক্ষেত্র এবং জিও-স্ট্র্যাটেজিক চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় বাহিনীর প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা কেমন হওয়া উচিত, সে সংক্রান্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে তিন বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব ও সরকারি নীতিনির্ধারকরা আলোচনা করবেন বলে জানা যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, সম্মেলনের আলোচনায় স্থান পাবে বাহিনীর মধ্যে আরও গভীর সমন্বয়, প্রযুক্তির আরো বিস্তৃত ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতির কৌশল। তবে এবারের সম্মেলনের আরেকটি বড়ো বৈশিষ্ট্য হলো এর ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট। অনেকেই মনে করছেন, কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামকে সম্মেলনের আয়োজক স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া মোটেই কাকতালীয় নয়। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সফল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতের সাফল্য এবং সেই প্রেক্ষিতে সামরিক পরিকল্পনার পুনর্বিন্যাসে ইস্টার্ন কমান্ডের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক সম্পর্ক, মায়ানমারের অস্থিরতা এবং চিন সীমান্তে গোপন উত্তেজনা — সমস্ত দিক বিবেচনা করেই পূর্বাঞ্চলীয় সেনা সদরকে সম্মেলনের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের অভিমত।

প্রধানমন্ত্রী মোদির বঙ্গ সফর শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি নয়। সেনা সূত্রের খবর, তিনি ফোর্ট উইলিয়ামে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন এবং প্রয়োজনে সেনার তিন শাখার প্রধানদের সঙ্গে আলাদাভাবে কৌশলগত পর্যালোচনাও করবেন। শুধু তাই নয়, এবারের সিসিসি-তে অন্তর্ভুক্ত থাকবে সেনার বিভিন্ন র‍্যাঙ্কের অফিসার এবং কর্মীদের সঙ্গে ইন্টার‍্যাক্টিভ সেশন। তাঁদের মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং চ্যালেঞ্জ এই সম্মেলনের আলোচনায় সরাসরি প্রতিফলিত হবে। এটিকে দেখা হচ্ছে একটি ‘বটম-আপ’ মডেল হিসেবে, যেখানে মাঠের অভিজ্ঞতা সরাসরি নীতিনির্ধারণের স্তরে স্থান পায়। পূর্ব ভারতের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাও সম্মেলনের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণ এবং সীমান্তঘেঁষা এলাকায় বারংবার অশান্তির ঘটনা ভারতের নিরাপত্তার পক্ষে উদ্বেগজনক। পাশাপাশি, নেপালে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। যদিও এসসিও সম্মেলনের পর চিনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরেছে বলে দাবি কেন্দ্র সরকারের, তবু উত্তর-পূর্ব সীমান্তে নজরদারি শিথিল হচ্ছে না কোনোভাবেই।

প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রেও দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে গত কয়েক বছরে। প্রধানমন্ত্রী মোদির মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগের ফলে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধ সরঞ্জাম উৎপাদন এবং রপ্তানি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় সেনা যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে বাহিনীর কাছে এখন আধুনিক এবং কার্যকর প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের অভাব নেই। ফলে, কলকাতায় অনুষ্ঠিতব্য সম্মিলিত কমান্ডারদের সম্মেলন শুধু বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, ভারতের সামগ্রিক কৌশলগত অবস্থানের দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এবার সম্মেলন দেখে প্রধানমন্ত্রী সেনার উদ্দেশে কী বার্তা দেন, আর সে বার্তা থেকে আগামী দিনের প্রতিরক্ষা কৌশল কোন পথে এগোয়, সেদিকেই নজর রাখছে গোটা দেশ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!