Advertisement
  • দে । শ
  • জানুয়ারি ৬, ২০২৫

কালনার প্রাচীন স্থাপত্য সংরক্ষণের প্রক্রিয়া শুরু

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কালনার প্রাচীন স্থাপত্য সংরক্ষণের প্রক্রিয়া শুরু

রাজার শহর কালনা। ইতিহাসের নগর কালনা। শহরেজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন পুরাতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। নিদর্শনের স্মারক হিসেবে বিভিন্ন মন্দিরের স্থাপত্য শিল্পকলার অপরূপ নিদর্শনগুলির বর্তমান হাল সরেজমিনে দেখে গেলেন কেন্দ্রীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের তিনজনের একটি প্রতিনিধিদল। সেগুলির ঐতিহ্য অটুট রাখতে দীর্ঘক্ষণ ধরে আলোচনা করলেন পুরসভার প্রতিনিধিদের সঙ্গে। পুরপ্রধান আনন্দ দত্ত বললেন, ‘মন্দির নগরী হিসেবে কালনার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। শীত পড়তেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার-হাজার পর্যটক উপস্থিত হন এই শহরে। তাই শহরের মন্দিরগুলির ঐতিহ্য অটুট রেখে সাজানোর কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সেই নির্দেশ মেনেই কেন্দ্র পুরাতত্ত্ব বিভাগ ও রাজ্যের পর্যটন দপ্তরের সঙ্গে ২০১১ সাল থেকেই দফায় দফায় আলোচনা চিঠিচাপাটি চলছে।’ আনন্দবাবুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, কালনা রাজবাড়ি, ১০৮ শিবমন্দির, রাজবাড়ি চত্বরে থাকা প্রতাপেশ্বর মন্দির, লালজি মন্দির, কৃষ্ণচন্দ্র মন্দির, গিরিগোবর্ধন মন্দির, রাসমঞ্চের মত পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলির স্থাপত্য রক্ষা ও আলোকমালায় সাজানো, রাস্তাঘাট ও নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কার-সহ একগুচ্ছ কর্মসূচি কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের কাছে পেশ করা হয়েছে। পর্যটকদের স্বার্থে রাজবাড়ির মূল গেটটি খুলে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন পুরপ্রধান। তিনি জানান, ‘কয়েকশো বছরের পুরোনো এই রাজবাড়ি। এখানে ১০৮ শিবমন্দিরের দিকে যেমন একটি ফটক আছে তেমনই চকবাজারের দিকেও গেট রয়েছে। কেন্দ্র পুরাতাত্ত্বিক বিভাগের এক আধিকারিক গেটে তালা দিয়ে চলে যাচ্ছেন।’

কালনা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বর্ধমান রাজপরিবারের তৈরী মন্দিরগুলির নির্মাণশৈলী, টেরাকোটার নিপুণ শিল্পকর্ম নজরকাড়া। বর্তমানে যা ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের অধীনে রয়েছে। তারাই দেখভাল করেন। কিন্তু হলে কী হবে, বর্তমানে মন্দিরগুলির দেওয়াল থেকে যেভাবে চুন-সুড়কি খসে পড়ছে, সেগুলি যেভাবে নষ্ট হতে বসেছে সেই ব্যাপারে বেশ আক্ষেপ রয়েছে শহরবাসী ও পর্যটকদের মনে। এগুলির রক্ষণাবেক্ষণে যতখানি যত্নশীল হওয়া উচিত ছিল, ততখানি না থাকার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। পুরাতত্ত্ব বিভাগের দাবি, রামেশ্বর, রূপেশ্বর, রত্নেশ্বর, জলেশ্বর, লালজি, কৃষ্ণচন্দ্রজির মন্দির সংস্কারের কাজ হয়েছে। আগামীদিনে রাসমঞ্চ-সহ অন্যান্য যা কিছু রয়েছে সেগুলিরও সংস্কার করা হবে। পর্যটক ও শহরবাসীর অভিযোগ, ডাকটিকিটে স্থান পাওয়া প্রাচীন লালজির মত ২৫ চূড়াবিশিষ্ট ঐতিহ্যমন্ডিত মন্দির চত্বরে বৃষ্টি হলেই জল জমে যায়। অতিবৃষ্টিতে হাঁটুসমান জল। নিকাশি ব্যবস্থা ভালো নয়। জল জমে যাওয়ার কারণে মন্দিরের দেওয়ালে নোনা ধরছে। নাটমন্ডপের গা থেকে চুনসুরকি খসে পড়ছে।১০৮ শিবমন্দিরের মন্দিরের দেওয়ালগুলি থেকেও পলেস্তারা খসে পড়ছে। এখানেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। এই নিয়ে এর আগে রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথও ক্ষোভ উগড়ে দেন। বাংলার আটচালা শিল্পের অন্যতম নিদর্শন এই মন্দিরটিকে উপর থেকে দেখলে পাপড়ি মেলা পদ্মের মত দেখায়। জগন্নাথতলা এলাকায় থাকা জোড়া শিবমন্দিরেরও একই অবস্থা। এখানেও অযত্নের ছবি ধরা পড়েছে। দুটি মন্দিরের গায়েই ফাটল দেখা দিয়েছে। টেরাকোটার কাজগুলিও নষ্ট হতে বসেছে। পুরপ্রধান বলেন, ‘টেন্ডার হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ায় ফের নতুন করে ই-টেন্ডার হবে।’


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!